| ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

পাঠ্যবইয়ের কাগজ কেনায় ৫৫ কোটি টাকা লুট

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১৫:২৫:৪৪
পাঠ্যবইয়ের কাগজ কেনায় ৫৫ কোটি টাকা লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ ঘিরে কাগজ কেনা ও মান যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবে অনেক ছাপাখানাকে নির্দিষ্ট এজেন্টের কাছ থেকে কাগজ কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। এতে বাজারদরের তুলনায় টনপ্রতি ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি খরচ করতে হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগকারীদের হিসাব অনুযায়ী, এভাবে প্রায় ২৫ হাজার টন কাগজ কেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কিছু কর্মকর্তা এবং কাগজ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত একটি চক্রের যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এনসিটিবির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানসম্মত কাগজেও অনুমোদন না পাওয়ার অভিযোগ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহানগর প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপানোর জন্য বিএইচএল পেপার মিলস লিমিটেড থেকে কাগজ কেনেন। তার দাবি, কাগজগুলো এনসিটিবির নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মানসম্মত ছিল।

কিন্তু কাগজ ছাপাখানায় পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই এনসিটিবির একটি দল সেখানে যায়। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই কাগজগুলো পাঠ্যবই ছাপানোর অনুপযুক্ত বলে জানানো হয়। ফলে ট্রাকে করে কাগজগুলো ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন তিনি।

পরে একটি নির্দিষ্ট এজেন্টের কাছ থেকে কাগজ কিনলে দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আগের কাগজের তুলনায় নিম্নমানের বলে দাবি করা সেই কাগজ কিনতে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকা বেশি দিতে হয়েছে।

পাঠ্যবই পরিদর্শনের দায়িত্ব পাওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গিয়াস উদ্দিনের প্রথম কেনা কাগজ পরীক্ষা করে সঠিক মান পাওয়া গিয়েছিল। এরপরও কেন অনুমোদন দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বাজারদরের চেয়ে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকা বেশি?

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরবরাহ করা কাগজের বাজারমূল্য ছিল টনপ্রতি প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার টাকা। কিন্তু অনেক ছাপাখানাকে একই কাগজ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে বলে অভিযোগ।

অর্থাৎ প্রতি টনে অতিরিক্ত ২২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এভাবে প্রায় ২৫ হাজার টন কাগজ কেনার হিসাব ধরলে বাড়তি অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫৫ কোটি টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, এবার প্রায় ৮০ হাজার টন কাগজের অনুমোদন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ছাপাখানাগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছিল। তবে সব ছাপাখানা একই পরিস্থিতির মুখে পড়েনি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান চীন থেকে কাগজ আমদানি করে পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ৯০০ টন কাগজের অনুমোদন

কাগজের মান ঠিক থাকার পরও অনুমোদন আটকে দেওয়ার অভিযোগে একটি ছাপাখানা মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ‘ফ্রেশ পেপার’ ব্যবহারের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু সেই কাগজের অনুমোদনও আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

পরে ছাপাখানার মালিক বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীকে জানান। এরপর এনসিটিবির কর্মকর্তাদের ডেকে শিক্ষামন্ত্রী নির্দেশ দেন, কাগজের মান ঠিক থাকলে যেন অনুমোদন দিতে বাধা দেওয়া না হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই ছাপাখানার ৯০০ টন কাগজের অনুমোদন দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এতে ওই পরিমাণ কাগজকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ বন্ধ হয়।

বইয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর অভিযোগ, পরিদর্শককে হুমকি

কাগজের অনুমোদন নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি বইয়ের সংখ্যা যাচাইয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি ছাপাখানা ২ লাখ বই ছাপালেও কাগজে-কলমে আড়াই লাখ বই দেখিয়ে অনুমোদন নিতে চেয়েছিল।

এতে রাজি না হওয়ায় এনসিটিবির এক ইন্সপেকশন এজেন্টের মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তার দাবি, ছাপাখানাটির লোকজন তার বাসায় গিয়ে হুমকি দেয়। বিষয়টি তিনি এনসিটিবির একজন সদস্যকে জানিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নতুন বই পাবে প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থী

কাগজ কেনা ও অনুমোদন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই চলছে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বছরের প্রথম দিনের পরিবর্তে বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময়ই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে চায় সরকার।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আগামী ২৪ ডিসেম্বর বই দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদেরও ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত দেশে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি।

প্রাথমিকের বই ছাপা প্রায় শেষ, পিছিয়ে মাধ্যমিক

এনসিটিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের ৯৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ বই ছাপানোর কাজ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তরে ছাপার অগ্রগতি ৭২ দশমিক ১৩ শতাংশ।

প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানোর অগ্রগতির হিসাবে প্রাক-প্রাথমিকের শতভাগ বই ছাপা শেষ হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ৯৮ দশমিক ২২ শতাংশ, দ্বিতীয় শ্রেণির ৯৮ দশমিক ১৪ শতাংশ, তৃতীয় শ্রেণির ৯৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, চতুর্থ শ্রেণির ৯৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং পঞ্চম শ্রেণির ৯৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ বই ছাপানো শেষ হয়েছে।

ইবতেদায়ি স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৯৬ দশমিক ০৭ শতাংশ বই ছাপানো হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে ষষ্ঠ শ্রেণির ৯২ দশমিক ১৮ শতাংশ, সপ্তম শ্রেণির ৯২ দশমিক ৩৭ শতাংশ, অষ্টম শ্রেণির ৬৬ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং নবম-দশম শ্রেণির ২৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বই ছাপানোর কাজ শেষ হয়েছে।

মাধ্যমিক স্তরে ছাপার অগ্রগতি তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ হিসেবে কার্যাদেশ ও চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর কাজ শুরুতে দেরির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিকের বই ছাপানো শুরুর প্রায় এক মাস পর মাধ্যমিকের বই ছাপানোর কাজ শুরু হয়েছিল।

৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই ছাপা শেষ করার লক্ষ্য

এনসিটিবি আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব পাঠ্যবই ছাপানো শেষ করে উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কাজের গতি বাড়াতে ৩২টি ছাপাখানাকে চিঠি দিয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বইয়ের মান নিশ্চিত করতে এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ৫৩টি মনিটরিং টিম কাজ করছে। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানিয়েছেন, নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী বই সরবরাহের কাজ চলছে।

সব মিলিয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপানোর কাজ একদিকে যেমন দ্রুত এগোচ্ছে, অন্যদিকে কাগজ কেনা ও অনুমোদন ঘিরে ওঠা অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে সময়মতো মানসম্মত বই পৌঁছে দিতে হলে ছাপার অগ্রগতির পাশাপাশি কাগজের মান যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন সাদমান, বড় দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ

স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন সাদমান, বড় দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সকালটা বাংলাদেশের জন্য একদিকে যেমন স্বস্তির, অন্যদিকে তেমনই দুশ্চিন্তার। ...

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছেন ...

ফুটবল

বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা: মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে কার আধিপত্য বেশি

বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা: মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে কার আধিপত্য বেশি

স্পোর্টস ডেস্ক: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মাঠে নামার আগে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে বাংলাদেশ ও ...

অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন মেসি-জিদান, আরও যারা

অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন মেসি-জিদান, আরও যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেই যে জাতীয় দলের দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ ...