| ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২

কী কী ছিল মুক্তিযু্দ্ধের সময়ে আওয়ামী লীগ-ভারত গোপন চুক্তিতে

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৫ মার্চ ০৯ ১২:১৬:২৫
কী কী ছিল মুক্তিযু্দ্ধের সময়ে আওয়ামী লীগ-ভারত গোপন চুক্তিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে, ভারত সরকারের সাথে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি গোপন সাত দফা চুক্তি সম্পাদিত হয়, যা প্রশাসনিক, সামরিক, বাণিজ্যিক, পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক ছিল। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, তার সাপ্তাহিক "হক কথা", অলি আহাদের "জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ৭৫" এবং মোহাম্মদ নুরুল কাদিরের "২৬৬ দিনের স্বাধীনতা" গ্রন্থসহ বিভিন্ন লেখায় এই চুক্তির ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যায়।

"হক কথা"-তে মাওলানা ভাষানী উল্লেখ করেন যে, তাজউদ্দিন আহমদের প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়ে ভারত বাংলাদেশের সাথে গোপনে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে। তাজউদ্দিন কলকাতায় এক বক্তৃতায় ভারতের প্রভুদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, যে কিছু কিছু কাজের কারণে বাংলাদেশকে ভুল বোঝা উচিত নয়।

এছাড়াও "হক কথা"-তে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত যে সাহায্য দিয়েছিল, সেটি পরে পরিশোধের শর্তে দেয়া হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ইন্দিরা গান্ধীর সফরের সময় ঢাকায় অষ্টম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির শর্তগুলো বিশ্লেষণ করলে এটি একটি সামরিক ও অধীনতামূলক মিত্রতা চুক্তি হিসেবে দেখা যায়।

"জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ৭৫" নামক গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এই চুক্তির ধারাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়। প্রশাসনিক চুক্তিতে বলা হয়েছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে, শুধু তারাই প্রশাসনিক পদে নিয়োজিত থাকতে পারবে এবং বাকিদের জায়গা পূরণ করবে ভারতীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

সামরিক চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে ভারতীয় সৈন্যরা বাংলাদেশে অবস্থান করবে। ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাস থেকে প্রতিবছর এই বিষয়ে পূর্ণ নিরীক্ষণের জন্য দু'দেশের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, বাংলাদেশের নিজস্ব সামরিক বাহিনী থাকবে না, এবং মুক্তিবাহিনীকে কেন্দ্র করে একটি প্যারামিলিশিয়া বাহিনী গঠন করা হবে।

ভারত-পাকিস্তান সর্বাত্মক যুদ্ধের সম্ভাবনা সম্পর্কে চুক্তিতে বলা ছিল যে, ভারতীয় সেনাবাহিনীই এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবে এবং মুক্তিবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর অধীনে থাকবে। বাণিজ্য বিষয়ক চুক্তিতে বলা হয়েছিল, দু'দেশের বাণিজ্য খোলা বাজার ভিত্তিতে চলবে, তবে বাণিজ্যের হিসাব বছরে ভিত্তি করে হবে এবং প্রাপ্য পরিমাণ স্টারলিংতে পরিশোধ করা হবে।

পররাষ্ট্র বিষয়ক চুক্তিতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবে এবং যতদূর সম্ভব ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা করবে। এছাড়া, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিষয়ক দায়িত্বভার গ্রহণ করবে ভারত।

সম্প্রতি, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ কিছু বইয়ের রেফারেন্সের মাধ্যমে এই চুক্তির বিষয়ে আলোচনার সুযোগ দেন। এসব চুক্তির শর্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে চায় না ইংল্যান্ড!

ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে চায় না ইংল্যান্ড!

নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক: ভারতে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে ইংল্যান্ডের অনীহা! নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক ...

বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বয়কট; যা জানা গেল

বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বয়কট; যা জানা গেল

বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে বিশ্বকাপ বয়কট করছে পাকিস্তান? যা বলছেন সাবেক ক্রিকেটাররা নিজস্ব প্রতিবেদক: নিরাপত্তা অজুহাতে ভারতের ...

ফুটবল

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সরাসরি শেষ আটে উঠল যারা

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সরাসরি শেষ আটে উঠল যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের শেষ রাউন্ডে ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রতি মুহূর্তের গোলগুলো ওলটপালট ...

ভিলারিয়াল বনাম বার্সেলোনা: (Live) দেখুন এখানে

ভিলারিয়াল বনাম বার্সেলোনা: (Live) দেখুন এখানে

নিজস্ব প্রতিবেদক: লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হয়েছে টেবিলের শীর্ষ দুই দল ভিলারিয়াল ও ...