যে কারনে দুই ঘণ্টা আগে ১১ দলের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত
শেষ মুহূর্তে ১১ দলের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত: আসন সমঝোতায় নাটকীয় মোড়
নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) যে চূড়ান্ত ঘোষণার কথা ছিল, তা আকস্মিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ১১ দলের এই যৌথ সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র দুই ঘণ্টা আগে তা বাতিল করা হয়।
স্থগিতের ঘোষণা
দুপুর সোয়া ২টার দিকে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় জানান, 'অনিবার্য কারণবশত' নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে সোমবার জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছিলেন যে, মঙ্গল বা বুধবারের মধ্যেই জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও কারণ
সূত্রমতে, শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত ঐক্য না হওয়াতেই এই বিপত্তি। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং খেলাফত মজলিস জোটে থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো দোলাচল কাটেনি। আজ দুপুরে এই দুই দল তাদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে বৈঠক করেছে। জামায়াত নেতারা দূরত্বের বিষয়টি অস্বীকার করে 'বৃহত্তর ঐক্যের' কথা বললেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আসন নিয়ে জটিলতা
জোটের ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী নিজে ১৮০ থেকে ১৯০টি আসন হাতে রেখে বাকিগুলো অন্য দলগুলোকে ছেড়ে দিতে চায়। তবে জোটের শুরুতে থাকা ৮টি দলের সঙ্গে পরে যুক্ত হওয়া এনসিপিসহ ৪টি দলের আসন ভাগাভাগি নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই মনোমালিন্য চলছিল।
ভবিষ্যৎ কী
গত সেপ্টেম্বর থেকে ৫ দফা দাবিতে রাজপথে সক্রিয় এই জোটের ঐক্য এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। ১৮০-১৯০ আসনের দাবিতে জামায়াত অনড় থাকলে বাকি শরিকরা কতটুকু সন্তুষ্ট হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। জোটের নেতারা আশা করছেন, খুব দ্রুতই এই জট খুলে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।
সোহাগ/
