বাড়ি নির্মাণে রড, সিমেন্ট, ইট-বালুর বর্তমান দাম কত
নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজের বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন? তাহলে নির্মাণকাজ শুরুর আগে রড, সিমেন্ট, ইট ও বালুর বাজারদর জেনে রাখা জরুরি। কারণ নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়লে পুরো বাড়ি তৈরির বাজেটেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে বর্তমানে এসব উপকরণের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রড ও স্টিলজাত পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি।
ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্মাণকাজের মৌসুম শুরু হওয়ায় বাজারে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বাড়ছে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর দাম। এর সঙ্গে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও পড়েছে উৎপাদন ও পরিবহন খরচে।
রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রড, অ্যাঙ্গেল, সিমেন্ট, ইট ও বালু কত দামে বিক্রি হচ্ছে, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক।
বর্তমানে রড ও অ্যাঙ্গেলের দাম কত?
বাড়ি নির্মাণের অন্যতম প্রধান উপকরণ রড। রাজধানীর খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে ৮৬ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। তবে কোম্পানি ও দোকানভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে। ভালোভাবে দরদাম করলে কোনো কোনো দোকানে এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত কম দামে রড কেনার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রতি টন অ্যাঙ্গেলের দাম পড়ছে ৯০ হাজার থেকে ৯৮ হাজার টাকা। তবে কোম্পানিভেদে এবং দোকানে দরদাম করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৮৮ থেকে ৮৯ হাজার টাকায়ও অ্যাঙ্গেল পাওয়া যাচ্ছে।
প্রতি ব্যাগ সিমেন্টের দাম কত?
নির্মাণকাজে সিমেন্টের ব্যবহার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতি ব্যাগ সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৫২০ থেকে ৫৬০ টাকায়।
তবে কিছু দোকানে ৫১০ থেকে ৫১৫ টাকার মধ্যেও সিমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, তুলনামূলক ভালো মানের ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সিমেন্ট কিনতে প্রতি ব্যাগে ৫৫০ থেকে ৫৬০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
এক হাজার ইট কিনতে কত টাকা লাগবে?
বাড়ি নির্মাণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ইট। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে ভালো মানের এক নম্বর ইট প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকায়।
তবে দোকানভেদে দরদাম করে সাড়ে ১৩ হাজার টাকার মধ্যেও এক হাজার ইট কেনা যাচ্ছে। সে হিসাবে এক নম্বর ইটের প্রতিটির দাম পড়ছে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ টাকা।
অন্যদিকে, তুলনামূলক নিম্নমানের দুই নম্বর ইট বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস প্রায় ১২ টাকায়।
ঘনফুট হিসাবে বালুর বর্তমান দাম
নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালুর দামও প্রকারভেদে আলাদা। রাজধানীর খুচরা বাজারে মোটা আস্তরের বালু প্রতি ঘনফুট বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। তবে বালুর সঙ্গে দেওয়া বস্তা ফেরত দিলে প্রতি ঘনফুটের দাম পড়ছে ৩০ টাকা।
অন্যদিকে, পাকশি বালুর দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি ঘনফুট পাকশি বালু কিনতে খরচ হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এ ছাড়া ভরাটের বালু প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়।
কেন বাড়ছে নির্মাণসামগ্রীর দাম?
নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকাল ও বর্ষা শুরুর আগপর্যন্ত নির্মাণকাজের ব্যস্ততা বেশি থাকে। ফলে বাজারে রড, সিমেন্ট, ইট ও বালুর চাহিদা বাড়ে।
আল্লাহর দান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে নির্মাণকাজের মৌসুম চলছে। পুরো শীতকাল এবং বর্ষা শুরুর আগপর্যন্ত নির্মাণকাজের ব্যস্ততা থাকবে। এ কারণে ধীরে ধীরে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ছে।
একই ধরনের তথ্য জানিয়েছেন আলভী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফারুক। তাঁর ভাষ্য, গত মাসের তুলনায় বর্তমানে একই পণ্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই দাম বাড়ছে। বিশেষ করে রড ও স্টিলজাত সামগ্রীর দাম বেশি।
তিনি আরও জানান, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে এসব পণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে নির্মাণসামগ্রীর বাজারেও।
বাড়ি নির্মাণের আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
নির্মাণসামগ্রী কেনার আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। একই পণ্য বিভিন্ন দোকানে ভিন্ন দামে বিক্রি হতে পারে। তাই একাধিক দোকান থেকে দাম যাচাই করে কেনাকাটা করা ভালো।
রড কেনার ক্ষেত্রে কোম্পানি, মান ও ওজন যাচাই করুন। সিমেন্ট কেনার সময় উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ দেখে নিন। ইটের ক্ষেত্রে মান যাচাই করার পাশাপাশি বালু কেনার সময় ধরন ও পরিমাণ নিশ্চিত করুন।
মনে রাখতে হবে, নির্মাণসামগ্রীর এসব দাম রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এলাকা, পরিবহন খরচ, পণ্যের মান, ব্র্যান্ড ও দোকানভেদে প্রকৃত দাম কমবেশি হতে পারে। তাই কেনার আগে স্থানীয় বাজার থেকে সর্বশেষ দর যাচাই করে নেওয়া ভালো।
সিদ্দিকা/
