পঞ্চগড় থেকে এভারেস্ট দেখার দাবি, কতটা সত্য ছবির?
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে হিমালয়ের বরফঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অভিজ্ঞতা অনেকেরই পরিচিত। এবার সেখান থেকেই পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট ও মাকালু দেখার দাবি করেছেন অভিযাত্রী ফিরোজ আল সাবাহ। তাঁর প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। তবে ছবিতে দেখা শৃঙ্গগুলোর পরিচয় এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
২৬ অক্টোবর ভোরে কী দেখেছিলেন অভিযাত্রী?
ফিরোজ আল সাবাহর বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর ভোর ৬টা ২০ মিনিটের দিকে পঞ্চগড়ের একটি স্থান থেকে দূরের পর্বতশৃঙ্গ দেখার চেষ্টা করছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তুষার নামে আরেক অভিযাত্রী। কয়েক দিন ধরে অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় থাকার পর সেদিন ভোরে তাঁরা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছান।
তাঁর দাবি, সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ার পর দিগন্তে বরফঢাকা পর্বতের অবয়ব স্পষ্ট হতে শুরু করে। সেই দৃশ্য দেখে তিনি সেটিকে মাউন্ট এভারেস্ট বলে শনাক্ত করেন এবং ক্যামেরায় ছবি তোলেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, দূরত্ব ছিল প্রায় ৩০০ কিলোমিটার।
পঞ্চগড় থেকে এভারেস্ট দেখা কি সম্ভব?
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও আশপাশের এলাকা থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে মেঘ, কুয়াশা ও বাতাসে জলীয়বাষ্প কম থাকলে পর্বতশৃঙ্গ দেখার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে কোনো দূরবর্তী শৃঙ্গ দৃশ্যমান হওয়া এবং ছবিতে সেটিকে নির্দিষ্ট পর্বত হিসেবে শনাক্ত করা এক বিষয় নয়।
এভারেস্ট ও মাকালু—দুটি পর্বতই হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত। পঞ্চগড় থেকে তোলা কোনো ছবিতে এগুলোর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হলে ছবির সঠিক অবস্থান, ক্যামেরার দিক, লেন্সের বিবরণ, দৃশ্যমানতার পরিস্থিতি এবং পর্বতশৃঙ্গের অবস্থানের সঙ্গে ছবির মিল যাচাই করা প্রয়োজন।
সামাজিক মাধ্যমে ছবি প্রকাশের পর আলোচনা
ফিরোজ আল সাবাহর দাবি অনুযায়ী, ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ ছবিতে দেখা পর্বতশৃঙ্গের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ বা আলোকচিত্রীর আত্মবিশ্বাসের ভিত্তিতে শৃঙ্গটির পরিচয় নিশ্চিত করা যায় না। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ যাচাই বা বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ সামনে এলে দাবিটির সত্যতা আরও স্পষ্ট হতে পারে।
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড়ে বাড়ে পর্যটকদের আগ্রহ
প্রতি বছর আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখতে পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীরা ভিড় করেন। ভোরের আলোয় বরফঢাকা শৃঙ্গের রং বদলে যাওয়ার দৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দা ও আলোকচিত্রীদেরও আকর্ষণ করে।
এবার এভারেস্ট ও মাকালু দেখার দাবি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে দাবিটি নিশ্চিত হওয়ার আগে ছবির পরিচয়কে যাচাই করা তথ্য হিসেবে প্রচার না করাই যুক্তিযুক্ত।
সব মিলিয়ে, পঞ্চগড় থেকে এভারেস্ট ও মাকালু দেখার দাবি নিঃসন্দেহে কৌতূহল জাগিয়েছে। কিন্তু ছবিতে ঠিক কোন পর্বতশৃঙ্গ দেখা গেছে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সোহাগ/
