৩ ঘণ্টার এক মহাকাব্যিক লড়াই: কেমন হলো Avatar: Fire and Ash
অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ—একদিকে মহাবিস্ময়, অন্যদিকে পুরনো গল্পের পুনরাবৃত্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক: জেমস ক্যামেরনের সায়েন্স ফিকশন মহাকাব্য 'অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ' নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক কৌতূহল। সিনেমাটির কিছু অংশ দেখলে মনে হতে পারে এটি যেন পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের কোনো প্রোপাগান্ডা ভিডিও। আগের সিনেমা 'দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার'-এর মতো এটিও একটি পরিবেশ-নির্ভর অ্যাকশন ছবি, যেখানে পুঁজিপতি সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে ড্রাগন-সওয়ারি নীল রঙের আদিবাসী এবং মহাজাগতিক তিমিদের লড়াই দেখানো হয়েছে।
দৃশ্যকাব্যের জয়গান
ক্যামেরনের এই সিনেমাটি ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের এক দীর্ঘ ভ্রমণ। বড় বাজেটের স্পেশাল এফেক্ট নির্ভর ব্লকবাস্টার বলতে যা বোঝায়, এটি তার এক পূর্ণাঙ্গ রূপ। সিনেমাটির প্রথমভাগেই এমন এক অ্যাকশন দৃশ্য রয়েছে যেখানে জেলিফিশের মতো দেখতে উড়ন্ত প্রাণী দিয়ে টানা এয়ারশিপের ওপর আগ্নেয় যোদ্ধারা হামলা চালায়। অধিকাংশ পরিচালক এমন দৃশ্যকে সিনেমার শেষ ক্লাইম্যাক্স হিসেবে ব্যবহার করতেন, কিন্তু ক্যামেরন এটি প্রথম অংক শেষ হওয়ার আগেই দেখিয়ে দিয়েছেন। অনেক সময় সিনেমাটি দেখতে ভিনগ্রহের কোনো ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ডকুমেন্টারির মতো মনে হয়।
গল্পের পুনরাবৃত্তি
সিনেমাটির প্রধান দুর্বলতা হলো এর পুনরাবৃত্তি। 'দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার' যেমন প্রথম সিনেমা থেকে অনেক উন্নত ছিল, 'ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ' তেমনটি করতে পারেনি। তিমির আক্রমণ থেকে শুরু করে পারিবারিক টানাপোড়েন—সবকিছুই আগের সিনেমার হুবহু নকল বলে মনে হতে পারে। একারণেই অনেকে একে 'অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড রিহাশ' বলতে চাইছেন। জেমস ক্যামেরন এখানে নিজের আগের কাজগুলো থেকেই আইডিয়া ধার করেছেন।
গল্প ও নতুন চরিত্র
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন জেক সুলি ও তার পরিবার। গত পর্বে এক ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তাদের সামনে নতুন সংকট হয়ে দাঁড়ায় স্পাইডার—যাকে তারা নিজেদের সন্তানের মতোই বড় করেছেন। কিন্তু স্পাইডার আসলে ভিলেন কর্নেল মাইলস কোয়ারিচের ছেলে। ক্যামেরনের অন্যান্য সিনেমার মতো এখানেও বাবা ও পরিবারের টিকে থাকার সংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
এই পর্বে যুক্ত হয়েছে নতুন এক গোত্র—মাংকোয়ানা ক্ল্যান বা 'অ্যাশ পিপল'। আগ্নেয়গিরির পাহাড়ে বসবাসকারী এই নরখাদক ও যুদ্ধবাজ গোষ্ঠীর সংস্কৃতি সিনেমার অন্যতম সেরা দিক। তবে ক্যামেরন এই নতুন প্রতিপক্ষকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পেরে আবার সেই পুরনো কর্পোরেট-সামরিক ভিলেনদের কাছেই ফিরে গেছেন যারা তিমি শিকার করতে ব্যস্ত।
পরিবেশবাদ ও আধ্যাত্মিকতা
সিনেমাটিতে এক ধরনের পরিবেশবাদী আধ্যাত্মিকতা এবং বায়োটেক সায়েন্স ফিকশনের মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। অ্যাশ পিপলরা কর্নেল কোয়ারিচের সঙ্গে জোট বাঁধে এবং কোয়ারিচ তাদের নেতার প্রেমিক হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে তারা এক বিশেষ ড্রাগ ব্যবহার করে গ্রহের দেবতার দেখা পাওয়ার চেষ্টা করে। প্ল্যানেটারি ইকো-ইন্টারনেটের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক জগতে প্রবেশ করার এই বিষয়গুলো অনেক সময় অবাস্তব মনে হতে পারে।
জেমস ক্যামেরন বড় পর্দার জন্য এমন এক বিশাল ক্যানভাস তৈরি করেন যা অন্য পরিচালকদের জন্য প্রায় অসম্ভব। গল্পে নতুনত্বের অভাব থাকলেও তার বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং সিনেমাটিক ভিশন দর্শককে মুগ্ধ করতে বাধ্য। সিনেমাটি গ্রহণ করা বা না করা এখন সম্পূর্ণ দর্শকের পছন্দের ওপর নির্ভর করছে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১১ আগস্ট ২০২৬
- Bajaj Pulsar N160 4V: নতুন মডেলের ফিচারগুলো এক নজরে
- আজ দেশের বাজারে ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- ১২ আগস্ট দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি
- সাত সপ্তাহের উচ্চতার পর কমল স্বর্ণের দাম
- এসএসসি ফলে বড় ধাক্কা, ২২৬ মাদ্রাসায় শূন্য পাস
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১১ আগস্ট ২০২৬
- স্মার্টফোনের ভিড়ে আবার জনপ্রিয় হচ্ছে ফিচার বাটুন ফোন, কেন বাড়ছে আগ্রহ
- দেশের বাজারে আজ এক ভরি স্বর্ণের দাম
- এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন শুরু আজ, জানুন নিয়ম
- নবম পে স্কেল: ৭ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি, নেতৃত্বে অর্থমন্ত্রী
- দুই দিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, বাড়তে পারে বৃষ্টি
- ৭,৫০০mAh ব্যাটারি নিয়ে বাজারে Redmi 17 5G ও 4G
- Redmi Note 17 রিভিউ: ব্যাটারিতে দুর্দান্ত, পারফরম্যান্সে পিছিয়ে
- ১২ আগস্ট বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব অঞ্চল থেকে
