নিজের নামে কতটুকু জমি রয়েছে, খতিয়ান দেখে জানবেন যেভাবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজের নামে থাকা জমির তথ্য জানতে প্রথমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট land.gov.bd অথবা ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবায় প্রবেশ করুন।
এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে খতিয়ান অনুসন্ধান করতে হবে। সাধারণত যেসব তথ্য কাজে লাগে:
-
বিভাগ ও জেলার নাম
-
উপজেলা বা থানা
-
মৌজার নাম
-
জরিপের ধরন, যেমন CS, SA, RS বা BS
-
খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম
মৌজার নাম ও জেএল নম্বর জানা থাকলে সঠিক রেকর্ড খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। একই এলাকায় একাধিক জরিপের খতিয়ান থাকতে পারে। তাই অনুসন্ধানের সময় সঠিক জরিপ নির্বাচন করা জরুরি।
খতিয়ানে নিজের নাম ও জমির অংশ দেখুন
খতিয়ান পাওয়া গেলে সেখানে কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে মিলিয়ে দেখুন। বিশেষ করে মালিকের নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, দাগ নম্বর, জমির মোট পরিমাণ এবং মালিকের অংশের তথ্য পরীক্ষা করুন।
খতিয়ানে একাধিক মালিকের নাম থাকলে প্রত্যেকের অংশ আলাদাভাবে উল্লেখ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে পুরো দাগের জমিকে নিজের জমি ধরে নেওয়া যাবে না। নিজের অংশ অনুযায়ী জমির পরিমাণ হিসাব করতে হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মিউটেশন খতিয়ানে মালিক বা মালিকদের নাম, মৌজার পরিচিতি, দাগ নম্বর, মালিকের প্রাপ্য অংশ এবং জমির পরিমাণের তথ্য থাকে।
নিজের নামে মোট জমির পরিমাণ হিসাব করবেন যেভাবে
একাধিক খতিয়ান বা দাগে জমি থাকলে প্রতিটি রেকর্ড থেকে নিজের প্রাপ্য জমির পরিমাণ আলাদা করে লিখে নিন। এরপর সব জমির পরিমাণ একই এককে রূপান্তর করে যোগ করুন।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো দাগে মোট জমি ৬০ শতাংশ এবং সেখানে আপনার মালিকানার অংশ অর্ধেক হলে আপনার অংশের জমি হবে ৩০ শতাংশ।
আবার অন্য একটি দাগে আপনার জমি ২০ শতাংশ হলে দুই দাগ মিলিয়ে মোট জমি হবে ৫০ শতাংশ।
তবে খতিয়ানে যদি সরাসরি অংশ অনুযায়ী জমির পরিমাণ লেখা থাকে, তাহলে সেই পরিমাণই হিসাবের ভিত্তি হিসেবে নিন। একই জমির পুরোনো ও নতুন জরিপের খতিয়ান একসঙ্গে যোগ করবেন না। এতে একই জমি দুইবার গণনা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
একাধিক মৌজায় জমি থাকলে সব রেকর্ড খুঁজুন
একজন ব্যক্তির জমি একই উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় কিংবা একাধিক জেলায়ও থাকতে পারে। তাই শুধু নিজের বাড়ির এলাকার খতিয়ান দেখলে মোট জমির হিসাব পাওয়া যাবে না।
নিজের নামে জমির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করতে হলে—
-
পৈতৃক বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া প্রতিটি জমির মৌজা শনাক্ত করুন।
-
কেনা জমির দলিল থেকে মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বর সংগ্রহ করুন।
-
প্রতিটি মৌজার প্রযোজ্য সর্বশেষ জরিপের খতিয়ান দেখুন।
-
নামজারি হয়ে থাকলে নতুন নামজারি খতিয়ানও যাচাই করুন।
-
সব খতিয়ানে নিজের অংশ অনুযায়ী জমির পরিমাণ যোগ করুন।
নামজারি না হলে কী করবেন?
জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর মালিকানা পরিবর্তনের তথ্য সরকারি ভূমি রেকর্ডে হালনাগাদ করার জন্য নামজারি বা মিউটেশন করতে হয়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদন করার সময় জমির মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং মালিকানা অর্জনের সূত্র উল্লেখ করতে হয়। উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পেলে ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দিতে হয়।
নামজারি না থাকলে পুরোনো খতিয়ানে আগের মালিকের নাম দেখা যেতে পারে। তাই শুধু বর্তমান খতিয়ান দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দলিল, ওয়ারিশের তথ্য ও মালিকানা হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা যাচাই করা প্রয়োজন।
খতিয়ান দেখলেই কি জমির মালিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়?
না। খতিয়ান জমির রেকর্ড ও মালিকানার তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি হলেও একে একমাত্র মালিকানার প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই করতে দলিল, আগের মালিকানার ধারাবাহিকতা, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য অংশ, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা এবং প্রয়োজনে আদালতের রায় বা ডিক্রি মিলিয়ে দেখতে হবে।
বিশেষ করে জমি কেনাবেচা বা ভাগ-বণ্টনের আগে সংশ্লিষ্ট দলিল ও রেকর্ড যাচাই করা জরুরি। কোনো তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া ভালো।
খতিয়ান না পেলে কোথায় যোগাযোগ করবেন?
অনলাইনে খতিয়ান খুঁজে না পেলে প্রথমে মৌজার নাম, জেএল নম্বর, জরিপের ধরন এবং নামের বানান আবার পরীক্ষা করুন। পুরোনো কোনো রেকর্ড অনলাইনে পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।
ভূমিসেবা-সংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তার জন্য সরকারি ভূমিসেবা হটলাইন ১৬১২২ নম্বরেও যোগাযোগ করা যায়।
সোহাগ/
