হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী ডলারের শেয়ারবাজার
অর্থনীতিতে নানা নেতিবাচক প্রবণতার মধ্যে হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী দেশের শেয়ারবাজার। গত ১২ জুন থেকে গতকাল, সোমবার পর্যন্ত, ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ১৩ দিনে শেয়ারের মূল্য এবং মূল্য সূচক বেড়েছে। এ সময়ে তালিকাভুক্ত ৯৪ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। বেঞ্চমার্ক ডিএসইএক্স মূল্য সূচক প্রায় ৫০০ পয়েন্ট বা ১০ শতাংশের এক চতুর্থাংশ বেড়েছে। খারাপ অর্থনৈতিক সময়েও শেয়ারবাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বিনিয়োগকারীরা খুশি। যাইহোক, তারা আগের চার মাসের মূল্য হ্রাসের কারণে কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম।
নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ১২ জুনের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৯৬টি কোম্পানির ৩৭২টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদর বেড়েছে। ৮৬-তে অন্তত ২০ শতাংশ বাড়ল। দাম বাড়ার হার ১০ শতাংশ হলে এই সংখ্যা হয় ২৫৫। বাকি ২৪টির মধ্যে মাত্র আটটি শেয়ারের পতন হয়েছে।
দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে ৫১ শতাংশ দর বেড়ে শীর্ষে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স। ৪১ থেকে ৪৯ শতাংশ দর বেড়েছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, হেইডেলবার্গ সিমেন্ট, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, আফতাব অটোমোবাইলস, পেপার প্রসেসিং এবং ওয়ালটনের। বিপরীতে সর্বাধিক ১১ শতাংশ দর কমেছে শ্যামপুর সুগার মিলসের। ৫ থেকে ৮ শতাংশ দর হারিয়েছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, তুংহাই নিটিং এবং বিআইএফসি।
গুটিকয় শেয়ারের বাইরে অধিকাংশ শেয়ারের দরে এমন সময়ে সুবাতাস বইছে, যখন সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা নানা শঙ্কার কথা বলছেন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমায় ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার আইএমএফ থেকে শর্তসাপেক্ষে ঋণ নিচ্ছে। সংস্থাটির শর্ত মানতে গিয়ে ব্যাংক সুদহার বাড়ানো হচ্ছে। খরচ কমাতে রপ্তানিতেও প্রণোদনা কমিয়েছে সরকার। গ্যাস, তেল, বিদ্যুৎসহ অত্যাবশ্যক ইউটিলিটির দাম বাড়ানো হচ্ছে। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা হারাচ্ছে, অনেকগুলো লোকসানে।
এর মধ্যে আবার রপ্তানি আয়ে ভুল হিসাবের খবরে বড় ধাক্কা খেয়েছেন অনেকে। এই সংশোধনের ফলে ব্যালান্স অব পেমেন্ট আগের ধনাত্মক অবস্থা থেকে ঋণাত্মক অবস্থায়। আগামীতে কী অবস্থা দাঁড়ায়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে সবার মধ্যে। এর মধ্যেই শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় অনেকেই অবাক।
শেয়ারবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ জানান, এটাই বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের চরিত্র। অদ্ভুত ঠেকলেও এটাই সত্যি যে, অর্থনীতির ভালো অবস্থায় যখন শেয়ারবাজার ভালো থাকার কথা, তখন মন্দায় থাকে। আর যখন অর্থনীতি মন্দায়, তখন ভালো অবস্থা দেখা যায়। গত কয়েক সপ্তাহ শেয়ারবাজার ভালো থাকলেও আগের পতনের তুলনায় এ দরবৃদ্ধি কিছুই না।
শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এবারের বাজেটে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো কিছু নেই। উল্টো প্রথমবারের মতো মূলধনি মুনাফায় কর আরোপে অখুশি বিনিয়োগকারীরা। আবার তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত করপোরেট করহার ব্যবধান আরও কমানো হয়েছে। এটাও অস্বস্তির কারণ। খোদ শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যানও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারপরও হঠাৎ করে শেয়ারদর বাড়ছে। এটা ‘মন্দের ভালো’ অবস্থা বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- পে-স্কেল ২০২৬: প্রথম ধাপে স্বস্তির আভাস, অগ্রাধিকার পাচ্ছেন যারা
- সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১.৬০ লাখ প্রস্তাব
- আজকের সোনার বাজারদর: ০৭ মে ২০২৬
- শনিবারের ছুটি বাতিল সরকারি চাকরিজীবীদের
- ১০৮ আসন পেয়েও মুখ্যমন্ত্রী হতে পারছেন না থালাপতি বিজয়
- ৫ দিনের পূর্বাভাস: তাপমাত্রা বাড়বে, আসছে বৃষ্টি
- পে-স্কেল পরিবর্তন: প্রথম ধাপে বড় সুবিধা কারা পাচ্ছেন
- নবম পে-স্কেল: সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত
- দেশের বাজারে আজকের স্বর্ণের দাম
- নবম পে-স্কেল: সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ০৭ মে ২০২৬
- সিদ্ধ ডিম আসল নাকি নকল? সহজ কিছু উপায়ে চিনে নিন
- টিন সার্টিফিকেট ছাড়া যেসব সেবা পাওয়া যাবে না
- একদিনের ব্যবধানে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- দুই ধাপে ৯ম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি
