সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে যাতায়াতের প্রধান সড়ক সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ায় সাজেকে যাতায়াতকারী পর্যটকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বন্ধ রয়েছে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অবরোধের ডাক দিয়েছে সাজেক পাবলিক রাইটস প্রোটেকশন কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবরোধ চলাকালে গঙ্গারাম উচাবাজারসহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও পিকেটিং করেন আন্দোলনকারীরা। এতে সাজেক ও দীঘিনালার মধ্যে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
শনিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাজেক পাবলিক রাইটস প্রোটেকশন কমিটি অভিযোগ করে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নাম ব্যবহারকারী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি দিচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, জেএসএসের নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁরা অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের লাইনম্যান ইয়াসিন আরাফাত জানান, শনিবার সরকারি নিরাপত্তা প্রহরায় ৯০টি গাড়ি সাজেকে প্রবেশ করে। এসব গাড়িতে ৯০০ জনের বেশি পর্যটক ছিলেন। গাড়িগুলোর মধ্যে ব্যক্তিগত কার, বড় যানবাহন ও মোটরসাইকেল ছিল।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, অবরোধের কারণে নিয়মিত দুইবারের পরিবর্তে বেলা ২টায় একবার নিরাপত্তা বহর চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকেরা বের হতে পারবেন এবং নতুন পর্যটকেরা সেখানে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে, অবরোধের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
অবরোধের কারণে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের যাত্রার আগে সড়কের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সোহাগ/
