| ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬: ৮ বছরেই প্রথম উচ্চতর গ্রেড, দ্বিতীয় ও তৃতীয়টির নিয়ম কী

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ নভেম্বর ০৮ ১১:২৪:৩২
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬: ৮ বছরেই প্রথম উচ্চতর গ্রেড, দ্বিতীয় ও তৃতীয়টির নিয়ম কী

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উচ্চতর গ্রেড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পদোন্নতি ছাড়া একই পদে সন্তোষজনকভাবে ৮ বছর চাকরি পূর্ণ হলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড, এরপর নির্ধারিত শর্তে আরও ৬ বছর পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ঘোষিত পদোন্নতিবিহীন নির্দিষ্ট ব্লকড পদের কর্মচারীদের জন্য রয়েছে তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের বিশেষ বিধান।

তবে চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হলেই সবার বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে, বিষয়টি এমন নয়। কর্মচারীর স্থায়ীকরণ, একই পদে চাকরির ধারাবাহিকতা, আগের বেতনস্কেলে পাওয়া সুবিধা এবং সন্তোষজনক চাকরির শর্ত যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি উচ্চতর গ্রেড মঞ্জুরের অফিস আদেশ এবং আইবাস++-এ বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর অনুচ্ছেদ ৬ অনুযায়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়ম এবং পুরোনো বেতনস্কেলের সুবিধার প্রভাব জেনে নেওয়া যাক।

১. একই পদে ৮ বছর চাকরি করলেই কি প্রথম উচ্চতর গ্রেড?

নতুন বেতন আদেশ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী সরকারি কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে একটানা ৮ বছর চাকরি পূর্ণ করলে এবং তাঁর চাকরি সন্তোষজনক হলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর নবম বছরে মূল বেতন স্কেলের পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

এখানে মনে রাখতে হবে, উচ্চতর গ্রেড পাওয়া মানেই পদোন্নতি নয়। কর্মচারী আগের পদেই বহাল থাকবেন। তাঁর পদবি, দায়িত্ব বা সাংগঠনিক অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে না। মূলত বেতন কাঠামোতে আর্থিক সুবিধা যুক্ত হবে।

অর্থাৎ, একই পদে ৮ বছর চাকরি করলেই শর্তহীনভাবে সবাই উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। স্থায়ী কর্মচারী হওয়া, পদোন্নতি না পাওয়া এবং চাকরি সন্তোষজনক হওয়ার বিষয়গুলো যাচাই করতে হবে।

২. ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে ৮ বছর পূর্ণ হলে কী হবে?

নতুন আদেশে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখকে কেন্দ্র করে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।

যেসব স্থায়ী কর্মচারী ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে একই পদে ৮ বছর চাকরি পূর্ণ করেছেন, কিন্তু ১০ বছর পূর্ণ করেননি, তাঁরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, একজন কর্মচারী ১ জুলাই ২০১৬ তারিখে একই পদে যোগদান করেছেন। ১ জুলাই ২০২৪ তারিখে তাঁর ৮ বছর চাকরি পূর্ণ হয়েছে। নতুন আদেশের বিশেষ বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে তিনি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন।

তবে প্রকৃত প্রাপ্যতা নির্ধারণের জন্য যোগদানের তারিখ, একই পদে চাকরির ধারাবাহিকতা, স্থায়ীকরণ এবং আগে পাওয়া বেতন-সুবিধার তথ্য যাচাই করতে হবে।

৩. প্রথম উচ্চতর গ্রেডের পর দ্বিতীয়টি কবে?

প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে পদোন্নতি ছাড়া আরও ৬ বছর চাকরি পূর্ণ হলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের যোগ্যতা তৈরি হতে পারে।

নির্ধারিত ৬ বছর পূর্ণ হওয়ার পর সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও চাকরি সন্তোষজনক হতে হবে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো কর্মচারী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেলেন। এরপর একই পদে পদোন্নতি ছাড়া চাকরি অব্যাহত থাকলে ১ জুলাই ২০৩২ তারিখে তাঁর পরবর্তী ৬ বছর পূর্ণ হবে। শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সপ্তম বছরে অর্থাৎ ১ জুলাই ২০৩২ থেকে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা প্রাপ্য হওয়ার বিষয়টি বিবেচিত হবে।

তবে প্রত্যেক কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার প্রকৃত তারিখ এবং আগের চাকরির ইতিহাস ধরে হিসাব করতে হবে।

৪. উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা কোন গ্রেড পর্যন্ত পাওয়া যাবে?

উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে একটি সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আদেশের অনুচ্ছেদ ৬-এর বিধান অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা বেতনস্কেলের চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য। অর্থাৎ, এই সুবিধা ব্যবহার করে চতুর্থ গ্রেড বা তার ওপরে থাকা কর্মচারী তৃতীয় বা তার চেয়ে উচ্চতর গ্রেডে বেতন নির্ধারণের সুযোগ পাবেন না।

তাই শুধু চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। কর্মচারীর বর্তমান গ্রেড এবং পরবর্তী গ্রেডের অবস্থানও যাচাই করতে হবে।

৫. একই পদে সর্বোচ্চ কয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে?

সাধারণ নিয়মে একই পদে কর্মজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আগের বেতনস্কেলে পাওয়া সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেডের সুবিধাও হিসাবের মধ্যে আসবে।

নতুন আদেশের বিধান অনুযায়ী:

  • আগের বেতনস্কেলে একই পদে দুই বা তার বেশি বার সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে ওই পদে নতুন করে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ সীমিত হবে।

  • আগে মাত্র একবার এ ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ থাকতে পারে।

  • আগে কোনো সুবিধা না পেয়ে থাকলে নতুন আদেশের সময়সীমা ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী প্রাপ্যতা নির্ধারণ করতে হবে।

অতএব, শুধু বর্তমান গ্রেড বা চাকরির বয়স দিয়ে উচ্চতর গ্রেডের হিসাব করা যাবে না। ২০১৫ সালের বেতনস্কেলসহ আগের বেতন নির্ধারণের ইতিহাসও যাচাই করা জরুরি।

৬. আগে একবার উচ্চতর গ্রেড পেলে দ্বিতীয়বার পাওয়ার সুযোগ আছে?

যেসব স্থায়ী কর্মচারী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বা তার আগে একই পদে চাকরিকালে মাত্র একবার উচ্চতর স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন, তাঁদের জন্য দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের বিশেষ বিধান রয়েছে।

প্রদত্ত আদেশের বিধান অনুযায়ী, প্রথম উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ৬ বছর চাকরি পূর্ণ হলে সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নতুন আদেশের অধীনে বেতন নির্ধারণের সুবিধা পাওয়া গেলেও ৩০ জুন ২০২৬ বা তার আগের সময়ের জন্য নতুন করে বকেয়া আর্থিক সুবিধা দাবি করা যাবে না।

অর্থাৎ, নতুন বিধানে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের যোগ্যতা তৈরি হলেও সেটিকে অতীত সময়ের বকেয়া হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

এখানে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তারিখ, একই পদে চাকরির ধারাবাহিকতা এবং আগের সুবিধার ধরন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

৭. ব্লকড পদে তৃতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়ম

নতুন বেতন আদেশে পদোন্নতির সুযোগবিহীন নির্দিষ্ট ব্লকড পদের কর্মচারীদের জন্য তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তবে কোনো পদে দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লকড পদ হয়ে যায় না। সংশ্লিষ্ট পদটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ব্লকড হিসেবে ঘোষিত হতে হবে এবং ওই পদে পদোন্নতির কোনো বিধান থাকা যাবে না।

নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মচারী প্রথম ও দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির তারিখ থেকে আরও ৮ বছর চাকরি পূর্ণ করলে নবম বছরে তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো হলো:

১. পদটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ব্লকড হিসেবে ঘোষিত হতে হবে।

২. সংশ্লিষ্ট পদে পদোন্নতির কোনো বিধান থাকতে পারবে না।

৩. প্রথম ও দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার শর্ত পূরণ করতে হবে।

৪. দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ৮ বছর চাকরি পূর্ণ করতে হবে।

৫. চাকরি সন্তোষজনক হতে হবে।

৬. একই পদে কর্মজীবনে তিনবারের বেশি উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পাওয়া যাবে না।

৭. তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে কার্যকর হবে না।

সুতরাং, তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের জন্য শুধু চাকরির মেয়াদ নয়, পদের আনুষ্ঠানিক অবস্থানও যাচাই করা জরুরি।

৮. চাকরি সন্তোষজনক হওয়ার শর্ত কী?

উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি সন্তোষজনক চাকরির শর্তও রয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, পদোন্নতিসহ প্রচলিত বিধিবিধানে যেভাবে সন্তোষজনক চাকরির শর্ত অনুসরণ করা হয়, উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিধান অনুসরণ করতে হবে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর চাকরির রেকর্ড, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (ACR/APAR), বিভাগীয় কার্যক্রম এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা হতে পারে।

অর্থাৎ, নির্ধারিত বছর পূর্ণ হলেই কোনো যাচাই ছাড়াই প্রত্যেক কর্মচারী উচ্চতর গ্রেড পাবেন, এমন ধারণা সঠিক নয়।

৯. উচ্চতর গ্রেড কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে?

নতুন আদেশে উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় সুবিধার কথা বলা হলেও বাস্তবে বেতন নির্ধারণের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সুপারিশ প্রয়োজন হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব কিংবা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে অফিস আদেশ জারির মাধ্যমে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে।

অর্থাৎ, উচ্চতর গ্রেডের যোগ্যতা অর্জন এবং আইবাস++-এ নতুন বেতন কার্যকর হওয়া দুটি আলাদা ধাপ।

সরকারি পর্যায়েও এ বিধান প্রয়োগের উদাহরণ পাওয়া গেছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি অফিস আদেশে একই পদে পদোন্নতি ছাড়া সন্তোষজনকভাবে ৮ বছর চাকরি পূর্ণ হওয়ায় পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড মঞ্জুরের তথ্য রয়েছে।

১০. আইবাস++-এ উচ্চতর গ্রেডের ফিক্সেশন নিয়ে কেন জটিলতা?

উচ্চতর গ্রেডের নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার পর অনেক কর্মচারীর আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে আইবাস++-এ বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন।

তবে সিস্টেমে উচ্চতর গ্রেডের অপশন দেখা যাওয়া এবং বেতন নির্ধারণ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। কর্মচারীর চাকরির তথ্য, পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণ, উচ্চতর গ্রেডের ইতিহাস এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের মধ্যে অসংগতি থাকলে ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে।

কর্মচারীদের উত্থাপিত অভিযোগ ও আলোচনায় কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে:

  • উচ্চতর গ্রেডের অপশন দেখা গেলেও ফিক্সেশন চূড়ান্ত করতে সমস্যা হচ্ছে।

  • আগের উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেলের তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

  • পুরোনো বেতনস্কেলের অধীনে পাওয়া বা প্রাপ্য সুবিধার তথ্য নিষ্পত্তি না হওয়ায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

  • ২০১৫ সালের বেতনস্কেলের অধীনে প্রাপ্য উচ্চতর গ্রেডের ফিক্সেশন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তবে এসব সমস্যার সবগুলোকে আইবাস++-এর নিশ্চিত কারিগরি ত্রুটি বলা যাবে না। ব্যক্তিগত চাকরির তথ্য, অনুমোদনের অবস্থা কিংবা পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের সঙ্গে সিস্টেমের তথ্যের অমিল থেকেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

১১. ২০১৫ সালের বেতনস্কেলে উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা থাকলে কী হবে?

নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার পর যেসব কর্মচারী ২০১৫ সালের জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, কিন্তু প্রশাসনিক বা অন্য কোনো কারণে তাঁদের বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হয়নি, তাঁদের বিষয়টি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ:

১. ২০১৫ সালের বেতনস্কেল অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা কোন তারিখে তৈরি হয়েছিল।

২. সংশ্লিষ্ট সময়ে কোন বিধান কার্যকর ছিল।

৩. উচ্চতর গ্রেড মঞ্জুরের অফিস আদেশ জারি হয়েছিল কি না।

৪. বেতন নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল কি না।

৫. প্রশাসনিক বা কারিগরি কারণে ফিক্সেশন অসম্পূর্ণ ছিল কি না।

এখানে দুটি পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একজন কর্মচারী বিধি অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জন করলেও অফিস আদেশ পাননি। অন্যদিকে আরেকজন অফিস আদেশ পেয়েছেন, কিন্তু আইবাস++-এ বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হয়নি। এ দুই ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সমাধান এক নাও হতে পারে।

তাই পুরোনো বেতনস্কেলের অধীনে প্রাপ্য সুবিধা কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।

১২. উচ্চতর গ্রেডের যোগ্যতা যাচাইয়ে যেসব তথ্য প্রস্তুত রাখবেন

নিজের উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা যাচাই করতে সরকারি কর্মচারীদের কয়েকটি তথ্য ও নথি প্রস্তুত রাখা উচিত।

যাচাইয়ের বিষয়প্রয়োজনীয় তথ্য
বর্তমান পদ পদবি ও নিয়োগের ধরন
বর্তমান গ্রেড মূল পদের গ্রেড
চাকরিতে যোগদান যোগদানের তারিখ
স্থায়ীকরণ স্থায়ীকরণের তারিখ ও আদেশ
একই পদে চাকরি মোট চাকরিকাল
পূর্ববর্তী সুবিধা টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেড
পদোন্নতি পদোন্নতির আদেশ ও কার্যকর তারিখ
ব্লকড পদ প্রযোজ্য সরকারি ঘোষণা
চাকরির রেকর্ড সন্তোষজনক চাকরির প্রমাণ

বিশেষ করে পদ পরিবর্তন, পদোন্নতি, চাকরির বিরতি এবং আগের উচ্চতর গ্রেডের তথ্য যাচাই না করে নিজে নিজে চূড়ান্ত হিসাব করা ঠিক হবে না।

১৩. প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের সময়সীমা এক নজরে

সুবিধানির্ধারিত সময়
প্রথম উচ্চতর গ্রেড একই পদে ৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর নবম বছরে
দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড প্রথম উচ্চতর গ্রেডের পর আরও ৬ বছর পূর্ণ হলে সপ্তম বছরে
তৃতীয় উচ্চতর গ্রেড নির্দিষ্ট ব্লকড পদে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের পর আরও ৮ বছর পূর্ণ হলে নবম বছরে

এই সময়সীমা প্রযোজ্য হওয়ার জন্য স্থায়ী কর্মচারী হওয়া, একই পদে পদোন্নতি ছাড়া চাকরি, সন্তোষজনক চাকরি এবং পূর্ববর্তী সুবিধার হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট সব শর্ত পূরণ করতে হবে।

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ উচ্চতর গ্রেডের নতুন বিধান সরকারি কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই পদে ৮ বছর চাকরির পর প্রথম উচ্চতর গ্রেড, পরবর্তী ৬ বছর পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড এবং নির্দিষ্ট ব্লকড পদে তৃতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে প্রত্যেক কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রাপ্যতা নির্ধারণ করতে হবে তাঁর চাকরির মেয়াদ, পদোন্নতির ইতিহাস, স্থায়ীকরণ, আগের বেতনস্কেলে পাওয়া সুবিধা এবং সন্তোষজনক চাকরির শর্ত বিবেচনা করে।

বিশেষ করে ২০১৫ সালের বেতনস্কেলে যাঁদের উচ্চতর গ্রেডের যোগ্যতা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু ফিক্সেশন সম্পন্ন হয়নি, তাঁদের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।

কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের চাকরির রেকর্ড ও আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য যাচাই করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা। একই সঙ্গে আইবাস++-এ ফিক্সেশন আটকে গেলে সমস্যার কারণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় বা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিতভাবে জানতে হবে।

সিদ্দিকা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন সাদমান, বড় দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ

স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন সাদমান, বড় দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সকালটা বাংলাদেশের জন্য একদিকে যেমন স্বস্তির, অন্যদিকে তেমনই দুশ্চিন্তার। ...

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছেন ...

ফুটবল

বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা: মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে কার আধিপত্য বেশি

বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা: মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে কার আধিপত্য বেশি

স্পোর্টস ডেস্ক: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মাঠে নামার আগে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে বাংলাদেশ ও ...

অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন মেসি-জিদান, আরও যারা

অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন মেসি-জিদান, আরও যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেই যে জাতীয় দলের দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ ...