নবম পে স্কেলের বকেয়া বিল জমা ৮ নভেম্বর থেকে, কারা দিতে পারবেন
নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতন-ভাতার বিল জমা দেওয়ার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। অধিদপ্তরের ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের অফিস আদেশ অনুযায়ী, যেসব কর্মকর্তার নতুন পে-ফিকেশন প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে, তাঁরা আগামী ৮ নভেম্বর থেকে বকেয়া বিলের হার্ডকপি জমা দিতে পারবেন।
তবে এ নির্দেশনা মাউশিতে কর্মরত নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য। দেশের সব সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে একই তারিখে বিল জমা শুরু হবে, এমন কোনো সাধারণ নির্দেশনা এই আদেশে উল্লেখ নেই।
৮ নভেম্বর থেকে কোথায় জমা দিতে হবে বকেয়া বিল?
মাউশির ৪ নভেম্বরের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী যেসব কর্মকর্তার পে-ফিকেশন প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে, তাঁদের জুলাই ২০২৬ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বকেয়া বিলের হার্ডকপি জমা দিতে হবে।
বিল জমা দেওয়ার স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ক্যাশ শাখা। অধিদপ্তরের প্রথম ব্লকের ৩০৬ নম্বর কক্ষে এসব বিল জমা দিতে হবে।
অর্থাৎ, শুধু পে-ফিকেশন সম্পন্ন হলেই হবে না। সেটি সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়মে বিল জমা দিতে হবে।
কারা এই নির্দেশনার আওতায় থাকবেন?
মাউশির অফিস আদেশে অধিদপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা, বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) এবং ইন-সিটু হিসেবে কর্মরত কর্মকর্তাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সবার জন্য একই শর্ত প্রযোজ্য নয়। যেসব কর্মকর্তার পে-ফিকেশন প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে, তাঁদেরই ৮ নভেম্বর থেকে বকেয়া বিলের হার্ডকপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাঁদের পে-ফিকেশন এখনো অনুমোদিত হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে কীভাবে বিল জমা হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বকেয়া হিসাব কীভাবে হবে?
নির্দেশনায় তিন মাসের বকেয়া বিলের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থের হিসাব প্রস্তুত করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে অনুমোদিত পে-ফিকেশন বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট বেতনসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে হিসাব তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো ও নতুন বেতন কাঠামোর পার্থক্য নির্ধারণের সময় প্রযোজ্য সরকারি আদেশ অনুযায়ী আগে পরিশোধিত বা সমন্বয়যোগ্য অর্থও বিবেচনায় নিতে হবে।
হিসাবের ক্ষেত্রে কোনো খাত বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে অনুমান না করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব শাখার নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
আইবাস++ নাকি হার্ডকপি, কীভাবে জমা হবে?
মাউশির প্রকাশিত আদেশে স্পষ্টভাবে বকেয়া বিলের হার্ডকপি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখ থেকে অধিদপ্তরের ক্যাশ শাখায় এসব কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
তবে এই আদেশে আইবাস++ সফটওয়্যারে বকেয়া বিল জমার কোনো সাধারণ নিয়ম বা সব দপ্তরের জন্য একই পদ্ধতির কথা বলা হয়নি। তাই মাউশির এই নির্দেশনাকে সব মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন প্রক্রিয়া হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
অন্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাঁদের নিজ নিজ অফিসের হিসাব শাখা বা ডিডিওর কাছ থেকে প্রযোজ্য নির্দেশনা জেনে নিতে হবে।
বকেয়া বিল জমা দেওয়ার আগে যা যাচাই করবেন
বিল জমা দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।
-
নতুন পে-ফিকেশন অনুমোদিত হয়েছে কি না যাচাই করুন।
-
অনুমোদিত পে-ফিকেশন বিবরণীর কপি সংগ্রহ করুন।
-
জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতনসংক্রান্ত হিসাব মিলিয়ে নিন।
-
নাম, পদবি, গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্য সঠিক আছে কি না দেখুন।
-
আগে পরিশোধিত অর্থের সমন্বয় ঠিকভাবে হয়েছে কি না যাচাই করুন।
-
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্ধারিত ফরম ও কাগজপত্র অনুসরণ করুন।
-
বিল জমা দেওয়ার পর গ্রহণের প্রমাণ বা একটি কপি নিজের কাছে রাখুন।
বকেয়া টাকা কবে ব্যাংক হিসাবে পাওয়া যাবে?
৮ নভেম্বর থেকে বিলের হার্ডকপি জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও ওই আদেশে বকেয়া অর্থ ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
বিল জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই, হিসাব নিষ্পত্তি এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে। তাই ৮ নভেম্বর বিল জমা শুরু হলেই সেদিন বা পরদিন সবার ব্যাংক হিসাবে টাকা চলে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
অন্য সরকারি দপ্তরের কর্মীদের করণীয় কী?
মাউশির নির্দেশনা প্রকাশের পর অন্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও বকেয়া বিল জমা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হতে পারে। তবে এক দপ্তরের অফিস আদেশ অন্য দপ্তরের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয় না।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক বা হিসাব শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে হবে, তাঁদের জন্য কবে থেকে এবং কীভাবে বকেয়া বিল জমা নেওয়া হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পে-ফিকেশন অনুমোদন, বিল জমা এবং ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাওয়া তিনটি আলাদা ধাপ। প্রতিটি ধাপের নির্দেশনা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
সিদ্দিকা/
