১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়তে পারে ১৩৯ টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বর্তমান ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করা হতে পারে। সে হিসাবে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কার্যকর হলে গ্রাহককে প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ১৩৯ টাকা দিতে হতে পারে।
তবে এখনো নতুন দাম চূড়ান্ত হয়নি। বিইআরসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭৬ টাকাকে প্রস্তাবিত দাম হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে এলপিজির দাম সমন্বয় নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বিভিন্ন পর্যায়ের চার্জ ও ভোক্তাপর্যায়ের দাম নির্ধারণের বিষয়ে সুপারিশ তুলে ধরে।
প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, গণশুনানির পর সুপারিশ ও মতামত বিবেচনা করে বিইআরসি নতুন দাম নির্ধারণ করে। সংশ্লিষ্টদের বরাতে আগামী সপ্তাহে নতুন দাম ঘোষণা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়।
কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে এলপিজি আমদানি, মজুত ও বোতলজাতকরণ, পরিবহন এবং খুচরা বিক্রির বিভিন্ন পর্যায়ের খরচ বিবেচনা করা হয়েছে।
প্রতি কেজি এলপিজির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবিত চার্জগুলো হলো—
-
মজুত ও বোতলজাতকরণ চার্জ: বর্তমানে ১৬.৭৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩.৪৮ টাকা করার সুপারিশ।
-
ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ: বর্তমানে ৪.১৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬.৬৭ টাকা করার সুপারিশ।
-
রিটেইলার চার্জ: বর্তমানে ৩.৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫.৮৩ টাকা করার সুপারিশ।
-
রিটেইলার পয়েন্টে প্রতি কেজির মূল্য: ১৫৩.৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬৪.৬৮ টাকা করার সুপারিশ।
এগুলো কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ করা হার। বিইআরসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মূল্য বা চার্জের হার পরিবর্তিত হতে পারে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এতে প্রতি সিলিন্ডারে সম্ভাব্য দাম বাড়বে ১৩৯ টাকা।
| বিষয় | দাম |
|---|---|
| বর্তমান উল্লেখিত দাম | ১,৮৩৭ টাকা |
| প্রস্তাবিত দাম | ১,৯৭৬ টাকা |
| সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধি | ১৩৯ টাকা |
উল্লেখিত হিসাবটি কারিগরি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে করা হয়েছে। চূড়ান্ত মূল্য ঘোষণার পরই গ্রাহকরা নতুন নির্ধারিত দাম সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।
গণশুনানিতে ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনার বিষয়টি তুলে ধরেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এলপিজির দাম নির্ধারণের সময় গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করা বিইআরসির দায়িত্ব।
শুনানিতে জ্বালানি বিক্রিতে অতিরিক্ত দাম নেওয়া এবং কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট বক্তারা বলেন, শুধু ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব নয়, ভোক্তাদের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবও মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
এখনই প্রস্তাবিত দামকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন মূল্য কার্যকর হবে কি না এবং হলে কত টাকা নির্ধারণ করা হবে, তা বিইআরসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করছে।
এলপিজি কেনার সময় গ্রাহকদের নির্ধারিত মূল্য সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া এবং বিক্রেতার কাছ থেকে মূল্য নিশ্চিত হওয়া উচিত। ঘোষিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ এসেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হবে বিইআরসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।
সিদ্দিকা/
