বাবা-মাকে নিয়ে চলাচলে আরাম দেবে যে ৫ মোটরসাইকেল
নিজস্ব প্রতিবেদক: মোটরসাইকেল কেনার সময় অনেকেই ইঞ্জিনের ক্ষমতা, মাইলেজ কিংবা ডিজাইনকে বেশি গুরুত্ব দেন। কিন্তু পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতে হলে বাইকের পেছনের সিট কতটা আরামদায়ক, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাবা-মাকে পেছনে বসিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে সিটের দৈর্ঘ্য ও কুশনিং, ফুটপেগের অবস্থান, গ্র্যাব রেল এবং সাসপেনশনের মান বিবেচনা করা দরকার।
ভাঙাচোরা রাস্তা ও স্পিড ব্রেকারে পেছনের যাত্রীর অস্বস্তি হতে পারে। আবার বাইক বেশি উঁচু বা ভারী হলে ওঠানামা এবং চালকের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এসব দিক বিবেচনায় আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য আলোচনায় রাখা যায় এমন পাঁচটি মোটরসাইকেলের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো।
১. Honda Unicorn: দৈনন্দিন যাতায়াতে আরামদায়ক বিকল্প
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য Honda Unicorn বিবেচনা করতে পারেন। বাইকটির সিঙ্গেল-পিস সিটে চালক ও পেছনের যাত্রীর বসার জায়গা রয়েছে। এর সিটিং পজিশন এবং তুলনামূলক সহজ ব্যবহার শহরের রাস্তায় চলাচলের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।
বাংলাদেশের বাজারে Honda CB Unicorn-এর একটি স্থানীয় তালিকাভুক্ত দাম প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। তবে শোরুম, মডেল ইয়ার ও অফার অনুযায়ী দাম পরিবর্তিত হতে পারে। কেনার আগে অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে বর্তমান দাম ও ওয়ারেন্টি নিশ্চিত করা ভালো।
২. TVS Ronin: স্বাচ্ছন্দ্যময় রাইডিং পজিশনের বাইক
TVS Ronin-এর অন্যতম আকর্ষণ এর রিল্যাক্সড রাইডিং পজিশন। বাইকটির বসার ভঙ্গি এবং ইঞ্জিনের চরিত্র দৈনন্দিন যাতায়াতে আরাম দিতে পারে। পেছনের যাত্রীর জন্য আলাদা ব্যাকরেস্ট অ্যাক্সেসরিও পাওয়া যায় বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশে TVS Ronin-এর আনুষ্ঠানিক বিক্রি ও বর্তমান দাম নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই ভারতের বাজারের দামকে বাংলাদেশের দাম হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কেনার আগে স্থানীয় TVS বিক্রেতার কাছে মডেলটির প্রাপ্যতা যাচাই করুন।
৩. Royal Enfield Bullet 350: ক্লাসিক ডিজাইন ও সোজা বসার ভঙ্গি
ক্লাসিক মোটরসাইকেল পছন্দ করেন এমন চালকদের কাছে Royal Enfield Bullet 350 পরিচিত একটি নাম। বাইকটির সোজা হয়ে বসার রাইডিং পজিশন এবং চওড়া সিট দীর্ঘ যাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য দিতে পারে।
তবে বাইকটির ওজন তুলনামূলক বেশি। পেছনে যাত্রী নিয়ে যানজটের মধ্যে চালানো বা ধীরগতিতে ভারসাম্য রাখা সবার জন্য সহজ নাও হতে পারে। তাই বয়স্ক বাবা-মাকে নিয়ে ব্যবহারের আগে তাঁদের ওঠানামার সুবিধা এবং চালকের নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি।
বাংলাদেশে Bullet 350-এর তালিকাভুক্ত এক্স-শোরুম দাম প্রায় ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী দাম আরও বেশি হতে পারে।
৪. Honda H’ness CB350: মসৃণ ইঞ্জিন ও আরামদায়ক যাত্রার অভিজ্ঞতা
Honda H’ness CB350 এমন একটি মডেল, যেখানে আরামদায়ক রাইডিং পজিশন ও মসৃণ ইঞ্জিনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চওড়া সিট এবং ক্রুজারধর্মী বসার ভঙ্গি চালক ও পেছনের যাত্রীর জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।
তবে বাইকটি কেনার আগে সিটের উচ্চতা, পেছনের ফুটপেগ এবং সাসপেনশন সরাসরি পরীক্ষা করা ভালো। বাংলাদেশে মডেলটির নির্ভরযোগ্য বিক্রয়মূল্য নিশ্চিত নয়। কিছু স্থানীয় তালিকায় দাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি বলে উল্লেখ রয়েছে।
৫. Jawa 42 FJ: আধুনিক ক্লাসিক ডিজাইনের বিকল্প
আধুনিক ক্লাসিক ডিজাইনের মোটরসাইকেল পছন্দ হলে Jawa 42 FJ দেখতে পারেন। বাইকটির রাইডিং পজিশন ও নকশা আলাদা ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে পারে। তবে পেছনের যাত্রীর আরাম নিশ্চিত করতে সিটের কুশনিং, গ্র্যাব রেল এবং ফুটপেগের অবস্থান পরীক্ষা করা জরুরি।
মূল প্রতিবেদনে পেছনের সাসপেনশন কিছুটা শক্ত মনে হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বাবা-মাকে নিয়ে চলাচলের আগে তাঁদের বসিয়ে ছোট একটি টেস্ট রাইড করে নেওয়া ভালো।
বাংলাদেশের একটি মোটরসাইকেল তালিকায় Jawa 42 FJ-এর দাম প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। কেনার আগে অনুমোদিত বিক্রেতার কাছে দাম, কাগজপত্র ও সার্ভিস সুবিধা যাচাই করুন।
বাবা-মাকে নিয়ে বাইক কেনার আগে যে ৬ বিষয় দেখবেন
শুধু বাইকের নাম বা ডিজাইন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের জন্য বাইক কেনার আগে কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করা জরুরি।
১. পেছনের সিট: সিট যথেষ্ট চওড়া ও নরম কি না এবং বসলে শরীরের ভঙ্গি স্বাভাবিক থাকে কি না দেখুন।
২. ওঠানামার সুবিধা: সিটের উচ্চতা ও বাইকের গঠন এমন হওয়া দরকার, যাতে বয়স্ক যাত্রী সহজে উঠতে ও নামতে পারেন।
৩. গ্র্যাব রেল: পেছনের যাত্রী যেন নিরাপদে ধরে বসতে পারেন, সে জন্য শক্ত ও সহজে ধরার উপযোগী গ্র্যাব রেল থাকা জরুরি।
৪. ফুটপেগের অবস্থান: পা রাখার জায়গা আরামদায়ক না হলে দীর্ঘ যাত্রায় হাঁটু ও পায়ে অস্বস্তি হতে পারে।
৫. সাসপেনশন: স্পিড ব্রেকার ও ভাঙাচোরা রাস্তায় বাইকের সাসপেনশন কীভাবে কাজ করে, তা পেছনের যাত্রীসহ পরীক্ষা করুন।
৬. বাইকের ওজন ও নিয়ন্ত্রণ: পেছনে যাত্রী বসানো অবস্থায় চালক বাইকটি সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
পেছনের যাত্রীর হেলমেট বাধ্যতামূলক
বাইকের পেছনের সিট যত আরামদায়কই হোক, নিরাপত্তার বিকল্প নেই। বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী মোটরসাইকেলের চালক ও সহযাত্রী উভয়ের হেলমেট ব্যবহার করতে হয়। চালকসহ মোট দুইজনের বেশি মোটরসাইকেলে চলাচল করা যাবে না।
তাই বাবা-মাকে নিয়ে যাতায়াতের সময় তাঁদের মাথার মাপ অনুযায়ী মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করুন। হেলমেটের ফিতা ঠিকভাবে আটকানোও জরুরি।
সবশেষে, পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের জন্য সবচেয়ে ভালো বাইক বেছে নিতে শুধু ফিচার বা দাম নয়, তাঁদের বসার স্বাচ্ছন্দ্যকে অগ্রাধিকার দিন। সম্ভব হলে কেনার আগে বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে শোরুমে বসিয়ে দেখুন। ছোট একটি টেস্ট রাইডই বুঝতে সাহায্য করবে কোন বাইকে তাঁদের যাত্রা বেশি আরামদায়ক হবে।
আশা/
