পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি পেল বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহও শুরু করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রোসাটমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিকভাবে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য তৈরি জ্বালানির প্রথম চালান সম্প্রতি বাংলাদেশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের ভবিষ্যৎ রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন জ্বালানির চালানও দেশে আনা হয়েছে।
প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর রিঅ্যাক্টরকে ধাপে ধাপে পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়া হচ্ছে। অক্টোবরের শুরুতে ইউনিটটিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়েছে।
২৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, প্রথম ইউনিটের বি-২ পর্যায়ের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। পরবর্তী ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন ছিল।
পাওয়ার স্টার্টআপ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও কারিগরি কার্যক্রম পরীক্ষা করে দেখা হবে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সম্পন্ন করতে হবে।
দ্বিতীয় ইউনিটের জন্যও আসছে পারমাণবিক জ্বালানি
রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য তৈরি অ্যাসেম্বলিগুলো রাশিয়ার নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ কার্গো বিমানে এগুলোর প্রথম চালান বাংলাদেশে আনা হয়।
রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর জ্বালানির কনটেইনারগুলো নির্ধারিত নতুন জ্বালানি সংরক্ষণাগারে নেওয়া হয়েছে। ব্যবহারের আগে প্রতিটি জ্বালানি অ্যাসেম্বলির দৃশ্যমান ও যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে জ্বালানির কারিগরি বৈশিষ্ট্য এবং পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তার শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি, প্রকল্পের প্রধান ঠিকাদার এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারকের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিশন এসব পরিদর্শন কার্যক্রম তদারক করবে বলে জানিয়েছে রোসাটম।
দুটি ইউনিটে মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার নকশায় তৈরি দুটি জেনারেশন ৩+ ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের পরিকল্পিত উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
প্রকল্পটির নকশা ও নির্মাণকাজে রোসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রধান ডিজাইনার ও ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে।
রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থায় নতুন একটি উৎস যুক্ত হবে। তবে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি নির্ভর করবে পরবর্তী পরীক্ষা, ধাপে ধাপে ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর।
সোহাগ/
