| ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

পে-ফিকেশন ও সার্ভিস বুকের কাজে টাকা দাবি, ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ৩০ ১৯:৩৭:০৯
পে-ফিকেশন ও সার্ভিস বুকের কাজে টাকা দাবি, ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী পে-ফিকেশন এবং সার্ভিস বুকের কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বা তার বেশি অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি বার্তায় দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এ ধরনের অর্থ দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ ঘিরে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কোথাও পে-ফিকেশন বা বেতন নির্ধারণের কাজের জন্য, আবার কোথাও সার্ভিস বুকের তথ্য হালনাগাদ ও এন্ট্রির নামে অর্থ চাওয়া হচ্ছে। ফেনী, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর এবং কুতুবদিয়াসহ কয়েকটি এলাকার সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গও এসব বার্তায় উঠে এসেছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। কোনো দপ্তর বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁদের দায়ী করা সমীচীন নয়। এ অবস্থায় অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

পে-ফিকেশন করতে গিয়ে কেন অর্থ দাবির অভিযোগ?

পে-ফিকেশন হলো সরকারি কর্মচারীর প্রাপ্য বেতন নির্ধারণ বা পুনর্নির্ধারণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে কর্মচারীর পদবি, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বর্তমান মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি এবং প্রযোজ্য বেতনবিধি অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়।

কাজটি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। চাকরির রেকর্ডে ভুল, পদসংক্রান্ত অসংগতি কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে অতিরিক্ত যাচাইও করতে হতে পারে।

তবে প্রশাসনিক জটিলতা থাকলেও তার সুযোগ নিয়ে কেউ অননুমোদিতভাবে অর্থ দাবি করলে সেটি গুরুতর অভিযোগ। সরকারি কর্মচারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের জন্য ব্যক্তিগতভাবে টাকা দিতে হলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

কোথাও ৩০০, কোথাও ৫০০ টাকা চাওয়ার অভিযোগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বার্তায় পে-ফিকেশন ও সার্ভিস বুকের কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অঙ্কের অর্থ দাবির কথা বলা হয়েছে। কোনো বার্তায় প্রতি বই বা নির্দিষ্ট কাজের জন্য ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্য একটি বার্তায় কয়েকটি গ্রুপের কাছ থেকে পে-ফিকেশন সম্পন্ন করার জন্য অর্থ নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

একটি অভিযোগে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফেনী ও কুতুবদিয়ার কয়েকটি সরকারি দপ্তর নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ প্রচারিত হয়েছে।

আরেকটি বার্তায় সার্ভিস বুক এন্ট্রির জন্য ন্যূনতম ৫০০ টাকা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থ না দিলে কাজ সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে অর্থ দাবির প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং দাপ্তরিক প্রক্রিয়া যাচাই করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

সার্ভিস বুকের কাজ নিয়েও অসন্তোষ

সরকারি কর্মচারীদের চাকরিজীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণের নথি হলো সার্ভিস বুক। এতে চাকরিতে যোগদানের তথ্য, পদবি, পদোন্নতি, বেতন বৃদ্ধি, ছুটি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে।

পে-ফিকেশন, পদোন্নতি কিংবা চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সার্ভিস বুকের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। তাই নথিটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও সময়মতো হালনাগাদ করা গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু সার্ভিস বুকের তথ্য এন্ট্রি বা সংশোধনের কাজে অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোনো সেবার জন্য সরকারি নিয়মে নির্ধারিত ফি থাকলে তার পরিমাণ, পরিশোধের পদ্ধতি এবং রসিদের বিষয়টি স্পষ্ট থাকা উচিত। অনুমোদিত ভিত্তি ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে অর্থ দাবি করা হলে তা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

কেউ টাকা দাবি করলে সরকারি কর্মচারীরা কী করবেন?

পে-ফিকেশন বা সার্ভিস বুকের কাজের জন্য কেউ অননুমোদিতভাবে অর্থ দাবি করলে সরকারি কর্মচারীরা কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারেন।

১. প্রমাণ সংরক্ষণ করুন: অর্থ দাবির বিষয়ে মেসেজ, লিখিত নির্দেশনা, লেনদেনের তথ্য বা অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক নথি থাকলে সেগুলো সংরক্ষণ করুন। প্রমাণ সংগ্রহের সময় নিজের নিরাপত্তা ও আইনগত বিষয় বিবেচনায় রাখুন।

২. ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান: সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করা যেতে পারে। অভিযোগে ঘটনার তারিখ, স্থান, অর্থের পরিমাণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা উচিত।

৩. অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার সহায়তা নিন: সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থায় অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকলে সেটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪. দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ জানান: ঘুষ দাবি বা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে দুর্নীতি দমন কমিশনের নির্ধারিত মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি ও যোগাযোগের তথ্য কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করা উচিত।

৫. যাচাই ছাড়া পরিচয় প্রকাশ করবেন না: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও নাম, ছবি, ফোন নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের আগে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে ভুল তথ্য ছড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় আইনগত জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

গোপনে অডিও বা ভিডিও ধারণের আগে সতর্কতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় অর্থ দাবির ঘটনা অডিও বা ভিডিওতে ধারণ করে প্রমাণ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে প্রমাণ সংগ্রহের নামে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যাতে নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে বা আইনগত জটিলতা তৈরি হয়।

গোপনে অডিও বা ভিডিও ধারণের বৈধতা পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই সংঘাতে না জড়িয়ে নিরাপদ ও আইনসম্মত উপায়ে অভিযোগের তথ্য সংরক্ষণ এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করাই গুরুত্বপূর্ণ।

পে-ফিকেশন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে যা প্রয়োজন

সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া অসন্তোষ দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

  • নির্ধারিত প্রক্রিয়া প্রকাশ: পে-ফিকেশন ও সার্ভিস বুকের কাজ কোন নিয়মে সম্পন্ন হবে, তা স্পষ্টভাবে জানানো।

  • অনুমোদিত ফি সম্পর্কে তথ্য: কোনো সেবার জন্য সরকারি ফি থাকলে তার পরিমাণ ও পরিশোধের নিয়ম প্রকাশ করা।

  • অভিযোগের তদন্ত: নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা।

  • ডিজিটাল সেবা সহজ করা: অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদন, তথ্য যাচাই ও কাজের অগ্রগতি জানার সুযোগ বাড়ানো।

  • জবাবদিহি নিশ্চিত করা: কোন কর্মকর্তা বা দপ্তরের দায়িত্বে কাজটি রয়েছে, তা কর্মচারীদের জানানো।

  • অভিযোগকারীর সুরক্ষা: অনিয়মের অভিযোগ জানানোর কারণে কোনো কর্মচারী যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে নজর রাখা।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি

পে-ফিকেশন ও সার্ভিস বুক সরকারি কর্মচারীদের চাকরি এবং বেতনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম। এসব কাজের জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ দাবির অভিযোগ সত্য হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্য, নথি ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারি কর্মচারীরা যেন নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বা হয়রানির মুখে না পড়েন, সে জন্য পে-ফিকেশন ও সার্ভিস বুকের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নির্ধারিত নিয়ম এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন খবর সামনে এসেছে। ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন রোমেরো

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন রোমেরো

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব সরাসরি নাকচ করে ...

ব্যালন ডি’অর জিতে কত টাকা পান হ্যারি কেইন

ব্যালন ডি’অর জিতে কত টাকা পান হ্যারি কেইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যালন ডি’অর ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার। এই ট্রফি জেতা মানে শুধু মাঠের ...