বাজার থেকে কিনবেন না ৪ প্রকারের মাছ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ কথাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস। মাছ প্রোটিন, ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস। তবে মাছ কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে দূষিত পানিতে বেড়ে ওঠা মাছ, অনিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা মাছ এবং পারদ বেশি জমতে পারে এমন সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে কোনো মাছের নাম শুনেই সেটিকে ক্ষতিকর মনে করার কারণ নেই। মাছের প্রজাতি, উৎপাদনের পরিবেশ, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং খাওয়ার পরিমাণের ওপর এর নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করে।
১. বড় সামুদ্রিক শিকারি মাছ
কিছু বড় সামুদ্রিক শিকারি মাছের শরীরে পারদ বা মার্কারি জমার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি। টুনার সব প্রজাতিতে পারদের মাত্রা এক নয়। যেমন বিগআই টুনায় পারদ বেশি থাকতে পারে, অন্যদিকে ক্যানড লাইট টুনায় সাধারণত এর মাত্রা কম।
একইভাবে সব ম্যাকেরেল মাছের ঝুঁকিও সমান নয়। কিং ম্যাকেরেলে পারদের মাত্রা বেশি পাওয়া যায়। অতিরিক্ত পারদ শরীরে জমলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তি, দুগ্ধদানকারী মা এবং শিশুদের মাছের ধরন ও পরিমাণ নির্বাচনে বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
২. দূষিত পানিতে চাষ করা মাছ
মাছের নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করে সেটি কোন পরিবেশে বড় হয়েছে তার ওপর। দূষিত পানি, অপরিচ্ছন্ন ঘের বা পুকুর এবং অনিরাপদ খাদ্যের কারণে মাছের শরীরে ক্ষতিকর দূষক জমতে পারে।
পাঙ্গাশ, পাবদা, মাগুর কিংবা অন্য কোনো চাষের মাছের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। শুধু মাছের নাম দেখে সেটিকে অনিরাপদ বলা যায় না। বরং মাছের উৎপাদনস্থল, চাষের পরিবেশ এবং খাদ্যের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
৩. অস্বাভাবিকভাবে বড় বা দ্রুত বেড়ে ওঠা মাছ
বাজারে বড় আকারের মাছ দেখলেই অনেক ক্রেতা আকৃষ্ট হন। তবে মাছ বড় হলেই সেটি বেশি পুষ্টিকর বা নিরাপদ, এমন ধারণা ঠিক নয়।
মাছ দ্রুত বড় করার জন্য হরমোন বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো মাছের নমুনা পরীক্ষা ছাড়া শুধু আকার দেখে তাতে হরমোন বা রাসায়নিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায় না।
তাই পরিচিত ও বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে মাছ কেনা এবং সম্ভব হলে নিরাপদ উৎসের মাছ বেছে নেওয়াই ভালো।
৪. তেলাপিয়াসহ চাষের মাছের পুষ্টিগুণ নিয়ে ভুল ধারণা
তেলাপিয়া মাছের ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ নিয়ে অনেক সময় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে শুধু ওমেগা-৬ থাকার কারণে তেলাপিয়াকে হৃদরোগের জন্য ক্ষতিকর বলা যায় না। মাছের সামগ্রিক পুষ্টিগুণ, খাদ্যাভ্যাস এবং রান্নার পদ্ধতিও বিবেচনায় নিতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) নির্দেশিকায় তেলাপিয়াকে কম পারদযুক্ত মাছের তালিকায় রাখা হয়েছে। ফলে মাছটি স্বাভাবিকভাবে নিরাপদ পরিবেশে উৎপাদিত হলে শুধু নামের কারণে তা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
মাছ কেনার সময় কয়েকটি সাধারণ বিষয় অনুসরণ করলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
-
মাছের চোখ স্বাভাবিক ও উজ্জ্বল কি না দেখুন।
-
মাছের গায়ে পচা বা অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ আছে কি না খেয়াল করুন।
-
মাছের মাংস অতিরিক্ত নরম বা পিচ্ছিল হলে সতর্ক থাকুন।
-
বরফ বা উপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা মাছ কিনুন।
-
মাছের উৎস সম্পর্কে বিক্রেতার কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করুন।
-
মাছ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিরাপদ তাপমাত্রায় সম্পূর্ণ রান্না করে খান।
না। মাছ খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং বিভিন্ন ধরনের নিরাপদ মাছ পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। মাছ শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে পারদ কম এমন মাছ বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এফডিএর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মাছের সব প্রজাতিতে পারদের মাত্রা এক নয়। তাই মাছের ধরন অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, বড় মাছ মানেই ক্ষতিকর নয়, আবার পরিচিত মাছ মানেই সব সময় নিরাপদ নয়। মাছের উৎস, সংরক্ষণ এবং রান্নার পদ্ধতির দিকে নজর রাখাই সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সোহাগ/
