২০৩০ বিশ্বকাপ জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা থাকবে ব্রাজিলের!
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি ব্রাজিল। ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নও পূরণ হয়নি দলটির। তবে হতাশার এই সময় পেরিয়ে আগামী চার বছরে ব্রাজিল আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে বলে বিশ্বাস করেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক কাফু। তাঁর মতে, ২০৩০ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা থাকবে ব্রাজিলের।
দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক ডিফেন্ডারের বিশ্বাস, কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল এখন নতুন করে দল গঠনের পথে রয়েছে। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল তৈরি করতে পারলে আগামী বিশ্বকাপে ভালো করার সুযোগ তৈরি হবে।
সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আনচেলত্তির কোচিং এবং নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেন কাফু।
২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের আশা কাফুর
ব্রাজিলের হয়ে ১৯৯৪ ও ২০০২ বিশ্বকাপ জিতেছেন কাফু। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়কের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে ব্রাজিলের সামনে।
আনচেলত্তির অধীনে দল পুনর্গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি। কাফুর বিশ্বাস, নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে ২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের ভালো সুযোগ থাকবে।
রয়টার্সকে কাফু বলেন, ২০৩০ সালের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন হবে বলে তাঁর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। তখন বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ ও বাস্তব সম্ভাবনা থাকবে ব্রাজিলের।
তিনি আরও মনে করেন, এটি ব্রাজিলের জন্য নতুন অধ্যায় ও নতুন প্রকল্প। আনচেলত্তি এখন নিজের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় পাবেন।
আনচেলত্তির অধীনে নতুন করে দল গড়ছে ব্রাজিল
২০২৫ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ২০২৬ বিশ্বকাপের পরও তাঁর সঙ্গে দলের পরিকল্পনা ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বকাপের হতাশাজনক অভিজ্ঞতার পর দল পুনর্গঠনে মনোযোগ দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ কোচ। সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে তাঁদের সামর্থ্য যাচাই করছেন তিনি।
বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের প্রথম সফরে দলের সঙ্গে ছিলেন না বিশ্বকাপ স্কোয়াডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ খেলোয়াড়। ওই সফরে আটজন ফুটবলারের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। পরবর্তী প্রীতি ম্যাচের দলেও নতুন পাঁচজন খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করেছেন আনচেলত্তি।
কাফুর মতে, ব্রাজিলের মতো দলের জন্য পুনর্গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সঙ্গে তরুণদের সঠিক সমন্বয় তৈরি করতে পারলে দল আরও শক্তিশালী হবে।
নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে সম্মান জানাতে বললেন কাফু
ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হলেও নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়েও কথা বলেছেন কাফু। তাঁর মতে, জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের অধ্যায় সফল ও সম্মানজনক হিসেবেই মনে রাখা উচিত।
ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জাতীয় দলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০টি গোল করেছেন। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ৫৮টি গোল করিয়েছেন তিনি। চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই ফরোয়ার্ড ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন।
কাফু বলেন, জাতীয় দলের সঙ্গে প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই একসময় অধ্যায় শেষ হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নেইমারের সেই অধ্যায় ছিল সফল। ব্রাজিলের হয়ে তিনি নিজের ছাপ রেখে গেছেন এবং বিশ্ব ফুটবলে দেশের জন্য ইতিহাস গড়েছেন।
নেইমার ব্রাজিলের হয়ে সর্বশেষ বড় শিরোপা জিতেছিলেন ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপে। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন ও গোলের রেকর্ডও তাঁকে ব্রাজিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তরুণদের ওপর ভরসা রেখে এগোতে চায় ব্রাজিল
ব্রাজিলের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে শক্তিশালী দল গড়ে তোলা। শুধু তারকা ফুটবলারদের ওপর নির্ভর না করে পুরো দলকে একটি নির্দিষ্ট কৌশলের মধ্যে নিয়ে আসতে চান আনচেলত্তি।
কাফুর মতে, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে তরুণদের বোঝাপড়া তৈরি করা গেলে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ আরও ভালো হবে। নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া এবং তাঁদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিজ্ঞতা বাড়ানোও এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রাজিল। কাফুর বিশ্বাস, আনচেলত্তি নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় পেলে আগামী বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের বাস্তব সুযোগ তৈরি হবে। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে আগামী চার বছরে দলকে ধারাবাহিক উন্নতি দেখাতে হবে।
আয়শা/
