পঞ্চম শ্রেণির বইয়ে আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিম
নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগের কথা স্থান পেয়েছে পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে। ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ শিরোনামের গল্পে তাঁদের ভূমিকার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে।
২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ২২ নম্বর পাঠে রয়েছে গল্পটি। এতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করা হয়েছে। গল্পের শেষাংশে বিশেষভাবে এসেছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ।
গল্পে রংপুরের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের প্রতিবাদের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বৈষম্য ও অধিকারের দাবিতে আন্দোলনের সময় তিনি দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর এই ঘটনা দেশজুড়ে আন্দোলন ও প্রতিবাদের অন্যতম আলোচিত প্রতীকে পরিণত হয়।
পাঠ্যবইয়ের বর্ণনায় আবু সাঈদের আত্মত্যাগকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
গল্পে ঢাকার উত্তরায় শহীদ হওয়া মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের অবদানের কথাও রয়েছে। আন্দোলনের সময় তিনি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পানি বিতরণ করছিলেন। আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনাই গল্পে তাঁর পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামে শহীদ হওয়া ওয়াসিম আকরামের কথা উল্লেখ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানুষের অধিকারের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
গল্পে গোলাম নাফিজ, নাহিয়ানসহ আরও অনেকের আত্মত্যাগের কথাও এসেছে। এতে বোঝানো হয়েছে, ২০২৪ সালের আন্দোলনে বিভিন্ন বয়সের মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ গল্পে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের আন্দোলন ও সংগ্রামে শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
-
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন: তিতুমীর, সূর্য সেন ও প্রীতিলতা।
-
ভাষা আন্দোলন: সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বার।
-
১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান: শহীদ আসাদ, ছাত্র মতিউর, আনোয়ারা বেগম, সার্জেন্ট জহুরুল হক ও অধ্যাপক শামসুজ্জোহা।
-
স্বাধীনতাযুদ্ধ: মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা।
-
স্বৈরাচারবিরোধী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন: ১৯৮৩ সালের সেলিম-দেলোয়ার, ১৯৮৭ সালের নূর হোসেন এবং ১৯৯০ সালের আন্দোলনে শহীদ ডা. মিলন ও জেহাদ।
এভাবে গল্পটিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে অধিকার আদায় ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের বিভিন্ন অধ্যায়কে একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
গল্পের বর্ণনায় বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের পরও বৈষম্য ও অধিকারসংক্রান্ত নানা প্রশ্ন রয়ে গিয়েছিল। এসব দাবি সামনে রেখেই ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীরা আবার রাস্তায় নামে। আন্দোলন দমনের সময় প্রাণহানি ঘটে এবং দেশজুড়ে গণ-অভ্যুত্থান ছড়িয়ে পড়ে।
পাঠ্যবইয়ের গল্পে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই আন্দোলনে দেড় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, আবার অনেকে স্থায়ীভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন। এই আত্মত্যাগের সঙ্গে বৈষম্যহীন ও সুন্দর দেশ গড়ার স্বপ্নের কথাও যুক্ত করা হয়েছে।
পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ের এই গল্পে বিভিন্ন সময়ের শহীদদের স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁদের আত্মত্যাগের পেছনে থাকা অধিকার, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।
গল্পটির মূল বক্তব্য—দেশের মানুষের অধিকার ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের অবদান যেন নতুন প্রজন্ম ভুলে না যায়।
সোহাগ/
