শুধু মানুষ নয়, প্রাণীরাও সঙ্গীর বাইরে সম্পর্কে জড়ায়!
নিজস্ব প্রতিবেদক: পরকীয়া বলতে সাধারণত বোঝায়, সম্পর্কে থাকা অবস্থায় নিজের সঙ্গীর বাইরে অন্য কারও সঙ্গে প্রেম বা যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া। মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক, নৈতিক ও মানসিক নানা আলোচনা থাকলেও প্রাণীদের মধ্যেও সঙ্গীর বাইরে যৌনসম্পর্কের ঘটনা বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে।
তবে বিজ্ঞানীরা প্রাণীদের এই আচরণকে মানুষের ‘পরকীয়া’ হিসেবে দেখেন না। বরং একে বলা হয় ‘এক্সট্রা-পেয়ার মেটিং’, ‘এক্সট্রা-পেয়ার কপুলেশন’ বা ‘এক্সট্রা-পেয়ার পেটারনিটি’।
গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক প্রাণী সামাজিকভাবে একগামী জুটি হিসেবে বসবাস করলেও প্রজননের ক্ষেত্রে তারা সবসময় একই সঙ্গীর প্রতি একনিষ্ঠ থাকে না। অর্থাৎ একটি পুরুষ ও নারী প্রাণী একসঙ্গে বাসা তৈরি করতে পারে, সন্তান লালন-পালন করতে পারে, কিন্তু প্রজননের ক্ষেত্রে অন্য সঙ্গীর সঙ্গেও মিলিত হতে পারে।
পাখিদের মধ্যে বিষয়টি বেশি দেখা যায়
প্রাণীদের মধ্যে এক্সট্রা-পেয়ার মেটিংয়ের সবচেয়ে বেশি উদাহরণ পাওয়া যায় পাখিদের ক্ষেত্রে। অনেক পাখির প্রজাতি সামাজিকভাবে একগামী। একটি পুরুষ ও একটি নারী পাখি জুটি বেঁধে বাসা তৈরি করে, ডিমে তা দেয় এবং ছানাদের বড় করে।
কিন্তু সামাজিকভাবে একসঙ্গে বসবাস করলেই যে তাদের সব ছানার জৈবিক বাবা একই পুরুষ, এমনটা সবসময় নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক প্রজাতির স্ত্রী পাখি তার সামাজিক সঙ্গীর বাইরে অন্য পুরুষের সঙ্গেও মিলিত হতে পারে। এর ফলে বাসায় এমন ছানার জন্ম হতে পারে, যার জৈবিক বাবা সামাজিক জুটির পুরুষটি নয়। এই ঘটনাকে বলা হয় ‘এক্সট্রা-পেয়ার পেটারনিটি’।
সুপার ফেইরি-রেনের আচরণ চমকপ্রদ
অস্ট্রেলিয়ার সুপার ফেইরি-রেন পাখির মধ্যেও এমন আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরা সামাজিকভাবে জুটি বেঁধে বসবাস করে এবং পুরুষ ও নারী উভয়েই ছানা লালন-পালনে অংশ নেয়।
তবে জেনেটিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাসার অনেক ছানার জৈবিক বাবা সেই সামাজিক জুটির পুরুষ নয়। অর্থাৎ সামাজিক সম্পর্ক ও প্রজনন সম্পর্ক সবসময় একই ব্যক্তির সঙ্গে নাও হতে পারে।
এ ধরনের আচরণে পুরুষ ও নারী উভয় পাখিরই অন্য সঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার ঘটনা দেখা যায়।
ম্যালার্ড হাঁসও ব্যতিক্রম নয়
ম্যালার্ড হাঁসের ক্ষেত্রেও সঙ্গীর বাইরে মিলনের উদাহরণ রয়েছে। এরা জোড়ায় বসবাস করে এবং প্রজনন মৌসুমে পুরুষ ও নারীকে একসঙ্গে দেখা যায়।
তবে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, জুটি থাকা সত্ত্বেও পুরুষ হাঁস অন্য নারী হাঁসের সঙ্গে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বিজ্ঞানীদের কাছে এটি প্রাণীদের প্রজনন কৌশলেরই একটি অংশ।
অর্থাৎ বাইরে থেকে কোনো প্রাণীকে একগামী মনে হলেও তার যৌন আচরণ আরও জটিল হতে পারে।
বানরজাতীয় প্রাণীর মধ্যেও দেখা যায়
শুধু পাখি নয়, প্রাইমেট বা বানরজাতীয় প্রাণীদের মধ্যেও সঙ্গীর বাইরে যৌনসম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
২০১৩ সালে ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বন্য জেলাডা বানরের সঙ্গম আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, একটি বানরের এক হাজারের বেশি সঙ্গমের ঘটনার একটি অংশ ছিল তার সামাজিক সঙ্গীর বাইরে।
গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল, কিছু সঙ্গম এমনভাবে ঘটেছিল যাতে সামাজিক সঙ্গীর নজরে না পড়ে। এতে বোঝা যায়, প্রাণীদের যৌন আচরণের সঙ্গে সামাজিক অবস্থান, প্রতিযোগিতা এবং অন্য প্রাণীর নজর এড়িয়ে চলার বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে।
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যেও সম্পূর্ণ একনিষ্ঠতা বিরল
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রেও সামাজিক একগামিতা ও যৌন একগামিতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
২০২০ সালে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় জোড়ায় বসবাসকারী স্তন্যপায়ী প্রাণীদের আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, সামাজিকভাবে জোড়ায় বসবাস করলেও তাদের মধ্যে সম্পূর্ণ জেনেটিক একগামিতা তুলনামূলকভাবে বিরল।
অর্থাৎ কোনো প্রাণী দীর্ঘদিন একটি সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস করছে এবং একসঙ্গে সন্তান লালন-পালন করছে দেখেই ধরে নেওয়া যায় না যে তার প্রজনন সম্পর্কও সম্পূর্ণ একনিষ্ঠ।
প্রাণীরা কেন সঙ্গীর বাইরে মিলিত হয়?
বিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে একাধিক বিবর্তনগত কারণ থাকতে পারে।
অন্য সঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হলে কোনো প্রাণীর নিজের জিন পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। আবার স্ত্রী প্রাণীর ক্ষেত্রে একাধিক পুরুষের সঙ্গে মিলনের ফলে সন্তানদের জিনগত বৈচিত্র্যও বাড়তে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ভালো জিনগত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী সঙ্গী বেছে নেওয়ার বিষয়টিও ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সব প্রাণীর ক্ষেত্রে একই কারণ কাজ করে না। প্রজাতি, পরিবেশ, সামাজিক কাঠামো, খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং প্রজনন পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই আচরণ পরিবর্তিত হতে পারে।
প্রাণীদের ‘পরকীয়া’ বলা কতটা ঠিক?
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। মানুষের পরকীয়ার সঙ্গে ভালোবাসা, আবেগ, প্রতিশ্রুতি, বিশ্বাস, সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার মতো বিষয় জড়িয়ে থাকে।
প্রাণীদের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা সাধারণত সঙ্গীর বাইরে যৌনসম্পর্ককে মানুষের মতো নৈতিক ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে বিবেচনা করেন না। তাদের আচরণ মূলত প্রজনন, বিবর্তন এবং সামাজিক কাঠামোর আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়।
তাই বিজ্ঞানসম্মতভাবে বলা যায়, অনেক প্রাণীর মধ্যেই সামাজিক জুটির বাইরে যৌনসম্পর্কের প্রবণতা রয়েছে। তবে সেটিকে সরাসরি মানুষের ‘পরকীয়া’ বলার চেয়ে ‘এক্সট্রা-পেয়ার মেটিং’ বলা বেশি সঠিক।
অর্থাৎ, প্রাণীর জগতে সঙ্গী বদল বা সঙ্গীর বাইরে মিলনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে এর পেছনের কারণ মানুষের সম্পর্কের মতো আবেগনির্ভর নয়, বরং বিবর্তন ও প্রজনন কৌশলের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীদের খাওয়া ও করণীয় নিয়ে ইসলামি নির্দশনা
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২২ ক্যারেট এক ভরি কত
- আজ দেশের বাজারে ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- ১২ আগস্ট দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি
- ইন্টার মায়ামি বনাম লিওন: লাইভ যেভাবে দেখবেন
- সূর্যগ্রহণ লাইভ দেখুন এখানে
- একাদশে ভর্তি ফি কত, কোন কলেজে খরচ কেমন? জেনে নিন
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১২ আগস্ট ২০২৬
- বাজেট থেকে ফোল্ডেবল, ২০২৬-এর সেরা ৫ Motorola ফোন
- Redmi 17 5G উন্মোচন, ৭৫০০mAh ব্যাটারি ও 5G সুবিধা
- আলোচনায় Yamaha XSR 155, কী আছে নতুন এই বাইকে
- Redmi Note 17 রিভিউ: ব্যাটারিতে দুর্দান্ত, পারফরম্যান্সে পিছিয়ে
- বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, টানা ৫ দিন ভারী বৃষ্টির আভাস
- ২০২৭ সালে কবে শুরু হবে রোজা, জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ
- ১২ আগস্ট বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব অঞ্চল থেকে
