৭ নভেম্বর সব ব্যাংক বন্ধ, গ্রাহকদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা বন্ধ থাকবে। ফলে ওই দিন ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা, উত্তোলন, চেকসংক্রান্ত কাজসহ নিয়মিত শাখাভিত্তিক সেবা নিতে পারবেন না গ্রাহকেরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এদিন ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক সার্কুলার লেটারে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
কেন ৭ নভেম্বর ব্যাংক বন্ধ থাকবে?
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) থেকে জারি করা চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ নভেম্বর ব্যাংক বন্ধ থাকবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ব্যাংক বন্ধ থাকলে যেসব সেবা পাওয়া যাবে না
৭ নভেম্বর ব্যাংকের শাখা বন্ধ থাকায় গ্রাহকেরা সরাসরি গিয়ে নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন না। যেমন:
-
ব্যাংকের কাউন্টার থেকে নগদ টাকা জমা ও উত্তোলন
-
চেক জমা ও চেকসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা
-
নতুন ব্যাংক হিসাব খোলা
-
ব্যাংক কর্মকর্তার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয় এমন অন্যান্য শাখাভিত্তিক কাজ
এ ছাড়া ব্যাংকের কর্মীদের সরাসরি অংশগ্রহণ প্রয়োজন এমন কিছু লেনদেনের নিষ্পত্তিও পরবর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
এটিএম ও মোবাইল ব্যাংকিং কি চালু থাকবে?
ব্যাংকের শাখা বন্ধ থাকলেও সব ধরনের আর্থিক লেনদেন বন্ধ থাকবে না। সাধারণত ছুটির দিনেও এটিএম বুথ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু সেবা পাওয়া যায়।
তবে এসব সেবার প্রাপ্যতা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নির্ধারিত সীমার ওপর নির্ভর করবে। কিছু লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে করা গেলেও অন্য কিছু লেনদেনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য ব্যাংকের পরবর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
তাই ছুটির দিনে জরুরি লেনদেনের পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই নিজের ব্যাংকের নির্দেশনা জেনে নেওয়া ভালো।
গ্রাহকদের এখন কী করা উচিত?
৭ নভেম্বর ব্যাংক বন্ধ থাকায় যাদের শাখায় গিয়ে জরুরি কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে, তাদের আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও উদ্যোক্তাদের নগদ অর্থ উত্তোলন, চেক জমা এবং প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কাজ ছুটির আগেই সম্পন্ন করে রাখা ভালো।
এ ছাড়া ঋণের কিস্তি, বিল পরিশোধ কিংবা অন্য কোনো আর্থিক দায়ের নির্ধারিত তারিখ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ম জেনে নিন। ছুটির কারণে এসব ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে, তা ব্যাংকভেদে আলাদা হতে পারে।
এক নজরে ৭ নভেম্বর ব্যাংক বন্ধের তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ব্যাংক বন্ধের তারিখ | ৭ নভেম্বর ২০২৬ |
| বার | শনিবার |
| উপলক্ষ | জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস |
| প্রযোজ্য | দেশের সব তফসিলি ব্যাংক |
| নির্দেশনা দিয়েছে | বাংলাদেশ ব্যাংক |
| সার্কুলার জারির তারিখ | ২৯ অক্টোবর ২০২৬ |
| সরকারি প্রজ্ঞাপনের তারিখ | ৭ অক্টোবর ২০২৬ |
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা বন্ধ থাকবে। তাই ওই দিন ব্যাংকে গিয়ে জরুরি কাজ করার পরিকল্পনা থাকলে আগেই তা সম্পন্ন করুন। ছুটির দিনে প্রয়োজনীয় লেনদেনের জন্য এটিএম ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার প্রাপ্যতা নিজ নিজ ব্যাংক থেকে নিশ্চিত করে নিন।
সোহাগ/
