নভেম্বরে আরো ২টি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক: নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগে সাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা থাকলেও চলতি মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নভেম্বর মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গত ১ নভেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সভায় মাসিক পূর্বাভাসটি চূড়ান্ত করা হয়।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে ২–৩টি লঘুচাপ
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, শক্তি বা বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার বিষয়ে এই মাসিক পূর্বাভাসে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কাকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবেই দেখছেন আবহাওয়াবিদেরা।
নভেম্বরে কেমন থাকবে বৃষ্টিপাত
চলতি মাসে সার্বিকভাবে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাসে বৃষ্টির সম্ভাব্য পরিমাণ তুলে ধরা হয়েছে।
-
ঢাকা: ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার
-
ময়মনসিংহ: ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার
-
সিলেট: ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার
-
রাজশাহী: ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার
-
খুলনা: ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার
-
বরিশাল: ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার
-
চট্টগ্রাম: ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার
-
রংপুর: ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিভাগগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে তুলনামূলক বেশি এবং রংপুরে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে।
কমতে পারে তাপমাত্রা, বাড়বে কুয়াশার সম্ভাবনা
নভেম্বর মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে মাসজুড়ে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
দেশের কিছু এলাকায় এবং নদী অববাহিকায় ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। বিশেষ করে ভোরের দিকে চলাচলকারীদের কুয়াশার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হতে পারে।
এদিকে, দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
অক্টোবরে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নেয়। এরপর অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
গত মাসে বঙ্গোপসাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এর মধ্যে একটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ রূপ নেয়। পরে ২৮ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করে।
অক্টোবরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় সিলেটে, ১৭ অক্টোবর। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তেঁতুলিয়ায় ২৭ অক্টোবর।
সব মিলিয়ে নভেম্বরে বৃষ্টিপাত কম হলেও বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা, জেলে ও নৌযান চলাচলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী সতর্কবার্তা অনুসরণ করা জরুরি।
সিদ্দিকা/
