শ্বশুরবাড়িতে মিষ্টির প্যাকেটে ইটের গুঁড়া পাঠালেন জামাই
নিজস্ব প্রতিবেদন: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বড় ধনতোলা গ্রামে এক অদ্ভুত ও বিস্ময়কর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন এক জামাই। কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার পর শ্বশুরবাড়িতে মিষ্টির বদলে একটি প্যাকেটে মাটি ও ইটের গুঁড়া পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে জামাই মোকছেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৬ জুন) মোকছেদুল ইসলামের স্ত্রী আছমা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, জন্মের পর মেয়ের খবর শুনে তার স্বামী শ্বশুরবাড়িতে ‘মিষ্টির প্যাকেট’ হাতে এসে উপস্থিত হন। কিন্তু সেই প্যাকেট খুলতেই বেরিয়ে আসে ইট ও মাটির গুঁড়ায় ভর্তি একটি প্যাকেট—যেখানে কোনো মিষ্টির ছিটেফোঁটাও ছিল না।
স্থানীয়রা জানান, এক বছর আগে বড় ধনতোলার সাহেব আলী ওরফে সব্দুল হকের ছেলে মোকছেদুল ইসলামের সঙ্গে একই ইউনিয়নের কাজাইকাটা এলাকার আফতার আলীর মেয়ে আছমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আছমা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
আছমা বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমাকে মারধর করতেন। টাকার জন্য চাপ দিতেন। গর্ভে সন্তান আসার পর বলতেন—ছেলে হলে আনন্দ, মেয়ে হলে বোঝা। অবশেষে কন্যাসন্তান জন্ম নিলে তিনি সবার সামনে 'মিষ্টির প্যাকেট' দিয়ে অপমান করলেন। সেটায় ছিল শুধু মাটি আর ইটের গুঁড়া।”
অভিযুক্ত জামাই মোকছেদুল ইসলাম অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, “আমি মিষ্টি আর মেয়ের জন্য কিছু কাপড় নিয়ে গিয়েছিলাম। এসব ভিত্তিহীন ও সাজানো কথা। আমি স্ত্রীকে কখনও নির্যাতন করিনি। বরং আমার সংসারে অন্য কেউ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু সাঈদ বলেন, “আমি সরাসরি কিছু জানি না। তবে এমন ঘটনা নিয়ে এলাকায় কথাবার্তা শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে।”
সোহাগ/
