শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের ৪ নির্দেশনা দিল মাউশি
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে চারটি নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্দেশনায় শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে ছাদ, শৌচাগার ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাউশির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
মাউশির চার নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে
১. নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, বারান্দা, ছাদ, শৌচাগার, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
২. জমে থাকা পানি অপসারণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ
প্রতিষ্ঠানের কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। পানি জমে থাকলে দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৩. শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতা কার্যক্রম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
৪. শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক শৃঙ্খলা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
কেন দেওয়া হলো এই নির্দেশনা?
মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি স্থাপনা আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন করা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মিরপুর বাংলা কলেজের নাম রয়েছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের করণীয়
নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি করা, পানি জমার স্থান চিহ্নিত করা, মশার প্রজননস্থল দূর করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতনতা কার্যক্রমে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদক্ষেপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
সিদ্দিকা/
