ইলন মাস্কের শুক্রাণু নিয়ে চার সন্তানের জন্ম
নিজস্ব প্রতিবেদক: মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন শিভন জিলিস। ওপেনএআই–সংক্রান্ত একটি চলমান মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি জানান, মাস্ক একসময় তাকে “প্লেটোনিক” অর্থাৎ শারীরিক সম্পর্ক ছাড়াই শুক্রাণু দানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে সেই প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি মাস্কের সন্তানের মা হন।
শিভন জিলিস বর্তমানে ইলন মাস্কের চার সন্তানের মা হিসেবে পরিচিত। বুধবার (৭ মে) আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি মাস্কের সঙ্গে সম্পর্ক, সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ওপেনএআই–এর ভেতরের নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
জিলিস জানান, ২০১৬ সালে ওপেনএআই–এ যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইলন মাস্কের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। শুরুতে সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। পরে ধীরে ধীরে তা ব্যক্তিগত পর্যায়ে গড়ায়।
উল্লেখ্য, ওপেনএআই ২০১৫ সালে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যানসহ একাধিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে মতপার্থক্যের কারণে মাস্ক প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দেন। বর্তমানে তিনি অভিযোগ করছেন, ওপেনএআই তার মূল অলাভজনক উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে লাভভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে তিনি স্যাম অল্টম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে জিলিস বলেন, ২০২০ সালে তিনি মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় ইলন মাস্ক তাকে শুক্রাণু দানের প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যগত কারণে স্থায়ী সম্পর্কের মাধ্যমে সন্তান নেওয়া তার জন্য কঠিন ছিল, তাই এই প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেন।
জিলিস বলেন, “আমি সত্যিই মা হতে চেয়েছিলাম। সেই সময় মাস্ক আমাকে প্রস্তাব দেন এবং আমি তা গ্রহণ করি।”
তিনি আরও জানান, তাদের মধ্যে একটি গোপন চুক্তি ছিল, যেখানে সন্তানের পিতৃত্ব প্রকাশ না করা এবং শুরুতে মাস্কের কম সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে সমঝোতা হয়।
২০২১ সালে আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের যমজ সন্তানের জন্ম হয়। তখনও বিষয়টি ওপেনএআই–এর ভেতরে প্রকাশ করা হয়নি। পরে ২০২২ সালে বিষয়টি সামনে আসে এবং তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে আলোচনা শুরু হয়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ইলন মাস্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই চালু করলে শিভন জিলিস ওপেনএআই থেকে সরে যান।
জিলিস জানিয়েছেন, বর্তমানে ইলন মাস্ক তাদের সন্তানদের জীবনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তারা একসঙ্গে সময় কাটান এবং কখনো কখনো একই স্থানে বসবাসও করেছেন। বিভিন্ন প্রকাশ্য অনুষ্ঠানেও তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে।
আদালতের এই সাক্ষ্য ঘিরে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে মাস্কের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের সম্পর্ক নিয়ে।
সোহাগ/
