আগামী ঈদে শতভাগ উৎসব ভাতা চান এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা, সঙ্গে ৩ দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ঈদুল ফিতরে শতভাগ উৎসব ভাতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং ২০২৬ সালের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তিতে বৈষম্য দূর করার দাবিও তুলেছেন শিক্ষক নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ‘উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসন প্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং’-এর নেতারা।
ঈদে শতভাগ উৎসব ভাতার দাবি
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা আগামী ঈদুল ফিতরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা দেওয়ার দাবি জানান। তাঁদের মতে, উৎসব ভাতা, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার আহ্বান জানান শিক্ষক নেতারা। তবে এসব দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে জানানো হয়নি।
উচ্চতর গ্রেডে বৈষম্য দূর করার দাবি
শিক্ষক নেতাদের অন্যতম দাবি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালার পার্থক্য দূর করা।
তাঁরা বলেন, একই এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় কাজ করলেও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা শর্ত রয়েছে। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, এই পার্থক্যের কারণে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শিক্ষক নেতাদের ভাষ্য, মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১১.৫ অনুচ্ছেদে প্রথম উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম এমপিওভুক্তির সময়কাল বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর ১১.৭ অনুচ্ছেদে ভিন্ন শর্ত থাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে একই সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে না।
তাঁদের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরির ধরনে সামঞ্জস্য থাকা সত্ত্বেও নীতিমালার পার্থক্যের কারণে আর্থিক বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেও অনেক শিক্ষক ন্যায্য সুবিধা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন তাঁরা।
বিএড ডিগ্রির কারণে উচ্চতর গ্রেড পেতে বিলম্বের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে বিএড (ব্যাচেলর অব এডুকেশন) ডিগ্রির কারণে উচ্চতর গ্রেড পেতে বিলম্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন শিক্ষকরা।
তাঁদের বক্তব্য, বিএড ডিগ্রি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষাদান পদ্ধতির উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু উচ্চতর গ্রেড নির্ধারণে বিএড ডিগ্রি অর্জনের পরের সময়কে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করায় অনেক শিক্ষককে আর্থিক সুবিধা পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
শিক্ষক নেতারা মনে করেন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ডিগ্রির কারণে আর্থিক সুবিধা পেতে বিলম্ব হওয়া শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে।
শিক্ষকদের দাবিগুলো কী কী?
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে:
- আগামী ঈদুল ফিতরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা দেওয়া।
- শিক্ষক-কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাতা নিশ্চিত করা।
- চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি করা।
- ২০২৬ সালের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা।
- স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর ১১.৭ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১১.৫ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা।
- প্রথম এমপিওভুক্তির সময় থেকে অভিজ্ঞতা গণনা করে প্রথম উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
- বিএড ডিগ্রির কারণে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তিতে যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে শিক্ষকরা দাবি করছেন, তা দূর করা।
শিক্ষক নেতাদের মতে, এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা ও উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে অগ্রগতি হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাবেশিকফোর সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দীন, নির্বাহী মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি মো. আতিকুর রহমান তালুকদার, সহসভাপতি মো. শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মো. রবিউল ইসলাম ও মো. তোফায়েল সরকার।
এ ছাড়া ‘উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসন প্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং’-এর মো. সাইদুজ্জামান, মো. মাহমুদুল হাসান মোহাব্বত, মো. রাশেদ, মো. আল মামুন, মো. জসিম উদ্দিন, রিনা খাতুন ও মো. মাসুদসহ অন্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষক নেতারা তাঁদের দাবিগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সোহাগ/
