| ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

২০১৫ সালের পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত ইনক্রিমেন্ট ছিল?

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ নভেম্বর ০৮ ১২:৩০:০৫
২০১৫ সালের পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত ইনক্রিমেন্ট ছিল?

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর প্রতিবছর মূল বেতন বাড়ার বিষয়টি কর্মচারীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ২০টি গ্রেডে আলাদা বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সব গ্রেডে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের সংখ্যা এক ছিল না। কোনো গ্রেডে মাত্র চারটি ইনক্রিমেন্ট ধাপ থাকলেও কোনো কোনো গ্রেডে ছিল ১৮টি পর্যন্ত ধাপ।

২০১৫ সালের বেতন স্কেলের গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্ট চার্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিটি গ্রেডের জন্য নির্দিষ্ট প্রারম্ভিক মূল বেতন এবং সর্বোচ্চ বেতনসীমা রাখা হয়েছিল। নিয়মিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে একজন কর্মচারীর মূল বেতন ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে ওই সীমায় পৌঁছানোর সুযোগ ছিল।

বিশেষ করে ৮ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ১৮টি করে ইনক্রিমেন্ট ধাপ রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে উচ্চতর কয়েকটি গ্রেডে তুলনামূলক কম ধাপে সর্বোচ্চ মূল বেতনে পৌঁছানোর ব্যবস্থা ছিল।

২০১৫ সালের পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কতটি ইনক্রিমেন্ট ছিল?

জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর চার্ট অনুযায়ী, গ্রেডভেদে ইনক্রিমেন্টের ধাপের সংখ্যা ছিল ভিন্ন।

গ্রেড| ইনক্রিমেন্টের ধাপ

১ম| ০

২য়| ৪

৩য়| ৭

৪র্থ| ৯

৫ম| ১১

৬ষ্ঠ| ১৩

৭ম| ১৬

৮ম| ১৮

৯ম| ১৮

১০ম| ১৮

১১তম| ১৮

১২তম| ১৮

১৩তম| ১৮

১৪তম| ১৮

১৫তম| ১৮

১৬তম| ১৮

১৭তম| ১৮

১৮তম| ১৮

১৯তম| ১৮

২০তম| ১৮

অর্থাৎ, ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোয় ৮ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১৮টি ইনক্রিমেন্ট ধাপ ছিল। অন্যদিকে ২য় গ্রেডে চারটি এবং ৭ম গ্রেডে ১৬টি ধাপ রাখা হয়েছিল।

১ম থেকে ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক ও সর্বোচ্চ মূল বেতন কত ছিল?

২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলে বিভিন্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ও সর্বোচ্চ মূল বেতনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল।

প্রকাশিত ইনক্রিমেন্ট চার্টে প্রদর্শিত তথ্য অনুযায়ী গ্রেডভিত্তিক বেতনের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

গ্রেড| প্রারম্ভিক মূল বেতন| সর্বোচ্চ মূল বেতন

১ম| ৭৮,০০০| ৭৮,০০০

২য়| ৬৬,০০০| ৭৬,৪৯০

৩য়| ৫৬,৫০০| ৭৪,৪০০

৪র্থ| ৫০,০০০| ৭১,২০০

৫ম| ৪৩,০০০| ৬৯,৮৫০

৬ষ্ঠ| ৩৫,৫০০| ৬৭,০১০

৭ম| ২৯,০০০| ৬৩,৪১০

৮ম| ২৩,০০০| ৫৫,৪৬০

৯ম| ২২,০০০| ৫৩,০৬০

১০ম| ১৬,০০০| ৩৮,৬৪০

১১তম| ১২,৫০০| ৩২,২৪০

১২তম| ১১,৩০০| ২৭,৩০০

১৩তম| ১১,০০০| ২৬,৫৯০

১৪তম| ১০,২০০| ২৪,৬৮০

১৫তম| ৯,৭০০| ২৩,৪৯০

১৬তম| ৯,৩০০| ২২,৪৯০

১৭তম| ৯,০০০| ২১,৮০০

১৮তম| ৮,৮০০| ২১,৩১০

১৯তম| ৮,৫০০| ২০,৫৭০

২০তম| ৮,২৫০| ২০,০১০

সব বেতনের পরিমাণ টাকা।

সবচেয়ে বেশি ইনক্রিমেন্টের সুযোগ ছিল কোন গ্রেডে?

চার্ট অনুযায়ী, ৮ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত প্রতিটিতে ১৮টি ইনক্রিমেন্ট ধাপ ছিল। অর্থাৎ এসব গ্রেডের কর্মচারীরা একই গ্রেডে নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে মূল বেতন বৃদ্ধির সুযোগ পেতেন।

অন্যদিকে ২য় গ্রেডে মাত্র চারটি ইনক্রিমেন্ট ধাপ ছিল। ৩য় গ্রেডে সাতটি, ৪র্থ গ্রেডে নয়টি এবং ৫ম গ্রেডে ১১টি ধাপ রাখা হয়েছিল।

তবে ইনক্রিমেন্টের সংখ্যা বেশি হলেই কোনো গ্রেডের কর্মচারীরা বেশি আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। কারণ প্রারম্ভিক বেতন, প্রতিটি ধাপে বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ এবং সর্বোচ্চ বেতনসীমা একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার টাকা থেকে বেতন বাড়ত কত?

২০১৫ সালের বেতন স্কেলে ১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার টাকা। এই গ্রেডে ১৮টি ইনক্রিমেন্ট ধাপ অতিক্রম করে সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারিত হয়েছিল ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা।

চার্ট অনুযায়ী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে বেতনের পরিমাণ ছিল—

ইনক্রিমেন্টের ধাপ| মূল বেতন

প্রারম্ভিক| ১৬,০০০

১ম| ১৬,৮০০

২য়| ১৭,৬৪০

৩য়| ১৮,৫৩০

৪র্থ| ১৯,৪৬০

৫ম| ২০,৪৪০

১০ম| ২৬,১২০

১৫তম| ৩৩,৩৭০

১৮তম| ৩৮,৬৪০

অর্থাৎ ১০ম গ্রেডে চাকরির শুরুতে মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থাকলেও নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে তা সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকায় পৌঁছানোর সুযোগ ছিল।

২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ বেতন কত হতো?

সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন গ্রেড হিসেবে পরিচিত ২০তম গ্রেডেও ১৮টি ইনক্রিমেন্ট ধাপ রাখা হয়েছিল।

এই গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে সর্বোচ্চ মূল বেতন পৌঁছাত ২০ হাজার ১০ টাকায়।

কয়েকটি ধাপের বেতন ছিল—

ইনক্রিমেন্টের ধাপ| মূল বেতন

প্রারম্ভিক| ৮,২৫০

১ম| ৮,৬৭০

২য়| ৯,১১০

৩য়| ৯,৫৭০

৪র্থ| ১০,০৫০

৫ম| ১০,৫৬০

১০ম| ১৩,৫১০

১৫তম| ১৭,২৭০

১৮তম| ২০,০১০

এ হিসাবে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর প্রারম্ভিক মূল বেতন থেকে সর্বোচ্চ মূল বেতনে পৌঁছাতে ১৮টি ইনক্রিমেন্ট ধাপের ব্যবস্থা ছিল।

ইনক্রিমেন্ট চার্টের হলুদ ঘর দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?

প্রকাশিত চার্টে প্রতিটি গ্রেডের সর্বশেষ বেতন ধাপ হলুদ রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন সহজে শনাক্ত করা যায়।

উদাহরণ হিসেবে, ২য় গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকা, ১০ম গ্রেডে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার ১০ টাকা দেখানো হয়েছে।

ফলে একজন কর্মচারী নিজের গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতনসীমা এবং ইনক্রিমেন্টের শেষ ধাপ সহজেই বুঝতে পারেন।

উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডে ইনক্রিমেন্টের পার্থক্য কেন ছিল?

২০১৫ সালের বেতন কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উচ্চতর গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন তুলনামূলক বেশি হলেও ইনক্রিমেন্টের ধাপের সংখ্যা কম ছিল। অন্যদিকে নিম্নতর গ্রেডে প্রারম্ভিক বেতন কম হলেও ১৮টি পর্যন্ত ইনক্রিমেন্ট ধাপ রাখা হয়েছিল।

এখানে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, প্রারম্ভিক বেতন: উচ্চতর গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি মূল বেতন দিয়ে চাকরি শুরু করতেন।

দ্বিতীয়ত, ইনক্রিমেন্টের সংখ্যা: নিম্নতর অনেক গ্রেডে দীর্ঘ সময় ধরে বেতন বৃদ্ধির ধাপ ছিল।

তৃতীয়ত, সর্বোচ্চ বেতনসীমা: প্রতিটি গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন আলাদাভাবে নির্ধারিত ছিল।

তাই শুধু ইনক্রিমেন্টের সংখ্যা দিয়ে বেতন কাঠামোর সুবিধা বা বৈষম্য নির্ধারণ করা যায় না। এর জন্য প্রতিটি ধাপে বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ, প্রারম্ভিক ও সর্বোচ্চ বেতন এবং মূল্যস্ফীতির মতো বিষয়ও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

২০২৬ সালের নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে তুলনায় ২০১৫ সালের চার্ট কেন গুরুত্বপূর্ণ?

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ নিয়ে আলোচনা ও তুলনামূলক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে পুরোনো কাঠামোর তুলনা করতে গেলে শুধু প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ল কি না, তা দেখলেই হবে না। বরং কয়েকটি বিষয় পাশাপাশি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

- প্রতিটি গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতনের পরিবর্তন।

- সর্বোচ্চ মূল বেতনের পরিবর্তন।

- বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার।

- ইনক্রিমেন্টের মোট ধাপের সংখ্যা।

- সর্বোচ্চ বেতনে পৌঁছানোর ব্যবধান।

এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে ২০১৫ সালের তুলনায় নতুন কাঠামোয় বিভিন্ন গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির চিত্র কতটা পরিবর্তিত হয়েছে, তা বোঝা সহজ হবে।

জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর ইনক্রিমেন্ট চার্টে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ২০টি গ্রেডে আলাদা প্রারম্ভিক ও সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল। গ্রেডভেদে ইনক্রিমেন্টের ধাপের সংখ্যাও ছিল ভিন্ন। ২য় গ্রেডে চারটি ধাপ থাকলেও ৮ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ১৮টি করে ধাপ ছিল।

সরকারি চাকরিজীবীদের পুরোনো বেতন কাঠামো বোঝা, দীর্ঘমেয়াদি বেতন বৃদ্ধির হিসাব করা এবং ২০২৬ সালের বেতন কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করার ক্ষেত্রে এই চার্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

তবে বেতন নির্ধারণের প্রকৃত হিসাবের ক্ষেত্রে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর সরকারি প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালাকেই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে অনুসরণ করতে হবে।

সিদ্দিকা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন সাদমান, বড় দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ

স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন সাদমান, বড় দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সকালটা বাংলাদেশের জন্য একদিকে যেমন স্বস্তির, অন্যদিকে তেমনই দুশ্চিন্তার। ...

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছেন ...

ফুটবল

বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা: মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে কার আধিপত্য বেশি

বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা: মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে কার আধিপত্য বেশি

স্পোর্টস ডেস্ক: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মাঠে নামার আগে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে বাংলাদেশ ও ...

অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন মেসি-জিদান, আরও যারা

অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন মেসি-জিদান, আরও যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেই যে জাতীয় দলের দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ ...