১ ডিসেম্বর থেকে শিক্ষকদের 'কমপ্লিট শাটডাউন' ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষকদের ন্যায্যতার দাবিতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি পূরণ না হলে আগামী সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে 'কমপ্লিট শাটডাউন'-এ যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষকরা।
একই সঙ্গে, গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) থেকে তিন দফা দাবিতে সারা দেশে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। এই দ্বৈত আন্দোলনে দেশের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
১ ডিসেম্বর থেকে মাধ্যমিক শিক্ষকদের 'কমপ্লিট শাটডাউন'
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে শিক্ষা ভবনের সামনে বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে অবস্থান নিয়ে এই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবি (দশম গ্রেডকে নবম গ্রেডে উন্নীতকরণ) বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, এবার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরবেন না।
প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও অনশনের হুঁশিয়ারি
এদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষক তাদের তিন দফা দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এই কর্মসূচির ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক খায়রুন নাহার লিপি জানান, সরকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের দাবি মানেনি, তাই বাধ্য হয়েই কর্মবিরতিতে যেতে হয়েছে।
"আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই লাগাতার কর্মসূচি চলবে। আশা করি, সরকার দ্রুত শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করে অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।"
শিক্ষাব্যবস্থায় অচলাবস্থা ও পরীক্ষা অনিশ্চয়তা
শিক্ষকদের এই লাগাতার কর্মসূচির সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায়। প্রায় ১ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর বার্ষিক পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি দ্রুত দাবি না মানা হয়, তবে তারা আসন্ন বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করবেন এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অনশনে যাবেন। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সোহাগ/
