রোহিঙ্গা ইস্যু: ভারত-মিয়ানমারের গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের জন্য শুধু মানবিক নয়, একটি সুপরিকল্পিত ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রও। ভারত ও মিয়ানমারের যৌথ প্রকল্প 'কালাদান মাল্টিমোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট' (কেএমটিটিপি) নামে পরিচিত এই উদ্যোগটির অন্তরালে যে সত্য লুকিয়ে আছে, তা এখন পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান।
এই প্রকল্প মূলত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর (সেভেন সিস্টার্স) সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের বিকল্প সংযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা। প্রকল্পের আওতায় রাখাইন রাজ্যের সিত্তে সমুদ্রবন্দর থেকে নদী ও সড়কপথে মিজোরাম পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু সমস্যাটা হলো, এই রুটের পাশেই ছিল রোহিঙ্গাদের ঐতিহাসিক বসতি। এই উন্নয়নের নামে ভারত ও মিয়ানমার যৌথভাবে যে জাতিগত নিধন চালিয়েছে, তা গণহত্যার পর্যায়ে পড়ে।
রোহিঙ্গাদের তাদের নিজভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে—রাস্তা বানাতে জমি দরকার, আর মুসলিম রোহিঙ্গারা ছিল সেই জমির মালিক। উন্নয়নের আড়ালে তাই তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে, হত্যা-ধর্ষণ করে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এ নিয়ে উদ্বেগ জানালেও ভারত সবসময় মিয়ানমারের পাশেই থেকেছে। জাতিসংঘে রোহিঙ্গা নিধনের নিন্দা প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে, কারণ ভারত চায় না তার এই কৌশলগত প্রকল্প ব্যাহত হোক।
এদিকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা যেন আর মিয়ানমারে ফিরে না যেতে পারে—এমন চেষ্টাও রয়েছে ভারতের কৌশলের অংশ। কারণ, যদি তারা ফেরে, তাহলে জমি নিয়ে আবার দাবি উঠবে, আর প্রকল্পে জট তৈরি হবে। এজন্যই ভারতের কিছু কূটনীতিক ‘মানবিক করিডোর’ নামে নতুন এক প্রচারণা শুরু করেছেন—যেটা আদতে সামরিক করিডোর বাস্তবায়নেরই একটি কৌশলী প্রচেষ্টা।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। একটি মহল ‘মানবিক করিডোর’ নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, যাতে জনমত প্রভাবিত করা যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারত ট্রানজিট নেবে, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাবে না, আর উন্নয়নের নামে সীমান্তে সামরিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে—এটাই তাদের লক্ষ্য।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এমন সরকার দরকার, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জাতীয় স্বার্থে আপোষহীন এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার। নতুবা ভারতের এই ‘মানবিক করিডোর’-এর আড়ালে সামরিক করিডোর বাস্তবায়ন এক সময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
পড়ুন, ভাবুন, শেয়ার করুন—জেনে বুঝে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। বাংলাদেশ কারও করিডোর নয়, স্বাধীন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- নির্বাচনের আগেই হচ্ছে পে-স্কেল!
- নতুন পে স্কেল ঝুলে থাকলেও মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন কর্মচারীরা
- নতুন পে স্কেলের আগে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বড় সুখবর
- নবম পে স্কেল চূড়ান্ত: সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত বাড়ল
- নবম পে স্কেলের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা চূড়ান্ত: জানুন বিস্তারিত তথ্য
- পে স্কেলে ১:৮ অনুপাতে বেতন নির্ধারণ: চূড়ান্ত ঘোষণা ২১ জানুয়ারি
- পে স্কেলের আগে ১৫ ও ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা সরকারি চাকরিজীবীরা
- নির্বাচনের আগে মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা
- পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালেন অর্থ উপদেষ্টা
- আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- স্কেল নয়; গ্রেডভিত্তিক মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা
- নির্বাচন থেকে সরে দাড়াচ্ছেন বিএনপির যেসব বিদ্রোহী প্রার্থীরা
- জামায়াতসহ ১১ দলের সমঝোতা চূড়ান্ত; যা জানা গেল
- যে কারনে দুই ঘণ্টা আগে ১১ দলের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত
- শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে: যেসব জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস
