| ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

২০২৬ Bajaj Pulsar N160 SS 4V: ডিজাইন ও ফিচার রিভিউ

বিশ্ব ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ আগস্ট ১৮ ০৯:২৭:২৩
২০২৬ Bajaj Pulsar N160 SS 4V: ডিজাইন ও ফিচার রিভিউ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ মডেলের Bajaj Pulsar N160 SS 4V-তে মূল ডিজাইন ও স্ট্রিটফাইটার লুক ধরে রেখেছে Bajaj। তবে নতুন গ্রাফিক্স, উন্নত ফিচার এবং আধুনিক ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টারের মাধ্যমে বাইকটিতে কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ডিজাইন ও স্টাইলিং

সাইড থেকে দেখলে Pulsar N160 SS 4V-এর পরিচিত নেকেড স্ট্রিটফাইটার ডিজাইন চোখে পড়ে। 4V মডেলের আকার ও মাত্রা 2V সংস্করণের সঙ্গে একই রাখা হয়েছে।

ডিজাইন বেশ পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক। বিশেষ করে আন্ডারবেলি এক্সহস্ট বাইকটিকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে, যা এই সেগমেন্টের অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী বাইকে দেখা যায় না।

সামনের অংশে রয়েছে প্রজেক্টর হেডল্যাম্প, টুইন-ব্রাউ LED DRL এবং গোল্ডেন ৩৭ মিমি USD ফর্ক। পেছনে আগের মতো X-আকৃতির LED টেইলল্যাম্প ও টাইয়ার-হাগার দেওয়া হয়েছে।

ট্যাংক শ্রাউড ও টেইল সেকশনে নতুন গ্রাফিক্স যোগ করা হয়েছে। Black-Red কালার কম্বিনেশন বেশ আকর্ষণীয়। পাশাপাশি White-Red এবং Nebula Blue রঙের অপশনও রয়েছে।

বিল্ড কোয়ালিটি

দামের তুলনায় বাইকের বিল্ড কোয়ালিটি সন্তোষজনক। পুরো বাইকে ফিট ও ফিনিশিংও বেশ ভালো। তবে তার ব্যবস্থাপনায় আরও কিছুটা যত্ন নেওয়া যেত। বিশেষ করে USD ফর্কের পাশে ব্রেকের তারগুলো কিছুটা খোলা অবস্থায় দেখা যায়।

ফিচার ও ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার

Pulsar N160 SS 4V-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি হলো এর ৫ ইঞ্চির TFT ডিসপ্লে। এতে Bluetooth ও Wi-Fi কানেক্টিভিটি, Google Maps মিররিং, একাধিক রাইডিং মোড, সুইচেবল ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, ডুয়াল-চ্যানেল ABS, USB Type-C চার্জিং পোর্ট এবং অ্যাডজাস্টেবল ব্রেক ও ক্লাচ লিভার রয়েছে।

ডিসপ্লেতে দিন ও রাতের জন্য আলাদা মোড রয়েছে। রেজোলিউশন যথেষ্ট ভালো হলেও টাচ বা ইনপুট রেসপন্সে সামান্য বিলম্ব অনুভূত হতে পারে।

বাইকে মোট পাঁচটি রাইডিং মোড রয়েছে:

- Sport

- Road

- Rain

- Off-road

- Tour

Sport, Road ও Rain মোডে থ্রটল রেসপন্স পরিবর্তিত হয়। Off-road মোড চালু করলে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল বন্ধ হয়ে যায়। Tour মোডে মূলত অতিরিক্ত তথ্য দেখানো হয়, যেমন Distance to Empty বা DTE। এ মোডে Road-এর মতোই থ্রটল ম্যাপ রাখা হয়েছে।

রাইডিং মোড পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত নয়। মোড বদলাতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে এবং কিছু ক্ষেত্রে রাইডারের দৃষ্টি রাস্তা থেকে সরাতে হয়, যা চলন্ত অবস্থায় খুব একটা সুবিধাজনক নয়।

ট্র্যাকশন কন্ট্রোল চাইলে ম্যানুয়ালভাবেও বন্ধ করা যায়।

Google Maps ও কানেক্টিভিটি

Wi-Fi-এর মাধ্যমে ফোনকে বাইকের সঙ্গে যুক্ত করে Bajaj Connect অ্যাপ ব্যবহার করে Google Maps মিররিং করা যাবে। ফোনে গন্তব্য নির্ধারণ করলে TFT ডিসপ্লেতে টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন দেখা যাবে।

ফোন Wi-Fi-এর মাধ্যমে সংযুক্ত থাকলে মিউজিক ও কল কন্ট্রোলের সুবিধাও পাওয়া যায়। Android ব্যবহারকারীরা মিররিংয়ের সময় ফোনের স্ক্রিন বন্ধ রাখতে পারবেন। iOS ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা এখনো সীমিত।

রাইডিং তথ্য

Road ও Rain মোডে তাৎক্ষণিক ফুয়েল ইকোনমি দেখা যায়। Sport মোডে একই জায়গায় ০-৬০ কিমি/ঘণ্টা স্পিড টাইমার দেখানো হয়।

Tour মোডে Trip Distance ও Distance to Empty-এর মতো অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যায়।

চাকা ও টায়ার

সামনে 100/80-17 সাইজের নন-রেডিয়াল টায়ার এবং পেছনে 130/70 R17 সাইজের রেডিয়াল টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে।

ভেজা রাস্তায় টায়ারের গ্রিপ যথেষ্ট ভালো। কম গ্রিপের রাস্তায় দ্রুত অ্যাক্সিলারেশনের সময়ও ট্র্যাকশন কন্ট্রোল খুব বেশি সক্রিয় হতে দেখা যায়নি।

আরাম ও রাইডিং পজিশন

N160 2V ও SS সংস্করণে একই ধরনের হ্যান্ডেলবার ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে রাইডারের শরীরের ওপরের অংশ তুলনামূলক স্বাভাবিক ও আরামদায়ক অবস্থানে থাকে।

N160 4V SS-এ স্প্লিট সিট দেওয়া হয়েছে। দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য সিটিং কমফোর্ট সন্তোষজনক। লম্বা রাইডারদের জন্যও এর এরগোনমিক্স যথেষ্ট মানানসই।

ফুয়েল ট্যাংক ও মাইলেজ

N160 সিরিজে ১৪ লিটারের ফুয়েল ট্যাংক রয়েছে, যা এই শ্রেণির বাইকের মধ্যে বড় ট্যাংকগুলোর একটি।

Bajaj-এর তথ্য অনুযায়ী, 4V মডেলে মাইলেজ 2V সংস্করণের ৪৭ কিমি/লিটার থেকে কমে প্রায় ৪৪ কিমি/লিটার হয়েছে।

বাস্তব রাস্তায় নির্দিষ্ট ফুয়েল ইকোনমি পরীক্ষা না করলেও এক ট্যাংক জ্বালানিতে ৪০০ কিলোমিটারের বেশি রেঞ্জ পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

মেইনটেন্যান্স

Bajaj-এর অন্যান্য মোটরসাইকেলের মতো N160-এরও নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের সময়সূচি রয়েছে। প্রথম চেকআপ ৩০-৪৫ দিন অথবা ৫০০-৭০০ কিলোমিটারের মধ্যে, যেটি আগে হবে, তখন করতে হবে।

এরপর প্রতি ৪ মাস বা ৫,০০০ কিলোমিটার পরপর সার্ভিস করাতে হবে। প্রথম তিনটি সার্ভিস ফ্রি।

ওয়ারেন্টি

Pulsar N160-এর সঙ্গে ৫ বছর বা ৭৫,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্যান্ডার্ড ওয়ারেন্টি দেওয়া হচ্ছে।

তবে ওয়ারেন্টি সুবিধা পেতে মালিককে কোম্পানির নির্ধারিত সার্ভিস শিডিউল যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এই ওয়ারেন্টি শুধুমাত্র মোটরসাইকেলের প্রথম মালিকের জন্য প্রযোজ্য।

সব মিলিয়ে

২০২৬ Bajaj Pulsar N160 SS 4V মূল ডিজাইন ধরে রেখে ফিচার ও প্রযুক্তির দিক থেকে আরও আধুনিক হয়েছে। ৫ ইঞ্চি TFT, রাইডিং মোড, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, ডুয়াল-চ্যানেল ABS, Bluetooth ও Wi-Fi কানেক্টিভিটি এবং Google Maps মিররিংয়ের মতো সুবিধা এটিকে সেগমেন্টে আরও প্রতিযোগিতামূলক করেছে।

দৈনন্দিন ব্যবহারে আরামদায়ক রাইডিং পজিশন, ১৪ লিটারের বড় ফুয়েল ট্যাংক এবং প্রায় ৪৪ কিমি/লিটার সম্ভাব্য মাইলেজও বাইকটির গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে TFT ডিসপ্লের রেসপন্স এবং কিছু কন্ট্রোল ব্যবহারের জটিলতা আরও উন্নত করা গেলে অভিজ্ঞতা আরও ভালো হতে পারত।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের বড় লাফ

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের বড় লাফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ২৩ বছর আগে যে মাঠে অস্ট্রেলিয়ার ...

বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হার, বড় বিপদে ভারত

বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হার, বড় বিপদে ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে শুধু সিরিজেই ...

ফুটবল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; ইন্টার মায়ামি বনাম ন্যাশভিল, জানুন ফলাফল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; ইন্টার মায়ামি বনাম ন্যাশভিল, জানুন ফলাফল

নিজস্ব প্রতিবেদক: এমএলএসে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে ন্যাশভিল। ইন্টার মায়ামিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে বড় জয় তুলে ...

ঢাকায় আসছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার

ঢাকায় আসছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে আসছেন আর্জেন্টিনার নব্বইয়ের দশকের কিংবদন্তি ফুটবলার ক্লদিও ক্যানেজিয়া। আগামী সোমবার (১৭ আগস্ট) ...