ব্যালন ডি’অরের বিশেষ ভোটে মেসিকে পেছনে ফেললেন রোনালদো, ব্যবধান বড়
নিজস্ব প্রতিবেদক: লিওনেল মেসি নাকি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো—ফুটবলের সর্বকালের সেরা তারকাকে নিয়ে এই বিতর্ক নতুন নয়। এবার ব্যালন ডি’অরের বিশেষ এক ভোটাভুটিতে দুই মহাতারকার লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদো। তবে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু দুই ফুটবলারের মধ্যে নয়, তাঁদের ব্যালন ডি’অর জেতা নির্দিষ্ট মৌসুমগুলোর মধ্যেও।
ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে চালু হয়েছে ‘Ballon d’Or Of All Time’ বা সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অর বিজয়ী বেছে নেওয়ার ভোট। এতে একাধিকবার পুরস্কারজয়ী ১০ জন কিংবদন্তি ফুটবলারের বিভিন্ন বছরের অর্জনের মধ্যে থেকে পছন্দের মৌসুম বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভোটটি ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
ভোটে রোনালদোর ২০০৮ সালের মৌসুম এগিয়ে
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ভোটের হিসাব অনুযায়ী, রোনালদোর ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট নিয়ে সবার ওপরে রয়েছে। সে বছর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন পর্তুগিজ তারকা।
অন্যদিকে, মেসির ২০১২ সালের রেকর্ডগড়া মৌসুম পেয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ ভোট। ওই বছর আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ৬৯ ম্যাচে ৯১ গোল করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই বছর টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন তিনি।
তবে ভোটের এই ব্যবধানকে সরাসরি দুই খেলোয়াড়ের সামগ্রিক জনপ্রিয়তা কিংবা কে সর্বকালের সেরা—তার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, ভোটাররা খেলোয়াড়ের পাশাপাশি তাঁদের নির্দিষ্ট একটি মৌসুমকেও বেছে নিচ্ছেন।
মেসির ২০২৩ সালের মৌসুমও রয়েছে আলোচনায়
প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মেসির ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম প্রায় ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে পরের অবস্থানে রয়েছে। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পর ওই বছর অষ্টমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন মেসি।
সে সময় প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের হয়েও খেলেছেন তিনি। প্রতিবেদনে তাঁর ৪১ ম্যাচে ২১ গোল ও ২০টি অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়েছে।
মেসির সমর্থকদের ভোট একাধিক মৌসুমে ভাগ হয়ে যাওয়াও বর্তমান হিসাবের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। কারণ, আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকার একাধিক পুরস্কারজয়ী বছর ভোটের তালিকায় রয়েছে।
রোনালদোর অন্য মৌসুমগুলোর অবস্থান
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ভোটের হিসাবে, রোনালদোর ২০০৭ সালের মৌসুম প্রায় ৭ শতাংশ এবং ২০১৬ সালের মৌসুম প্রায় ২ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে, তালিকার বাকি মৌসুমগুলোর কোনোটি ১ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ভোটে রোনালদোর ২০০৮ সালের মৌসুম এগিয়ে থাকলেও ফলাফল এখনো চূড়ান্ত নয়। ভোট শেষ হওয়ার আগে সমর্থকদের পছন্দ পরিবর্তন হতে পারে।
শুধু মেসি-রোনালদো নন, তালিকায় আরও আট কিংবদন্তি
এই বিশেষ ভোটে মেসি ও রোনালদোর পাশাপাশি রয়েছেন আরও আটজন কিংবদন্তি। তাঁদের মধ্যে আছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও, নেদারল্যান্ডসের মার্কো ফান বাস্তেন ও ইয়োহান ক্রুইফ, ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি, জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ও কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে, ইংল্যান্ডের কেভিন কিগান এবং আলফ্রেদো দি স্তেফানো।
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে মেসি আটবার এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো পাঁচবার এই পুরস্কার জিতেছেন। ফান বাস্তেন, প্লাতিনি ও ক্রুইফ তিনবার করে পুরস্কারটি জিতেছেন। রোনালদো নাজারিও, বেকেনবাওয়ার, রুমেনিগে, কিগান ও দি স্তেফানোও একাধিকবার এই সম্মান পেয়েছেন।
ভোট দিতে কত খরচ, কী পুরস্কার রয়েছে?
ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটের জন্য এক ইউরো দিতে হয়। এর বিনিময়ে ভোটার একটি বিশেষ ব্যালন ডি’অর ছবি ডাউনলোড করতে পারেন এবং ২০২৭ সালের ৭১তম ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের দুটি টিকিট জেতার ড্রয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
একজন ভোটার একাধিকবার ভোট দিতে পারবেন। তবে প্রতিটি ভোটের জন্য আলাদাভাবে এক ইউরো দিতে হবে। ভোট শেষ হওয়ার পর ২৮ অক্টোবর ফলাফল প্রকাশের কথা জানিয়েছে আয়োজকেরা।
সব মিলিয়ে, ব্যালন ডি’অরের এই বিশেষ ভোটে এখন পর্যন্ত রোনালদোর ২০০৮ সালের মৌসুম বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে এই অবস্থান বদলাতে পারে। আর ভোটের ফল যা-ই হোক, মেসি ও রোনালদোর ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে ফুটবলভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে, এই আয়োজন তা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
আয়শা/
