দেশে আসছে ৪ থেকে ৬টি শৈত্যপ্রবাহ
নিজস্ব প্রতিবেদক: এবারের শীত মৌসুমে দেশে কয়েক দফায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। নভেম্বর থেকে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে চলতি শীত মৌসুমে দেশের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
৬ নভেম্বর প্রকাশিত নভেম্বর ২০২৬ থেকে জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময়ের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি কুয়াশা, বৃষ্টিপাত এবং বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিসেম্বর থেকেই বাড়তে পারে শীতের প্রকোপ
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বাসসকে জানান, ডিসেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, রংপুর এবং খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
জানুয়ারি মাসে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। এ সময় এক বা দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহও দেখা দিতে পারে। তখন কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কুয়াশায় বাড়তে পারে শীতের অনুভূতি
আগামী তিন মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা পড়তে পারে। বিশেষ করে নদ-নদীর অববাহিকা ও দেশের কিছু অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে।
ঘন কুয়াশার কারণে দিনের তাপমাত্রা ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে প্রকৃত তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।
সামগ্রিকভাবে উষ্ণ থাকতে পারে এবারের শীত
শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা থাকলেও পুরো শীত মৌসুমে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক।
তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এল নিনো পরিস্থিতি সক্রিয় থাকা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবের কারণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিলেও তার স্থায়িত্ব, সংখ্যা ও বিস্তার তুলনামূলক কম হতে পারে।
অর্থাৎ, এবারের শীতে কয়েক দফা ঠান্ডার প্রকোপ দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে শীতের মৌসুমটি কিছুটা উষ্ণ থাকতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা থাকায় নিয়মিত আবহাওয়া বার্তার দিকেও নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আবহাওয়াবিদ।
বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপের সম্ভাবনা
শীতের পূর্বাভাসের পাশাপাশি আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, অক্টোবর ও নভেম্বর সাধারণত বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল সময়। এ সময় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির কারণে লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় না।
নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বৃষ্টিপাত কেমন হবে?
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আগামী তিন মাসে দেশে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে বিভাগভেদে বৃষ্টির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।
নভেম্বরে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার এবং বরিশাল বিভাগে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং রংপুর বিভাগে ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।
ডিসেম্বরে বৃষ্টিপাত আরও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ মাসে ঢাকা বিভাগে ৮ থেকে ১০ মিলিমিটার এবং সিলেট বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।
জানুয়ারিতে খুলনা বিভাগে ১০ থেকে ১৪ মিলিমিটার এবং ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগে ৬ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় কোন ধরনের শৈত্যপ্রবাহ?
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ভিত্তিতে শৈত্যপ্রবাহকে চার ভাগে ভাগ করা হয়।
-
মৃদু শৈত্যপ্রবাহ: তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
-
মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ: তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
-
তীব্র শৈত্যপ্রবাহ: তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
-
অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ: তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভিন্ন আবহাওয়া উপাত্ত, জলবায়ু মডেল, ঊর্ধ্বাকাশের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। এল নিনো ও লা নিনার পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস সম্ভাব্য আবহাওয়ার একটি ধারণা দেয়, নিশ্চিত পরিস্থিতি নয়। তাই শৈত্যপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড় বা বৃষ্টিপাতের বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাস অনুসরণ করা জরুরি।
সোহাগ/
