এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণে কি নম্বর কমবে? জানাল বোর্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করলে চলতি বছর কোনো শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর কমানো হবে না। তবে খাতা পুনরায় যাচাইয়ের সময় কোনো শিক্ষার্থী অতিরিক্ত নম্বর পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হলে সেই নম্বর যোগ করা হবে। অর্থাৎ পুনর্নিরীক্ষণের পর নম্বর বাড়তে পারে, কিন্তু কমবে না।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি জানান, চলতি বছরের জন্য নম্বর কমানোর বিষয়টি শিথিল রাখা হয়েছে।
আগামী বছর থেকে কমতে পারে প্রাপ্ত নম্বরও
শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, চলতি বছর ভুলবশত বা অন্য কোনো কারণে কোনো শিক্ষার্থী যে নম্বর পেয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণের পর তা কমানো হবে না। তবে যাচাইয়ে অতিরিক্ত নম্বর পাওয়ার যোগ্যতা পাওয়া গেলে সেই নম্বর যুক্ত করা হবে।
তিনি আরও জানান, আগামী বছর থেকে খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে। কোনো শিক্ষার্থী ভুলক্রমে বেশি নম্বর পেয়ে থাকলে পুনর্মূল্যায়নের পর তা কমানোও হতে পারে। অর্থাৎ পরবর্তী বছরগুলোতে পুনর্মূল্যায়নের ফলে নম্বর বাড়া ও কমা, দুই ধরনের পরিবর্তনই সম্ভব হবে।
৭ নভেম্বর পর্যন্ত এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন
গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলে প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ নিচ্ছেন।
শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। সরাসরি বা ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করবেন যেভাবে
ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। এরপর কয়েকটি ধাপে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
১. প্রথমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে।
২. ড্রপডাউন তালিকা থেকে নিজের শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
৩. পরবর্তী ধাপে মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর এই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।
৪. এরপর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। যেসব বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করতে হবে।
৫. বিষয় নির্বাচন শেষে ‘ফি প্রদান করুন’ অপশনে গিয়ে নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করতে হবে।
প্রতি পত্রের আবেদন ফি ১৫০ টাকা
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পত্রের জন্য আবেদন ফি ১৫০ টাকা। দ্বিপত্রবিশিষ্ট কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে।
ফি পরিশোধ করা যাবে বিকাশ, নগদ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে। পেমেন্টের বিস্তারিত নির্দেশনা আবেদন পোর্টালের ‘পে’ অপশনে পাওয়া যাবে।
ফি পরিশোধের পর আবার আবেদন পোর্টালে প্রবেশ করে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। একবার আবেদন জমা দেওয়ার পর নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই পদ্ধতিতে আবেদন করা যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি
ফি পরিশোধের আগে নির্বাচিত বিষয় পরিবর্তন বা বাদ দিতে চাইলে ‘মুছে ফেলুন’ অপশন ব্যবহার করা যাবে। তবে শুধু যেসব বিষয়ের জন্য ফি দেওয়া হয়নি, সেগুলোই প্রত্যাহার করা সম্ভব।
অন্যদিকে, একবার ফি জমা দিয়ে আবেদন সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট বিষয় আর বাতিল করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই আবেদন ফি ফেরত দেওয়া হবে না।
তাই শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে বিষয় নির্বাচন, পত্রের সংখ্যা এবং ফি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চলতি বছর পুনর্নিরীক্ষণের পর নম্বর কমানো হবে না বলে বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফলে ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।
সোহাগ/
