Honda-র বিক্রি ১৩%, বাংলাদেশে কোন বাইকের দাম কত
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের বাজারে ২০২৬ সালের অক্টোবরে ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৬টি মোটরসাইকেল ও স্কুটার বিক্রি করেছে Honda Motorcycle & Scooter India (HMSI)। গত বছরের একই মাসের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে ১৩ শতাংশ। উৎসবের মৌসুমে দেশটির বাজারে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অক্টোবর মাসে ভারতে Honda-র অভ্যন্তরীণ বিক্রি হয়েছে ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৮৩১ ইউনিট। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৫২। অর্থাৎ এক বছরে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি বেড়েছে ১১ শতাংশ।
অন্যদিকে, রপ্তানি হয়েছে ৬৯ হাজার ৭৩৫ ইউনিট। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ৬৪৪ ইউনিট। সে হিসাবে রপ্তানি বেড়েছে ৩৫ শতাংশ।
অক্টোবরে Honda-র মোট বিক্রির হিসাব
২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে Honda-র বিক্রির চিত্র ছিল এমন:
-
মোট বিক্রি: ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৬ ইউনিট
-
ভারতের অভ্যন্তরীণ বিক্রি: ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৮৩১ ইউনিট
-
রপ্তানি: ৬৯ হাজার ৭৩৫ ইউনিট
-
মোট বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি: ১৩ শতাংশ
এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, Honda-র মোট বিক্রির বড় অংশ এসেছে ভারতের নিজস্ব বাজার থেকে। তবে অভ্যন্তরীণ বিক্রির তুলনায় রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির হার বেশি।
সাত মাসে বিক্রি ৪১ লাখ ছাড়িয়েছে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেও ভালো প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে Honda। এপ্রিল থেকে অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রি হয়েছে ৪১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৩৮ ইউনিট। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৩৬ লাখ ৪৪ হাজার ১৫১ ইউনিট।
এ হিসাবে সাত মাসে মোট বিক্রি বেড়েছে ১৫ শতাংশ।
এই সময়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি হয়েছে ৩৭ লাখ ৮ হাজার ৯০৩ ইউনিট, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। আর রপ্তানি হয়েছে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৭৩৫ ইউনিট। রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৮ শতাংশ।
বাংলাদেশে Honda মোটরসাইকেলের দাম কত?
ভারতে Honda-র বিক্রি বাড়লেও এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের বাজারের বিক্রির হিসাব নয়। বাংলাদেশে Honda মোটরসাইকেল বিক্রি ও বাজার পরিস্থিতি আলাদা। তবে স্থানীয় ক্রেতাদের জন্য বাংলাদেশে পাওয়া কয়েকটি Honda মডেলের প্রকাশিত দাম জানা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ Honda Private Limited-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী:
| মোটরসাইকেলের মডেল | বাংলাদেশে দাম |
|---|---|
| Honda SP125 | ১,৬৭,০০০ টাকা |
| Honda Livo | ১,৪৫,০০০ টাকা |
প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে আরও CBR150R, NX200, Hornet 2.0, XBlade, SP160, Dream110, Shine100 এবং Shine100 DX মডেল তালিকাভুক্ত রয়েছে।
মনে রাখতে হবে, মোটরসাইকেলের দাম সময় ও বিক্রয়-অফার অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। কেনার আগে অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে সর্বশেষ মূল্য, স্টক ও ওয়ারেন্টির তথ্য জেনে নেওয়া ভালো।
Honda-র বিক্রি বাড়ার পেছনে কী ভূমিকা রেখেছে?
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের উৎসবের মৌসুমে মোটরসাইকেল ও স্কুটারের চাহিদা Honda-র বিক্রিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দেশজুড়ে ৭ হাজারের বেশি বিক্রয় ও সেবা-সংক্রান্ত যোগাযোগকেন্দ্রের নেটওয়ার্কও প্রতিষ্ঠানটির বাজার বিস্তারে সহায়তা করছে।
ভারতে Honda-র চারটি উৎপাদন কারখানা রয়েছে। মানেসর, তাপুকারা, নারসাপুরা ও ভিতলাপুরে অবস্থিত এসব কারখানা থেকে অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও মোটরসাইকেল উৎপাদন করা হয়।
সামনে কী হতে পারে?
২০২৬-২৭ অর্থবছরের এখনো পাঁচ মাস বাকি। প্রথম সাত মাসে ১৫ শতাংশ বিক্রয় প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে অর্থবছরের বাকি সময়েও Honda-র জন্য ভালো ফলের সুযোগ থাকবে।
তবে অক্টোবরের বিক্রির পরিসংখ্যানে কোন মডেলের অবদান কত, তা আলাদাভাবে প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে Activa, Shine বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট মডেলের বিক্রির ভিত্তিতে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, ভারতের বাজারে অক্টোবর মাসে Honda-র বিক্রি ও রপ্তানি দুটিই বেড়েছে। আর বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য স্থানীয় বাজারে SP125 ও Livo-র মতো মডেলের দামও কেনার আগে বিবেচনায় রাখার মতো তথ্য।
আশা/
