| ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

Redmi Note 17 Pro রিভিউ: ৪০ হাজারের বেশি দামে কতটা ভালো

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ আগস্ট ১৪ ২১:৪৩:৫৯
Redmi Note 17 Pro রিভিউ: ৪০ হাজারের বেশি দামে কতটা ভালো

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্মার্টফোনের বাজারে Redmi Note সিরিজ একসময় ‘ভ্যালু ফর মানি’ ফোন হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিল। তুলনামূলক কম দামে ভালো ডিসপ্লে, পারফরম্যান্স, ক্যামেরা ও ব্যাটারি দেওয়াই ছিল এই সিরিজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তবে Redmi Note 17 Pro-এর ক্ষেত্রে সেই পুরোনো ধারণার সঙ্গে অনেকটাই পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

নতুন এই ফোনটি হাতে নিলে প্রথমেই এর ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি নজর কাড়বে। দেখতে অনেকটা Redmi Turbo সিরিজের ফোনের মতো। ফোনটির ফ্রেম প্লাস্টিকের হলেও পেছনে রয়েছে গ্লাস প্যানেল। কর্নারগুলো কিছুটা গোলাকার হওয়ায় হাতে ধরতে আরামদায়ক। তবে ২২৬ গ্রাম ওজনের কারণে ফোনটি কিছুটা ভারী মনে হতে পারে।

এ ছাড়া ফোনটিতে IP68 ও IP69 রেটিং থাকায় পানি ও ধুলাবালির বিরুদ্ধে ভালো সুরক্ষা পাওয়া যাবে।

ডিসপ্লেতে আপস নেই

Redmi Note 17 Pro-এর অন্যতম ভালো দিক হলো এর ডিসপ্লে। ফোনটিতে রয়েছে ৬.৮৩ ইঞ্চির AMOLED প্যানেল, যার রিফ্রেশ রেট ১২০Hz। ডিসপ্লেতে রয়েছে ৩৮৪০Hz PWM dimming এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৩৫০০ নিট পিক ব্রাইটনেস।

ইনডোর কিংবা আউটডোর, দুই জায়গাতেই ডিসপ্লেটি ভালো ভিজিবিলিটি দিতে সক্ষম। কালার রিপ্রোডাকশনও সন্তোষজনক। টাচ রেসপন্স বা ডিসপ্লেতে ব্যবহারের সময় বড় কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি।

সামনের দিকে রয়েছে পাঞ্চ-হোল কাটআউট এবং বেজেলও যথেষ্ট পাতলা। তবে এই দামের ফোন হিসেবে বেজেল আরও সরু হতে পারত।

পারফরম্যান্সে বড় প্রশ্ন

ফোনটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সম্ভবত পারফরম্যান্স। Redmi Note 17 Pro-তে ব্যবহার করা হয়েছে Snapdragon 6s Gen 4 চিপসেট।

এখানেই আগের প্রজন্মের তুলনায় প্রশ্ন উঠছে। কারণ আগের মডেলে MediaTek Dimensity 7400-এর মতো তুলনামূলক শক্তিশালী চিপসেট ছিল। সেই জায়গা থেকে নতুন মডেলে আরও দুর্বল চিপসেট ব্যবহার করাটা অনেকের কাছেই ডাউনগ্রেড হিসেবে মনে হতে পারে।

নিয়মিত কাজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ভিডিও দেখা কিংবা মাল্টিটাস্কিংয়ের মতো সাধারণ কাজ ঠিকঠাক সামলাতে পারবে ফোনটি। অ্যাপ ওপেনিং স্পিডও মোটামুটি ভালো।

তবে গেমিংয়ের জন্য ফোনটি কেনার কোনো যুক্তি নেই। হালকা গেম খেলা গেলেও যারা নিয়মিত গেমিং করেন, তাদের জন্য এই ফোন খুব একটা ভালো পছন্দ হবে না।

স্টোরেজেও রয়েছে ভিন্নতা

ফোনটিতে UFS 3.1 স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বেস ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ১২৮GB স্টোরেজ এবং সেখানে UFS 2.2 স্টোরেজ দেওয়া হয়েছে।

ফলে কম দামের বেস ভ্যারিয়েন্ট কিনলে পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে আরও কিছুটা সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।

সফটওয়্যারের দিক থেকে ফোনটি Android 16-এর ওপর HyperOS-এ চলে। ভবিষ্যতে তিন থেকে চারটি বড় Android আপডেট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে যেহেতু এটি চীনা ভ্যারিয়েন্ট, তাই কিছু চীনা ব্লোটওয়্যার থাকার পাশাপাশি নোটিফিকেশন দেরিতে পাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। চীনা ভ্যারিয়েন্টের ফোনে এ ধরনের সমস্যা আগেও দেখা গেছে।

ক্যামেরায় নেই আল্ট্রাওয়াইড

ক্যামেরা বিভাগেও রয়েছে হতাশার জায়গা। ফোনটিতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা এবং একটি সহায়ক সেন্সর। কিন্তু এই দামের ফোনে আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা না থাকাটা বড় ধরনের ঘাটতি।

বর্তমানে ৩০ হাজার টাকার আশপাশের অনেক স্মার্টফোনেও আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা পাওয়া যাচ্ছে। অথচ ৪০ হাজার টাকার বেশি দামের ফোনে সেটি না থাকা বেশ প্রশ্ন তৈরি করে।

প্রধান ক্যামেরায় তোলা ছবির মান অবশ্য ভালো। Redmi-এর কালার টোন অনেকের কাছেই পছন্দ হতে পারে। পোর্ট্রেট মোডেও ভালো ফল পাওয়া যায়। বিশেষ করে ২৬mm ও ৫২mm ফোকাল লেন্থে পোর্ট্রেট তোলার সুবিধা রয়েছে।

ভালো আলোতে ডিজিটাল জুম করলেও ছবিতে অতিরিক্ত সফটনেস বা ডিটেইল লস খুব বেশি চোখে পড়ে না।

তবে ভিডিও রেকর্ডিং সর্বোচ্চ 4K 30fps-এ সীমাবদ্ধ। এই দামের ফোনে আরও ভালো ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা আশা করাই স্বাভাবিক।

৯০০০mAh ব্যাটারি বড় আপগ্রেড

Redmi Note 17 Pro-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর ব্যাটারি। ফোনটিতে রয়েছে বিশাল ৯০০০mAh ব্যাটারি এবং ৬৭ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং।

এ ছাড়া ২২.৫ ওয়াট রিভার্স চার্জিং সাপোর্টও রয়েছে। ফলে ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে ব্যবহারকারীদের খুব একটা চিন্তা করতে হবে না।

তবে এত বড় ব্যাটারি ব্যবহারের কারণে ফোনটির ওজন ও পুরুত্ব কিছুটা বেড়েছে। যারা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, কল করা ও ভিডিও দেখার মতো সাধারণ কাজে ফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য একবার চার্জে দীর্ঘ সময় ব্যাকআপ পাওয়া সম্ভব।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও স্পিকার

ফোনটিতে রয়েছে আন্ডার-ডিসপ্লে অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার। এটি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কাজ করে।

হ্যাপটিক ফিডব্যাকও ভালো। পাশাপাশি ফোনের স্পিকার কোয়ালিটি বেশ সন্তোষজনক। ফোনটি তুলনামূলক মোটা হওয়ায় স্পিকারের হাউজিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া গেছে, ফলে সাউন্ডে ভালো ডেপথ পাওয়া যায়।

নেটওয়ার্ক রিসেপশন ও কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রেও বড় কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি।

তাহলে Redmi Note 17 Pro কি কেনা উচিত?

Redmi Note 17 Pro-এর ডিজাইন সুন্দর, বিল্ড কোয়ালিটি ভালো, ডিসপ্লে চমৎকার এবং ৯০০০mAh ব্যাটারি নিঃসন্দেহে বড় সুবিধা। কিন্তু ফোনটির দাম যদি ৪০ হাজার টাকার বেশি হয়, তাহলে এর দুর্বলতাগুলো উপেক্ষা করা কঠিন।

বিশেষ করে Snapdragon 6s Gen 4 চিপসেট, বেস ভ্যারিয়েন্টে UFS 2.2 স্টোরেজ, আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরার অনুপস্থিতি এবং ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সীমাবদ্ধতা এই দামের ফোন হিসেবে হতাশাজনক।

অন্যদিকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যেই যদি আরও শক্তিশালী প্রসেসর, আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা এবং ভালো অলরাউন্ড স্পেসিফিকেশন পাওয়া যায়, তাহলে Redmi Note 17 Pro কেনার যুক্তি আরও দুর্বল হয়ে যায়।

তাই বর্তমান দামে Redmi Note 17 Pro কেনার আগে অপেক্ষা করা বা বিকল্প ফোন বিবেচনা করাই ভালো। ভবিষ্যতে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে ফোনটি নতুন করে বিবেচনা করা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, Redmi Note 17 Pro দেখতে আকর্ষণীয় এবং ব্যাটারি ও ডিসপ্লের দিক থেকে শক্তিশালী হলেও বর্তমান দামের তুলনায় এর পারফরম্যান্স ও ক্যামেরা প্যাকেজ যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক নয়।

আশা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

ফিফা আসিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ

ফিফা আসিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারত সরে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো ফিফা আসিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। মর্যাদাপূর্ণ ...

বিশ্বকাপের ৯ দল চূড়ান্ত, বাংলাদেশের সামনে বড় সমীকরণ

বিশ্বকাপের ৯ দল চূড়ান্ত, বাংলাদেশের সামনে বড় সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আয়ারল্যান্ডকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৯২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বে ...

ফুটবল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; সান্তোস বনাম ম্যাকারা‌, জানুন ফলাফল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; সান্তোস বনাম ম্যাকারা‌, জানুন ফলাফল

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোপা সুদামেরিকানার শেষ ষোলো’র প্রথম লেগে ম্যাকারাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিলের সান্তোস। ঘরের ...

মেসির অবসরের ইঙ্গিত, বিশ্বকাপের পর বড় প্রশ্ন

মেসির অবসরের ইঙ্গিত, বিশ্বকাপের পর বড় প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তার ...