iQOO Neo 12 বনাম OnePlus Ace 7: ৯ হাজার mAh ব্যাটারির দুই ফোনে কে এগিয়ে
ফোন দুটি চীনের বাজারে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে উন্মোচন করা হয়েছে। iQOO Neo 12 এসেছে ২৮ অক্টোবর, আর OnePlus Ace 7 উন্মোচন করা হয়েছে ২৯ অক্টোবর। স্পেসিফিকেশনে অনেক মিল থাকলেও ডিসপ্লে, ক্যামেরা, স্টোরেজ, কুলিং প্রযুক্তি ও পানিরোধী সক্ষমতায় রয়েছে বেশ কিছু পার্থক্য।
বাংলাদেশের স্মার্টফোনপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, গেমিং ও দৈনন্দিন ব্যবহারের কথা বিবেচনায় কোন ফোনটি বেশি সুবিধা দিতে পারে?
ডিজাইন ও ওজনে কোনটি এগিয়ে?
আকারের দিক থেকে iQOO Neo 12 ও OnePlus Ace 7 প্রায় কাছাকাছি। তবে OnePlus Ace 7 সামান্য খাটো হলেও কিছুটা বেশি চওড়া।
iQOO Neo 12-এর মাপ ১৬৩.৪২ × ৭৫.৮৯ মিলিমিটার। অন্যদিকে OnePlus Ace 7-এর মাপ ১৬২.৩০ × ৭৭.৩৭ মিলিমিটার।
পুরুত্ব ও ওজনেও সামান্য পার্থক্য রয়েছে। iQOO Neo 12-এর ওজন সংস্করণভেদে ২২৫ থেকে ২২৯ গ্রাম। OnePlus Ace 7-এর ওজন ২১৭ থেকে ২২৩ গ্রাম। অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে OnePlus-এর ফোনটি কিছুটা হালকা।
ডিজাইনের ক্ষেত্রে OnePlus Ace 7-এ অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম ও সামনে Oppo Crystal Shield গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে। Midnight Black ও Glossy White সংস্করণে ফাইবারগ্লাসের ব্যাক প্যানেল রয়েছে। Tempered Fire সংস্করণে পাওয়া যাবে গ্লাস ব্যাক ও বিশেষ ফিনিশের ফ্রেম।
অন্যদিকে iQOO Neo 12 পাওয়া যাচ্ছে Shadow Black, Frostblade Blue ও Contender রঙে। Contender সংস্করণে ফোনের অবস্থান ও দেখার কোণ পরিবর্তনের সঙ্গে আলোর প্রতিফলনেও পরিবর্তন দেখা যায়।
ডিসপ্লেতে কার সুবিধা বেশি?
দুটি ফোনেই সর্বোচ্চ ১৮৫ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে রয়েছে। ফলে গেমিং ও দ্রুত স্ক্রলিংয়ের ক্ষেত্রে মসৃণ অভিজ্ঞতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ডিসপ্লের প্রযুক্তিতে পার্থক্য আছে। iQOO Neo 12-এ রয়েছে আরও বেশি রেজল্যুশনের 2K ডিসপ্লে। অন্যদিকে OnePlus Ace 7-এ ব্যবহার করা হয়েছে LTPO প্যানেল।
উচ্চ রেজল্যুশনের কারণে iQOO Neo 12 ছবি ও ভিডিওতে বেশি সূক্ষ্ম ডিটেইল দেখাতে পারে। আর LTPO প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে OnePlus Ace 7 ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারে, যা বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
প্রসেসর ও গেমিং পারফরম্যান্স
পারফরম্যান্সের জায়গায় দুই ফোনেই রয়েছে Qualcomm-এর Snapdragon 8 Elite Gen 5 চিপসেট। তাই কাগজে-কলমে প্রসেসিং ক্ষমতার দিক থেকে দুটিকে একই শ্রেণির প্রতিদ্বন্দ্বী বলা যায়।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, দুই ফোনেই বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যান রয়েছে। দীর্ঘ সময় গেম খেলার সময় ফোনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে।
তবে দুই ব্র্যান্ডের কুলিং সিস্টেমের নকশা এক নয়। ফলে বাস্তবে কোন ফোন বেশি ভালো তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তা জানতে স্বাধীন পারফরম্যান্স ও তাপমাত্রা পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাটারি ও চার্জিংয়ে একই সুবিধা
ব্যাটারির ক্ষেত্রে iQOO Neo 12 ও OnePlus Ace 7 প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে। দুটি ফোনেই দেওয়া হয়েছে ৯,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি।
এর সঙ্গে রয়েছে ১০০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধা। ফলে দীর্ঘ সময় গেম খেলা, ভিডিও দেখা কিংবা ভারী অ্যাপ ব্যবহারের জন্য দুটি ফোনই আকর্ষণীয় হতে পারে।
তবে প্রকৃত ব্যাটারি ব্যাকআপ নির্ভর করবে ডিসপ্লে সেটিংস, গেমিং, নেটওয়ার্ক ব্যবহার ও সফটওয়্যার অপটিমাইজেশনের ওপর।
ক্যামেরায় এগিয়ে OnePlus Ace 7?
ক্যামেরার ক্ষেত্রে OnePlus Ace 7-এর বড় আকর্ষণ ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা। অন্যদিকে iQOO Neo 12-এর উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো ১ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজের বিকল্প।
তবে শুধু মেগাপিক্সেল দিয়ে ক্যামেরার মান নির্ধারণ করা যায় না। ছবি ও ভিডিওর প্রকৃত মান বুঝতে সেন্সর, ইমেজ প্রসেসিং এবং বাস্তব ক্যামেরা পরীক্ষার ফলাফল দেখতে হবে।
পানিরোধী সক্ষমতায় কোনটি এগিয়ে?
পানিরোধী সুরক্ষার ক্ষেত্রে OnePlus Ace 7-এর সার্টিফিকেশনের তালিকা দীর্ঘ। ফোনটিতে রয়েছে IP66, IP68, IP69 ও IP69K রেটিং।
অন্যদিকে iQOO Neo 12-এ রয়েছে IP68 ও IP69 রেটিং। পাশাপাশি iQOO জানিয়েছে, ফোনটির কুলিং ফ্যান অ্যাসেম্বলিও IPX8 ও IPX9 পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
বাংলাদেশে দাম কত হতে পারে?
এখন পর্যন্ত সরবরাহ করা তথ্যের মধ্যে iQOO Neo 12 ও OnePlus Ace 7-এর চীনা বাজারের নির্দিষ্ট বিক্রয়মূল্য উল্লেখ নেই। তাই বাংলাদেশি টাকায় নির্ভরযোগ্য দাম বা সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
ফোন দুটি বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আসবে কি না, এলেও কবে আসবে এবং দাম কত হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে ক্রেতারা তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। চীনা বাজারের দাম ও বাংলাদেশের বাজারমূল্য এক নাও হতে পারে। আমদানি খরচ, কর, ডিস্ট্রিবিউশন ও বিক্রেতার মার্জিনের কারণে দামে পার্থক্য তৈরি হতে পারে।
iQOO Neo 12 নাকি OnePlus Ace 7, কোনটি কেনা ভালো?
স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, বেশি রেজল্যুশনের 2K ডিসপ্লে ও ১ টেরাবাইট স্টোরেজের বিকল্প চাইলে iQOO Neo 12 আকর্ষণীয় হতে পারে। অন্যদিকে ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, LTPO ডিসপ্লে, তুলনামূলক কম ওজন এবং বেশি পানিরোধী সার্টিফিকেশন চাইলে OnePlus Ace 7 বিবেচনায় রাখা যায়।
তবে গেমারদের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুটি ফোনের কুলিং পারফরম্যান্স, দীর্ঘ সময় গেম খেলার অভিজ্ঞতা এবং ব্যাটারি পরীক্ষার ফলাফল দেখা জরুরি। বাংলাদেশে সম্ভাব্য দাম জানা গেলে কোন ফোনটি টাকার হিসাবে বেশি সুবিধা দেবে, সেটিও পরিষ্কার হবে।
