পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে বিলম্ব কেন? জানা গেল যেসব গুরুত্বপূর্ণ কারণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো প্রকাশ হয়নি এর চূড়ান্ত গেজেট। প্রথমে চলতি মাসের মাঝামাঝি গেজেট জারির সম্ভাবনা থাকলেও প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে সেটি পিছিয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করেই গেজেট প্রকাশ করতে চায় সরকার। এ কারণেই নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
তবে গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকেই কার্যকর ধরা হতে পারে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত বেতনের পাশাপাশি বকেয়া অর্থও একসঙ্গে পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
কেন বিলম্ব হচ্ছে
গেজেট প্রকাশে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উঠে এসেছে সরকারি বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতা।
২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলের সময় অনেক কাজ হাতে করা হলেও বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) এবং আইবাস (iBAS++) সফটওয়্যারের মাধ্যমে।
নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে গেলে এই সফটওয়্যারগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এতে সময় যেমন লাগবে, তেমনি প্রশাসনিক জটিলতা ও কারিগরি ঝুঁকিও বাড়বে।
কর্মচারীদের মধ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
গেজেট প্রকাশে বিলম্বের কারণে সরকারি চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তাদের মূল উদ্বেগগুলো হলো:
* নতুন বেতন কাঠামোতে কে কত বেতন পাবেন?
* কোন ধাপে বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে?
* ভাতা কবে থেকে যুক্ত হবে?
* অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা কীভাবে নির্ধারণ করা হবে?
এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত নির্দেশনা না আসায় অনিশ্চয়তা কাটছে না।
কী বলছেন কর্মচারী নেতারা
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে আগের মতো হাতে পে-ফিক্সেশন করার সুযোগ নেই।
তার ভাষ্য, যদি মূল বেতন একাধিক ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে একই কর্মচারীর জন্য বারবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং অবসর-পরবর্তী সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এখন কী করছে সরকার
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি বর্তমানে নতুন পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা নিয়ে পর্যালোচনা করছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশাবাদী।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৭ আগস্ট ২০২৬
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর ১৮ আগস্ট ২০২৬
- সামনে ৬ দিন সরকারি ছুটি, তবে আছে দুঃসংবাদও
- দেশের বাজারে আজ ২১ ক্যারেট সোনার দাম
- মাতৃত্বকালীন ভাতা ২০২৬: অনলাইনে আবেদন, শর্ত ও কত টাকা পাবেন
- এসএসসি ও সমমানের খাতা চ্যালেঞ্জের ফলাফল কবে
- নবম পে স্কেলে বড় সুখবর, দুই ধাপে বাড়বে বেতন
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালে ২১ ক্যারেট সোনার দাম কত হতে পারে
- র্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী এসআরবি, পুলিশের অধীনে থাকবে
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬
- আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- অর্থবছরের সময়সীমায় বড় পরিবর্তন, নতুন হিসাব এপ্রিল-মার্চ
- ২০২৬ সালেই পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে: অর্থমন্ত্রী
- Xiaomi 18 নিয়ে বড় ফাঁস, স্ট্যান্ডার্ড মডেল আসছে ডিসেম্বরে
- এসএসসি খাতা চ্যালেঞ্জে রেকর্ড আবেদন, ফল প্রকাশ কবে
