ঘরে বসে ই-পাসপোর্ট আবেদন: মাত্র পাঁচ ধাপে এক ক্লিকে সহজ প্রক্রিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক: ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পর থেকে পাসপোর্ট তৈরির জটিলতা এখন অনেকটাই অতীত। এখন ঘরে বসেই অনলাইন আবেদন থেকে শুরু করে ফি পরিশোধ পর্যন্ত সমস্ত প্রক্রিয়া মাত্র কয়েকটি সহজ ধাপে সম্পন্ন করা যায়। আবেদন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে জানা থাকলে আপনার মূল্যবান সময় এবং শ্রম দুটোই বাঁচবে।
ই-পাসপোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ([http://www.epassport.gov.bd](http://www.epassport.gov.bd)) প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
ই-পাসপোর্ট আবেদনের ৫টি সহজ ধাপ
আপনার আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পুরো কার্যক্রমটিকে পাঁচটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই ধাপগুলি সঠিকভাবে অনুসরণ করলে কোনো রকম ঝঞ্ঝাট ছাড়াই আপনি আপনার নতুন ই-পাসপোর্টটি হাতে পেতে পারেন।
ধাপ-১: আপনার এলাকায় ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম নিশ্চিত করুন
প্রথমেই আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার বর্তমান ঠিকানার এলাকায় ই-পাসপোর্ট তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না। এর জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট [http://www.epassport.gov.bd](http://www.epassport.gov.bd) ভিজিট করে তথ্য যাচাই করুন।
ধাপ-২: অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
১. ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘অনলাইনে আবেদন’ (Apply Online) অপশনে ক্লিক করুন।
২. আপনার বর্তমান ঠিকানার জেলা ও থানা নির্বাচন করুন।
৩. একটি সচল ইমেইল ঠিকানা প্রদান করুন।
৪. অনলাইন ফর্মে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ইত্যাদি) সঠিকভাবে পূরণ করুন।
৫. সব তথ্য যাচাই করে ফর্মটি সাবমিট করুন। সাবমিট করার পর আবেদনপত্রের একটি প্রিন্ট কপি তৈরি হবে, যা পরবর্তী ধাপে আবশ্যক।
ধাপ-৩: পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করুন
পাসপোর্টের ফি নির্ভর করে আপনার পছন্দের মেয়াদ (৫ বছর বা ১০ বছর) এবং পৃষ্ঠাসংখ্যার (৪৮ বা ৬৪ পৃষ্ঠা) ওপর।
ফি পরিশোধের উপায়:
* অনলাইন পেমেন্ট: ব্যাংক কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন- বিকাশ, নগদ) বা অন্যান্য অনুমোদিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরাসরি অনলাইনে ফি দেওয়া যায়।
* ব্যাংকের মাধ্যমে: সরকার অনুমোদিত ব্যাংকে নগদে ফি জমা দিয়ে স্লিপের নম্বরটি আবেদন ফরমে যুক্ত করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ: ফি পরিশোধের রসিদটি যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করুন, যা পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে।
দেশে আবেদনকারীদের জন্য ফি (সংক্ষেপে):
| পৃষ্ঠা ও মেয়াদ | সাধারণ (Regular) | জরুরি (Express) | অতি জরুরি (Super Express) |
| ৪৮ পৃষ্ঠা (৫ বছর) | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা (১০ বছর) | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা (১০ বছর) | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
(দ্রষ্টব্য: প্রবাসীদের জন্য ফি বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে ইউএস ডলারে পরিশোধ করতে হবে। বিস্তারিত তথ্য ওয়েবসাইটে পাবেন।)
ধাপ-৪: বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান ও কাগজপত্র জমা
অনলাইন আবেদন জমা হওয়ার পর, নির্ধারিত সময়ে আপনাকে আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। সেখানে আপনার:
* ছবি তোলা
* আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) গ্রহণ এবং
* স্বাক্ষর নেওয়া হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (সংক্ষেপে):
* ১৮ বছরের বেশি: জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল ও ফটোকপি, নাগরিক সনদ/বিদ্যুৎ বিল, বিবাহিত হলে কাবিননামা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), পূর্ববর্তী পাসপোর্টের কপি (যদি থাকে), সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জিও/এনওসি (যদি প্রযোজ্য হয়)।
* ১৮ বছরের কম: জন্মনিবন্ধন সনদ, মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও ছবি।
* হারানো পাসপোর্ট: থানায় করা জিডির মূল কপি, পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে)।
ধাপ-৫: পাসপোর্ট সংগ্রহ
পাসপোর্ট প্রস্তুত হয়ে গেলে আপনার মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ডেলিভারি স্লিপ/রসিদ দেখিয়ে আপনি পাসপোর্টটি সংগ্রহ করতে পারবেন। আপনার অনুপস্থিতিতে অনুমোদিত প্রতিনিধিও (জাতীয় পরিচয়পত্রসহ) পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।
পাসপোর্ট বিতরণের সময়সীমা:
* নিয়মিত (Regular): ১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিনের মধ্যে।
* জরুরি (Express): ৭ কর্মদিবস বা ১০ দিনের মধ্যে।
* অতি জরুরি (Super Express): ২ কর্মদিবসের মধ্যে।
আবেদনের অগ্রগতি যাচাই (Status Check)
ই-পাসপোর্ট পোর্টালে ‘স্ট্যাটাস চেক’ অপশনে গিয়ে আপনি যেকোনো সময় আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন।
প্রক্রিয়া: আপনার জন্মতারিখ এবং আবেদনের ক্রমিক নম্বর (Application ID) দিয়ে সার্চ করলেই অগ্রগতি দেখা যাবে। নিজের অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকেও সব আবেদনের অবস্থা যাচাই করা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সতর্কতা
* তথ্যের সঠিকতা: ফর্ম পূরণের সময় প্রতিটি তথ্য নির্ভুলভাবে প্রদান করুন। ভুল তথ্যের কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে।
* ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য: পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ বছর এবং ৪৮ পৃষ্ঠার হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে পিতা বা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ব্যবহার করতে হবে।
* হারানো পাসপোর্ট: পাসপোর্ট হারালে বা চুরি হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জিডি করুন। পুনরায় আবেদনের সময় অবশ্যই জিডির কপি জমা দিতে হবে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ৬ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা
- নতুন পে-স্কেল নিয়ে জট খুলছে: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সুখবর
- পে স্কেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বড় সুখবর
- ৯ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা; যারা পাবেন যারা পাবেন না
- আজকের সোনার বাজারদর: ৮ এপ্রিল ২০২৬
- খুলছে পে-স্কেল জট: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
- সরকারি চাকরিজীবীদের ‘সপ্তাহে তিন দিন ছুটি’ যা জানাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
- আজ ৯ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা
- বাংলাদেশে ঈদুল আজহা কবে? জেনে নিন সম্ভাব্য তারিখ ও ছুটির খবর
- পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের নতুন কৌশল
- বৃহস্পতিবার সারাদিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজকের সোনার বাজারদর: ৯ এপ্রিল ২০২৬
- বাজেটে থাকছে পে-স্কেলের বরাদ্দ
- এবার অকটেন নিয়ে বড় সুখবর
- দেশের বাজারে আজ এক ভরি স্বর্ণের দাম
