১ দিন ছুটি নিলে ৪ দিন বন্ধ; জানুন আসল নিয়ম
নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, আগামী ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। একই ধরনের দাবি করা হচ্ছে আগামী ২৬ আগস্টের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ছুটি নিয়েও। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলছে, এই প্রচারণা পুরোপুরি সঠিক নয় এবং এতে বড় ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি ছুটি বিধিমালার নিয়ম অনুসারে দুই ছুটির মাঝখানে কর্মদিবসে ‘অর্জিত ছুটি’ (Earned Leave) নিলে শুধু ওই এক দিনের ছুটিই গণনা হয় না। এর সঙ্গে সংযুক্ত ছুটির আগের বা পরের অংশের নির্দিষ্ট সময়ও কর্মচারীর অর্জিত ছুটির হিসাব থেকে কেটে নেওয়া হতে পারে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যে বলা হচ্ছে, ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি। এরপর ৬ আগস্ট এক দিনের ছুটি নিলে ৭ ও ৮ আগস্টের সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা চার দিনের অবকাশ মিলবে। একইভাবে ২৬ আগস্টের সরকারি ছুটির পর ২৭ আগস্ট এক দিনের ছুটি নিলেও চার দিনের ছুটি পাওয়া যাবে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (বিএসআর) অনুযায়ী বিষয়টি এতটা সহজ নয়। যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী দুই ছুটির মাঝখানে অর্জিত ছুটি নেন, তাহলে সংযুক্ত সরকারি বা সাপ্তাহিক ছুটির একটি অংশও তার অর্জিত ছুটির হিসাবের সঙ্গে যোগ হয়ে যেতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে কর্মকর্তারা জানান, ৫ আগস্ট সাধারণ ছুটি, ৬ আগস্ট কর্মদিবস এবং ৭ ও ৮ আগস্ট সাপ্তাহিক ছুটি। এ অবস্থায় ৬ আগস্ট অর্জিত ছুটি নিলে শুধু ওই এক দিনের ছুটি নয়, বিধি অনুযায়ী ৫ আগস্ট অথবা ৭-৮ আগস্টের সংযুক্ত ছুটির একটি অংশও অর্জিত ছুটির হিসাব থেকে কাটা হতে পারে। ফলে বাইরে থেকে চার দিনের টানা ছুটি মনে হলেও বাস্তবে কর্মচারীর ছুটির হিসাব থেকে একাধিক দিন কমে যেতে পারে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তফা জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তব নিয়ম তেমন নয়। দুই ছুটির মাঝখানে অর্জিত ছুটি নিলে সংযুক্ত ছুটির একটি অংশও অর্জিত ছুটির হিসাবেই গণ্য হবে।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেকেই মনে করেন এক দিনের ছুটি নিয়ে চার দিনের অবকাশ পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে এতে কর্মচারীর অর্জিত ছুটির হিসাব থেকে অতিরিক্ত দিন কেটে যেতে পারে। তাই এটি লাভজনক নাও হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মাঝখানের কর্মদিবসে ছুটি নেওয়া সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। দাপ্তরিক কার্যক্রম সচল রাখতে সব আবেদন অনুমোদন করা হয় না। এ কারণেই বাস্তবে খুব কম সংখ্যক সরকারি কর্মচারী এভাবে ছুটি নিয়ে থাকেন।
সোহাগ/
