গোপালগঞ্জে জামায়াতের লংমার্চে হেলমেট পরা নেতাকর্মী, ‘ফাইটার গ্রুপ’ নিয়ে আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: গোপালগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। লংমার্চের গাড়িবহরে হেলমেট পরা কয়েকজন নেতাকর্মীর উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। তাঁদের ঘিরে ‘ফাইটার গ্রুপ’ নামে নানা আলোচনা ছড়ালেও এ ধরনের কোনো বিশেষ দল গঠন বা তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত ৩১ অক্টোবর সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। খুলনা ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ামুখী কর্মসূচির অংশ হিসেবে লংমার্চের গাড়িবহর গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে যায়।
প্রথমদিকে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা বা সমাবেশ করা হবে না। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরে জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া বাজার এলাকায় সংক্ষিপ্ত পথসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ১১ দলীয় জোটের সাত দফা দাবির প্রতি সংহতি জানানোর আহ্বান জানান।
লংমার্চের গাড়িবহর গোপালগঞ্জে প্রবেশের পর একটি ট্রাকে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মীকে হেলমেট পরা অবস্থায় দেখা যায়। তাঁদের এই উপস্থিতি ঘিরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফাইটার গ্রুপ’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
তবে হেলমেট পরা ব্যক্তিরা কোনো বিশেষ নিরাপত্তা দল বা ‘ফাইটার গ্রুপের’ সদস্য কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি যাচাই ছাড়া সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
এদিকে লংমার্চকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
লংমার্চের আগে গোপালগঞ্জে পথসভা না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে জামায়াতের রাজনৈতিক সাহস নিয়ে প্রশ্ন উঠে আসে।
অন্যদিকে, জামায়াতের স্থানীয় নেতারা সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে গোপালগঞ্জ অতিক্রম করার কথা জানিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়ায় সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
লংমার্চ চলাকালে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই গাড়িবহরটি গোপালগঞ্জ অতিক্রম করে। পরে বাগেরহাট ও খুলনার দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
সব মিলিয়ে, হেলমেট পরা নেতাকর্মীদের উপস্থিতি, ‘ফাইটার গ্রুপ’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা এবং পথসভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জের লংমার্চ রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। তবে বিশেষ কোনো ‘ফাইটার গ্রুপ’ গঠন কিংবা তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় এ নিয়ে প্রচারিত দাবিগুলো যাচাই করা জরুরি।
সোহাগ/
