বড় ভূমিকম্প ‘খুবই নিকটে’: ঢাকার বিপদ স্পষ্ট করলেন বিশেষজ্ঞরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: গত শুক্র ও শনিবার প্রায় ৩১ ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকা ও এর আশপাশে চারটি ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর রাজধানী শহরের বড় বিপদের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়েছে। ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপত্তিস্থলের নৈকট্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং প্রাণহানির উচ্চ ঝুঁকির কারণে ঢাকা এখন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে।
ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার সতর্ক করেন, "ভূ-অভ্যন্তরের যে ফাটল বা ফল্ট লাইনটি এত দিন ধরে প্রচণ্ড চাপে আটকে ছিল, তা নড়তে শুরু করেছে এবং শক্তি নির্গমনের একটি প্রক্রিয়া চালু করেছে। এমন আফটার শক হতে হতে বড় ভূমিকম্প হবে। সেটা খুবই নিকটে হতে পারে।"
১. চারটি কারণে ঢাকার বিপদ স্পষ্ট
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক রাকিব হাসান চারটি প্রধান কারণে ঢাকার বিপদ স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন:
* নৈকট্য: উৎপত্তিস্থল থেকে ঢাকার নৈকট্য। নরসিংদীতে থাকা ‘সাব-ফল্ট’টি ঢাকার কাছ পর্যন্ত চলে এসেছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
* মাটির গঠন: ঢাকার নতুন অংশগুলো নিচু জায়গায় মাটি ভরাট করে গড়ে উঠেছে। এমন অঞ্চলে ভূমিকম্পের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।
* ভবন নির্মাণ: ঢাকার অসংখ্য ভবন ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ডিজাইন কোড মেনে হচ্ছে না।
* জনঘনত্ব: ঢাকা শহরের অতি উচ্চ জনঘনত্বের কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি হবে।
২. শক্তি সঞ্চয় ও পরিসংখ্যানের ইঙ্গিত
গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের নথিভুক্ত তথ্যের বিশ্লেষণও ঢাকার ঝুঁকিকে সমর্থন করে:
* ঢাকার কাছে উৎপত্তি: ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত হওয়া ৩৯টি ভূমিকম্পের মধ্যে ১১টির (২৮ শতাংশ) উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৮৬ কিলোমিটারের মধ্যে।
* ফাটল চিহ্নিতকরণ: আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, নরসিংদীতে আগে ছোট ভূমিকম্প হলেও গুরুত্ব দেওয়া হতো না। এখন বোঝা যাচ্ছে, এখানকার সাব-ফল্ট অনেক বড় এবং তা ঢাকার কাছ পর্যন্ত চলে এসেছে।
অধ্যাপক হুমায়ুন আখতারের মতে, সাবডাকশন জোনে (দুটি টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থল) যে পরিমাণ শক্তি পুঞ্জীভূত হয়ে আছে, তার ১ শতাংশের কম নির্গত হয়েছে। ফলে বারবার হওয়া এই ভূকম্পগুলো বড় একটি ভূমিকম্পের পথ খুলে দিচ্ছে।
৩. রাতের কম্পন ও প্রাণহানির ঝুঁকি
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে রেকর্ড হওয়া ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে ২৩টিই ঘটেছে রাতে (সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত)। রাতে বেশির ভাগ মানুষ ঘুমিয়ে অথবা বাসায় থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন সময়ে বড় ভূমিকম্প হলে প্রাণহানির আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।
* সর্বশেষ ক্ষতি: শুক্রবারের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের গভীরতা মাত্র ১০ কিলোমিটার (ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি) হওয়ায় তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়, যার ফলে শিশুসহ ১০ জন নিহত এবং ৬ শতাধিক মানুষ আহত হন।
৪. প্রস্তুতিতে চরম উদাসীনতা
ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়লেও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতিতে সরকারি উদ্যোগ কার্যত থেমে আছে।
* অপারেশন্স সেন্টার: ২০১৬ সালে দুর্যোগ মোকাবিলা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এক দশকেও তার কোনো অগ্রগতি হয়নি। নির্মাণসামগ্রী রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়ায় ভবন নির্মাণ স্থগিত আছে।
* সরঞ্জাম: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ চলমান থাকার কথা জানালেও দুর্যোগ ফোরামের সদস্যসচিব গওহর নঈম ওয়ারা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও করণীয় দিকগুলো যথেষ্ট নয়।
* সচেতনতা: বিভিন্ন ছাত্রাবাস থেকে ছাত্ররা লাফিয়ে পড়েছে—এমন ঘটনার উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা স্কুল পর্যায় থেকে সচেতনতার বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও উঠেছে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- নতুন পে-স্কেলে যত বাড়তে পারে শিক্ষকদের বেতন
- নতুন পে-স্কেলে কার লাভ কত, প্রাথমিক শিক্ষকরা কি পাচ্ছেন বড় সুখবর
- তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, কমতে পারে তাপমাত্রা
- নবম পে-স্কেলে আধা-স্বায়ত্তশাসিত কর্মীদের জন্য বড় সুখবর
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ২৪ মে ২০২৬
- ঈদের আগে স্বস্তি, দেশের বাজারে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৪ মে ২০২৬
- সোমবার থেকে টানা ঈদের ছুটি শুরু, যারা পাবেন না ছুটি
- প্রধানমন্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে মন্তব্য, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ
- দুপুরের আগেই ৪ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা
- ঈদের দিন কোথায় কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
- শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নতুন আলোচনা
- ভূমি মালিকদের জন্য সরকারের জরুরি বার্তা
- দেশের বাজারে আজ এক ভরি সোনার
- ভারতীয় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
