স্টোকের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব শারীরিক সমস্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক: হৃদরোগ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলেও, সঠিক জীবনযাপন ও চিকিৎসা দ্বারা এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সাধারণত, হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীগুলো (করোনারি ধমনী) চর্বি বা প্লাক জমে সরু বা বন্ধ হয়ে গেলে এই রোগ দেখা দেয়। এই অবস্থাকে 'এথেরোস্ক্লেরোসিস' বলা হয়, যা বুকে ব্যথা, হার্ট অ্যাটাক এমনকি হার্ট ফেইলিওরেরও কারণ হতে পারে।
শরীরের এমন কিছু সমস্যা রয়েছে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। নিচে সেই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো তুলে ধরা হলো:
১. উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure)
উচ্চ রক্তচাপ হৃদপিণ্ড ও ধমনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে, যার ফলে ধমনীর দেয়াল দুর্বল হয়ে যায় এবং চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ে।
* ঝুঁকি: উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসা না করা হলে তা সরাসরি হৃদরোগের কারণ হতে পারে (সূত্র: PubMed Central)।
* প্রতিরোধ: নিয়মিত ফলো-আপ, পর্যাপ্ত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
২. উচ্চ কোলেস্টেরল (High Cholesterol)
শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বেড়ে গেলে তা ধমনীর ভেতরে প্লাক তৈরি করে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
* ঝুঁকি: গবেষণায় প্রমাণিত, মোট কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করোনারি হৃদরোগের (CHD) অন্যতম শক্তিশালী ঝুঁকি।
* প্রতিরোধ: ফল, শাকসবজি এবং গোটা শস্যের পরিমাণ বাড়িয়ে ক্ষতিকর চর্বি বা কোলেস্টেরল কমানো সম্ভব।
৩. ডায়াবেটিস (Diabetes)
রক্তে শর্করার অতিরিক্ত মাত্রা রক্তনালী ও স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা হ্রাস করে।
* ঝুঁকি: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনারি আর্টারি ডিজিজ (CAD) ডায়াবেটিস রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী জটিলতার মধ্যে অন্যতম।
* প্রতিরোধ: সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওষুধের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কমে আসে।
৪. ধূমপান (Smoking)
ধূমপান ধমনীর ভেতরের আস্তরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শরীরে রক্ত প্রবাহ ও অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, ফলে হৃদপিণ্ডের উপর চাপ বাড়ে।
* ঝুঁকি: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের গবেষণা অনুযায়ী, ধূমপান করোনারি ধমনী রোগের (CAD) একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ।
* প্রতিরোধ: ধূমপান পুরোপুরি পরিহার করাই হলো হৃদযন্ত্রের সুরক্ষার প্রাথমিক ধাপ।
৫. স্থূলতা (Obesity)
শরীরে অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে পেটের অংশে মেদ জমার কারণে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
* প্রতিরোধ: নিয়মিত ব্যায়াম এবং সচেতন খাদ্যাভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদযন্ত্রের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।
৬. শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা (Physical Inactivity)
অলস জীবনযাপনও হৃদরোগের একটি বড় ঝুঁকি। শারীরিক কার্যকলাপের অভাব হৃদযন্ত্রকে দুর্বল করে তোলে।
* প্রতিরোধ: দিনে অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রমমূলক অভ্যাস গড়ে তুললে হৃদপিণ্ড শক্তিশালী হয় ও রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
একটি সুস্থ হৃদপিণ্ডের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান পরিহার, এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো সমস্যাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই হলো দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আবারও মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন-আর্জেন্টিনা, তারিখ নিয়ে যা জানা গেলো
- আবারও স্পেন-আর্জেন্টিনা মহারণ! কবে কখন শুরু
- এসএসসি ফল প্রকাশে নতুন সিদ্ধান্ত, যা জানাল বোর্ড
- নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে: অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ২৩ জুলাই ২০২৬
- খুলনায় রান্নার সময় সবুজ হয়ে গেল গরুর মাংস, ঘটনায় চাঞ্চল্য
- ইউরো-কোপা আমেরিকায়; কবে বসছে ফুটবলের পরবর্তী বড় আসর
- এসএসসির ফল প্রকাশ জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে, ফল দেখুন ‘একক্লিকে’
- কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিনকে বেধড়ক পেটাল প্রবাসী যুবকেরা
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ২২ জুলাই ২০২৬
- জামায়াত এমপির বিয়ে নিয়ে সব গোপন তথ্য ফাঁস করলেন কাজী
- বিশ্বকাপের সেরা একাদশ ঘোষণা করল ফিফা
- জেন-জি আন্দোলনের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিজয়
- আবারও বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম, ভরিতে কত হলো
- টটেনহ্যাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত রোমেরোর, নতুন গন্তব্য কোথায়
