৯ম পে স্কেলের বকেয়া হিসাব হবে অনলাইনে, তৈরি হবে PDF বিল
নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন ও সম্ভাব্য বকেয়া হিসাব করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি অনলাইন ক্যালকুলেটর। এতে পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্য, ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া, বিশেষ সুবিধা এবং ইতোমধ্যে উত্তোলিত অর্থের হিসাব করে মাসভিত্তিক বকেয়া দেখার সুবিধা রয়েছে।
শুধু বকেয়া হিসাব নয়, একই ব্যবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বিল প্রস্তুত, কর্তন-আদায়ের হিসাব, প্রিন্ট এবং PDF তৈরির সুবিধাও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য বকেয়ার একটি হিসাব ও বিলের খসড়া তৈরি করতে পারবেন।
তবে এটি কোনো সরকারি ওয়েবসেবা বা অনুমোদিত বেতন নির্ধারণী সফটওয়্যার নয়। ক্যালকুলেটরের ফলাফল ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ ও নিজ দপ্তরের হিসাব শাখার তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
অনলাইন বকেয়া বেতন ক্যালকুলেটরে যেসব তথ্য দিতে হবে
ক্যালকুলেটরটি ব্যবহার করতে প্রথমে কর্মচারীর পরিচিতি ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। এতে নাম, পদবি, অফিস এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দেওয়ার ঘর রয়েছে।
বেতন হিসাবের জন্য প্রয়োজন হতে পারে:
-
বর্তমান বেতন গ্রেড
-
৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতন
-
পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ
-
নতুন বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ
-
নতুন স্কেলে সমান বা পরবর্তী উচ্চতর ধাপ
-
১ জুলাই ২০২৬ তারিখের ইনক্রিমেন্ট
-
১ জুলাই ২০২৭ তারিখের সম্ভাব্য ইনক্রিমেন্ট
ক্যালকুলেটরের বিবরণ অনুযায়ী, গ্রেড ও বর্তমান মূল বেতন নির্বাচন করলে কিছু তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বসানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহারকারী চাইলে নিজেও প্রয়োজনীয় ধাপের তথ্য দিতে পারবেন।
নতুন মূল বেতন কীভাবে হিসাব করবে?
ক্যালকুলেটরটিতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের জন্য একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রথমে বর্তমান মূল বেতন থেকে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন বাদ দিয়ে পার্থক্য বের করা হয়। এরপর নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে ওই পার্থক্য যোগ করে প্রাথমিক হিসাব তৈরি করা হয়।
পরবর্তী ধাপে নতুন স্কেলে সমান বেতন পাওয়া গেলে সেটি এবং না পাওয়া গেলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপ বিবেচনা করা হয়। এরপর নির্ধারিত ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করে নতুন মূল বেতনের হিসাব দেখানো হয়।
অর্থাৎ, ক্যালকুলেটরটি ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি ধাপে সম্ভাব্য নতুন মূল বেতন নির্ণয় করে।
মাসভিত্তিক বকেয়া বেতনের হিসাব দেখা যাবে
ক্যালকুলেটরের অন্যতম সুবিধা হলো, শুধু মোট বকেয়া নয়, প্রতিটি মাসের আলাদা হিসাবও দেখা যাবে।
এ জন্য বকেয়া শুরুর মাস এবং মোট কত মাসের হিসাব প্রয়োজন, তা নির্বাচন করার ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রতিটি মাসের বিবরণীতে দেখা যেতে পারে:
-
নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য মূল বেতন
-
ইতোমধ্যে উত্তোলিত মূল বেতন
-
মূল বেতনের পার্থক্য
-
প্রাপ্য ও উত্তোলিত বাড়িভাড়ার পার্থক্য
-
বিশেষ সুবিধার প্রাপ্য ও গৃহীত অর্থের পার্থক্য
-
অন্যান্য মাসিক সমন্বয়
-
মাসভিত্তিক মোট বকেয়া
-
নির্বাচিত সময়ের সর্বমোট বকেয়া
এতে কোন মাসে কত টাকা পাওনা হতে পারে, তা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা সহজ হবে।
আগে উত্তোলিত বেতন বাদ দিয়ে বকেয়া হিসাব
অনেক ক্ষেত্রে নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকর তারিখ থেকে কর্মচারীরা আগের নিয়মে বেতন উত্তোলন করে থাকেন। তাই সম্ভাব্য বকেয়া নির্ধারণে নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থ থেকে আগে পাওয়া বেতন ও ভাতা বাদ দিতে হয়।
এ জন্য ক্যালকুলেটরে ‘যা তুলেছেন’ নামে আলাদা অংশ রাখা হয়েছে।
এখানে ব্যবহারকারী গৃহীত মূল বেতন, বাড়িভাড়া, বিশেষ সুবিধা এবং অন্যান্য মাসিক সমন্বয়ের তথ্য দিতে পারবেন। এরপর ক্যালকুলেটরটি প্রাপ্য ও গৃহীত অর্থের পার্থক্য দেখাবে।
তবে আগে পাওয়া অর্থের কোন খাত কীভাবে সমন্বয় হবে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল। কেবল ক্যালকুলেটরের স্বয়ংক্রিয় হিসাবের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বিল তৈরির সুবিধা
বকেয়া হিসাবের পাশাপাশি এই ব্যবস্থায় বেতন বিল তৈরির জন্য দুটি পৃথক ফরমের সুবিধা রাখা হয়েছে।
টি.আর. ফরম-১৩: গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বিল প্রস্তুতের জন্য এই ফরমের কাঠামো রাখা হয়েছে। এতে নাম, পদবি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ভবিষ্য তহবিল হিসাব, টিআইএন, ব্যাংকসংক্রান্ত তথ্য এবং বেতন-ভাতার বিভিন্ন খাত পূরণের ব্যবস্থা রয়েছে।
টি.আর. ফরম-১৫: সরকারি কর্মচারীদের বেতন বিল প্রস্তুতের জন্য আলাদা ফরমের সুবিধা রয়েছে। এতে কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, কর্তন ও আদায়ের হিসাব সাজানো যাবে।
এ ছাড়া একাধিক কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিল প্রস্তুত, আগের তথ্য ব্যবহার করে নতুন বিল তৈরি এবং মোট বেতন-ভাতা ও কর্তনের হিসাব দেখার সুবিধাও রয়েছে বলে ক্যালকুলেটরটির বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
বকেয়া হিসাবের রিপোর্ট PDF ও প্রিন্ট করা যাবে
ক্যালকুলেটরে হিসাব সম্পন্ন করার পর বকেয়া বিবরণী প্রিন্ট করার সুবিধা রয়েছে। রিপোর্টটি A4 কাগজে প্রিন্টের উপযোগী করে সাজানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
টি.আর. ফরম-১৩ ও ফরম-১৫-এর ক্ষেত্রেও ফরম প্রিভিউ এবং PDF তৈরির সুবিধা রয়েছে। ফলে ব্যবহারকারী নিজের হিসাব ও বিলের খসড়া ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন।
তবে এই PDF বা প্রিন্ট করা কপি নিজে থেকে সরকারি অনুমোদিত বেতন বিল হয়ে যায় না। দাপ্তরিকভাবে জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
তথ্যের ব্যাকআপ রাখা যাবে, তবে সতর্ক থাকতে হবে
ক্যালকুলেটরটির আরেকটি সুবিধা হলো JSON ফাইলে তথ্য ব্যাকআপ ও পরে পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা। ব্রাউজারের তথ্য মুছে গেলে বা অন্য কম্পিউটারে কাজ চালাতে হলে সংরক্ষিত ব্যাকআপ ফাইল ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে এই ফাইলে নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, বেতন ও ব্যাংকসংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য থাকতে পারে। তাই ফাইলটি নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে। অপরিচিত ব্যক্তি বা অনিরাপদ ওয়েবসাইটে ব্যাকআপ ফাইল শেয়ার করা উচিত নয়।
ক্যালকুলেটরের হিসাব কি চূড়ান্ত বকেয়া হিসেবে ধরা যাবে?
না। ক্যালকুলেটরটি একটি হিসাব-সহায়ক টুল। এতে দেওয়া বেতন স্কেল, ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া, বিশেষ সুবিধা এবং পর্যায়ভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির হার সঠিক না হলে ফলাফলও ভুল হতে পারে।
বিশেষ করে পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, ব্যক্তিগত বেতন নির্ধারণী আদেশ এবং আগে উত্তোলিত অর্থের সমন্বয়ের মতো বিষয় চূড়ান্ত হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
তাই ক্যালকুলেটরে পাওয়া অঙ্ককে সম্ভাব্য হিসাব হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ ও বকেয়া বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সরকারি প্রজ্ঞাপন, অনুমোদিত পে-ফিকেশন এবং হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কেন কাজে লাগতে পারে?
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সম্ভাব্য বকেয়া হিসাব করতে গিয়ে অনেক কর্মচারীকে একাধিক মাসের বেতন, ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য সুবিধা আলাদাভাবে মিলিয়ে দেখতে হয়।
এই ধরনের অনলাইন ক্যালকুলেটর ব্যক্তিগত হিসাব প্রস্তুত, মাসভিত্তিক পার্থক্য দেখা এবং বেতন বিলের খসড়া তৈরির কাজে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে একই জায়গায় হিসাব, রিপোর্ট ও PDF তৈরির সুবিধা থাকায় সময় বাঁচতে পারে।
তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মনে রাখতে হবে, ক্যালকুলেটরের ফলাফল সরকারি পাওনা নির্ধারণের চূড়ান্ত দলিল নয়। দপ্তরের হিসাব শাখা ও অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের যাচাই ছাড়া কোনো হিসাবকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
সোহাগ/
