| ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

Infinix GT 50 Pro বনাম GT 30 Pro: ৭টি বড় পার্থক্য

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ২০:০৬:১১
Infinix GT 50 Pro বনাম GT 30 Pro: ৭টি বড় পার্থক্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: গেমিং স্মার্টফোনের বাজারে নতুন সংযোজন Infinix GT 50 Pro। আগের GT 30 Pro-এর তুলনায় নতুন মডেলে এসেছে আরও শক্তিশালী প্রসেসর, বিল্ট-ইন লিকুইড কুলিং প্রযুক্তি, বড় ব্যাটারি এবং গেম খেলার জন্য নতুন কন্ট্রোলার ও ডকিং অ্যাকসেসরিজ। তবে এসব সুবিধার সঙ্গে বেড়েছে দামও। ফলে প্রশ্ন উঠছে, পুরোনো ফোন থেকে নতুন মডেলে আপগ্রেড করা কতটা যুক্তিযুক্ত?

ভারতে Infinix GT 50 Pro-এর ১২ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের দাম রাখা হয়েছে ৬৯,৯৯৯ রুপি। অন্যদিকে, বাংলাদেশে GT 30 Pro-এর ঘোষিত দাম ছিল ৩৯,৯৯৯ টাকা থেকে শুরু। তবে দুই দেশের বাজারদর সরাসরি তুলনা করা যাবে না। GT 50 Pro-এর বাংলাদেশি অফিসিয়াল দাম ও বিক্রির তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় দামকে বাংলাদেশের দাম হিসেবে ধরা ঠিক হবে না।

Infinix GT 50 Pro বনাম GT 30 Pro: ৭টি বড় আপগ্রেড

১. আরও শক্তিশালী প্রসেসর

Infinix GT 30 Pro-তে রয়েছে MediaTek Dimensity 8350 Ultimate প্রসেসর। নতুন GT 50 Pro-তে ব্যবহার করা হয়েছে Dimensity 8400 Ultimate চিপসেট এবং Mali-G720 MC7 গ্রাফিকস ইউনিট।

নতুন প্রসেসর ভারী গেম, মাল্টিটাস্কিং এবং গ্রাফিকসনির্ভর কাজের ক্ষেত্রে বাড়তি সক্ষমতা দিতে পারে। তবে বাস্তবে গেম কতটা মসৃণ চলবে, তা নির্ভর করবে ফোনের তাপ নিয়ন্ত্রণ, সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন ও গেমের সেটিংসের ওপরও।

২. ফোনের ভেতরেই লিকুইড কুলিং

দীর্ঘ সময় গেম খেললে স্মার্টফোন গরম হয়ে যেতে পারে। GT 30 Pro-তে তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ভ্যাপার চেম্বার কুলিং ব্যবস্থা রয়েছে। নির্দিষ্ট সংস্করণ বা বান্ডেলে পাওয়া যায় আলাদা ম্যাগনেটিক কুলারও।

অন্যদিকে, GT 50 Pro-তে রয়েছে HydroFlow লিকুইড কুলিং প্রযুক্তি। এতে ফোনের ভেতরেই তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। ফলে আলাদা কুলার লাগানোর ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।

তবে দীর্ঘ সময় গেম খেলার পর তাপমাত্রা ও পারফরম্যান্সে কতটা পার্থক্য পাওয়া যাবে, তা স্বাধীন পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যাবে।

৩. ব্যাটারির ধারণক্ষমতা বেড়েছে

ব্যাটারির ক্ষেত্রেও নতুন মডেলে উন্নতি রয়েছে। GT 30 Pro-তে ৫,৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ার ব্যাটারি থাকলেও GT 50 Pro-তে দেওয়া হয়েছে ৬,৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ার ব্যাটারি।

অর্থাৎ, নতুন ফোনে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এতে দীর্ঘ সময় গেম খেলা, ভিডিও দেখা ও দৈনন্দিন ব্যবহারে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

তবে শুধু ব্যাটারির আকার দেখে ব্যাকআপ নিশ্চিত করা যায় না। স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, গেমের গ্রাফিকস সেটিংস, নেটওয়ার্ক এবং প্রসেসরের ব্যবহারও ব্যাটারির স্থায়িত্বে প্রভাব ফেলে।

৪. গেমিং ট্রিগারে নতুন সুবিধা

GT সিরিজের ফোনগুলোতে গেম খেলার জন্য আলাদা শোল্ডার ট্রিগার রয়েছে। GT 50 Pro-তে এসেছে GT Triggers 2.0, যেখানে চাপের মাত্রা অনুযায়ী ইনপুট নিয়ন্ত্রণের সুবিধা রয়েছে।

এ ধরনের ট্রিগার দিয়ে শুটিং, লক্ষ্য নির্ধারণ বা অন্য কিছু গেমিং অ্যাকশন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক গেম খেলেন, তাদের কাছে এটি কাজে লাগতে পারে।

তবে সব গেমে একই সুবিধা পাওয়া যাবে না। গেমের সাপোর্ট এবং ব্যবহারকারীর অভ্যাসের ওপর এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে।

৫. অনলাইন গেমিংয়ের জন্য আলাদা নেটওয়ার্ক চিপ

GT 50 Pro-তে যুক্ত হয়েছে Infinix-এর N1 নেটওয়ার্ক চিপসেট ও ৩৬০ ডিগ্রি অ্যান্টেনা ডিজাইন। কোম্পানির দাবি, এই প্রযুক্তি সংযোগের স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

অনলাইন গেমে নেটওয়ার্ক স্থিতিশীল থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন চিপ থাকলেই দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় ল্যাগ কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক, আশপাশের সিগন্যালের বাধা এবং ফোন ব্যবহারের ধরনও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

৬. টাচ রেসপন্স আরও দ্রুত

দুই ফোনেই সর্বোচ্চ ১৪৪ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে রয়েছে। তাই ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেটের দিক থেকে বড় পরিবর্তন নেই।

তবে টাচ স্যাম্পলিং রেটে পার্থক্য রয়েছে। GT 30 Pro-তে এটি ২৪০ হার্টজ, আর GT 50 Pro-তে সর্বোচ্চ ৩৩০ হার্টজ।

টাচ স্যাম্পলিং রেট বেশি হলে স্ক্রিন আঙুলের স্পর্শ আরও ঘন ঘন শনাক্ত করতে পারে। ফলে কিছু গেমে নিয়ন্ত্রণ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। তবে বাস্তবে কতটা পার্থক্য বোঝা যাবে, তা গেম ও সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল।

৭. কন্ট্রোলার ও ডকিং স্টেশন

GT 50 Pro-এর অন্যতম আকর্ষণ এর গেমিং অ্যাকসেসরিজ। ফোনটির সঙ্গে প্রচারিত বান্ডেলে রয়েছে MagCharge Cooler 2.0, GT NX Controller এবং GT NX Station ডক।

কন্ট্রোলারের সাহায্যে হাতে ধরে গেম খেলার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ডক ব্যবহার করে ফোনকে বড় স্ক্রিনের সঙ্গে যুক্ত করে কনসোলের মতো সেটআপ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।

তবে এসব অ্যাকসেসরিজ সবার কাজে লাগবে না। যারা মূলত ফোনের টাচস্ক্রিনেই গেম খেলেন, তাদের জন্য বাড়তি সুবিধার মূল্য তুলনামূলক কম হতে পারে।

ক্যামেরায় কি উন্নতি হয়েছে?

ক্যামেরার ক্ষেত্রে GT 50 Pro-কে সরাসরি উন্নত বলা কঠিন। GT 30 Pro-তে রয়েছে ১০৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা। নতুন GT 50 Pro-তে প্রধান ক্যামেরা ৫০ মেগাপিক্সেলের, তবে এতে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন বা OIS রয়েছে। দুই ফোনেই ৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা এবং ১৩ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা রয়েছে।

মেগাপিক্সেল কম হলেই ছবি খারাপ হবে, এমন নয়। সেন্সরের মান, ইমেজ প্রসেসিং, আলো এবং স্ট্যাবিলাইজেশনও ছবির মান নির্ধারণ করে। তাই ক্যামেরা যাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তাদের আপগ্রেডের আগে বাস্তব ছবির নমুনা ও ক্যামেরা পরীক্ষার ফল দেখা উচিত।

দুই ফোনের ডিসপ্লের সর্বোচ্চ ঘোষিত উজ্জ্বলতাও ৪,৫০০ নিট। অর্থাৎ, এই স্পেসিফিকেশনে বড় কোনো পরিবর্তন নেই।

বাংলাদেশে কোন ফোনটি কেনা ভালো?

বাংলাদেশের বাজারে GT 30 Pro-এর ঘোষিত দাম ছিল ৩৯,৯৯৯ টাকা থেকে শুরু। GT 50 Pro-এর ভারতীয় দাম ৬৯,৯৯৯ রুপি হলেও বাংলাদেশের অফিসিয়াল দাম নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দুই ফোনের স্থানীয় মূল্যপার্থক্য নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

GT 30 Pro ব্যবহারকারীদের জন্য: বর্তমান ফোনে গেম খেলতে সমস্যা না হলে শুধু নতুন মডেল এসেছে বলে আপগ্রেড করার প্রয়োজন নেই। প্রসেসর, কুলিং, ব্যাটারি ও কন্ট্রোলারের সুবিধা সত্যিই দরকার কি না, তা বিবেচনা করা উচিত।

নতুন গেমিং ফোন কিনতে চাইলে: বাজেটের পাশাপাশি গেমিং পারফরম্যান্স, ব্যাটারি, ওয়ারেন্টি এবং স্থানীয় বাজারে অ্যাকসেসরিজের প্রাপ্যতা যাচাই করুন। GT 50 Pro-এর কন্ট্রোলার ও ডক নিয়মিত ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকলে বান্ডেলটি আকর্ষণীয় হতে পারে।

ক্যামেরাকে গুরুত্ব দিলে: শুধু প্রসেসর বা মেগাপিক্সেল দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দুই ফোনের বাস্তব ছবির মান তুলনা করুন।

Infinix GT 50 Pro-তে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো নতুন প্রসেসর, ৬,৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ার ব্যাটারি, বিল্ট-ইন লিকুইড কুলিং এবং কনসোলের মতো গেমিং সেটআপ তৈরির সুবিধা। তবে GT 30 Pro-এর ১৪৪ হার্টজ ডিসপ্লে ও গেমিং-কেন্দ্রিক বৈশিষ্ট্যও এখনো প্রাসঙ্গিক।

তাই নতুন ফোনটি সবার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেরা আপগ্রেড নয়। যারা উন্নত কুলিং ও বাড়তি গেমিং অ্যাকসেসরিজ চান, তারা GT 50 Pro বিবেচনা করতে পারেন। আর যারা মূলত টাচস্ক্রিনে গেম খেলেন, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি খরচের বিপরীতে পাওয়া সুবিধাগুলো যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন খবর সামনে এসেছে। ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন রোমেরো

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন রোমেরো

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব সরাসরি নাকচ করে ...

ব্যালন ডি’অর জিতে কত টাকা পান হ্যারি কেইন

ব্যালন ডি’অর জিতে কত টাকা পান হ্যারি কেইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যালন ডি’অর ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার। এই ট্রফি জেতা মানে শুধু মাঠের ...