| ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

অনলাইনে খতিয়ান পাওয়া যাচ্ছে না, কী কারণে এমন হতে পারে

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৯:৪০:৪০
অনলাইনে খতিয়ান পাওয়া যাচ্ছে না, কী কারণে এমন হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জমির খতিয়ান অনলাইনে খুঁজতে গিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। সঠিক খতিয়ান নম্বর দেওয়ার পরও কোনো তথ্য আসে না, আবার কখনো মালিকের নাম বা দাগ নম্বর দিয়েও পাওয়া যায় না কাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। এতে জমির মালিকদের মধ্যে তৈরি হয় দুশ্চিন্তা। তবে অনলাইনে খতিয়ান না পাওয়া মানেই জমির কোনো রেকর্ড নেই, এমন নয়। ভুল তথ্য নির্বাচন, জরিপের ধরন না মেলা, পুরোনো রেকর্ড ডিজিটাল ডেটাবেজে যুক্ত না হওয়া কিংবা সাময়িক কারিগরি সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারের ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়। কিন্তু অনুসন্ধানের সময় কিছু তথ্য ঠিকভাবে নির্বাচন না করলে রেকর্ড পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই খতিয়ান না পেলে প্রথমেই কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি।

১. মৌজার নাম বা জেএল নম্বরে ভুল থাকতে পারে

অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে মৌজার তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই নামের একাধিক মৌজা থাকতে পারে। আবার স্থানীয়ভাবে পরিচিত নামের সঙ্গে সরকারি রেকর্ডে থাকা নামের পার্থক্যও থাকতে পারে।

এ ছাড়া মৌজার জেএল নম্বর ভুল নির্বাচন করলেও কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান পাওয়া যাবে না। তাই জমির দলিল, পুরোনো পর্চা বা সংশ্লিষ্ট নথি দেখে মৌজার নাম ও জেএল নম্বর মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

২. ভুল জরিপের খতিয়ান নির্বাচন করেছেন কি না

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে সিএস (CS), এসএ (SA), আরএস (RS), বিএস বা বিএআরএসসহ বিভিন্ন ধরনের খতিয়ান তৈরি হয়েছে।

আপনি যদি আরএস খতিয়ান খুঁজতে গিয়ে বিএস নির্বাচন করেন, তাহলে অনুসন্ধানে কাঙ্ক্ষিত তথ্য নাও আসতে পারে। একইভাবে পুরোনো জরিপের খতিয়ান নতুন জরিপের অপশনে খুঁজলেও ফলাফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

এ কারণে অনুসন্ধানের আগে জমিটি কোন জরিপের খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। প্রয়োজনে একাধিক জরিপের ধরন নির্বাচন করে অনুসন্ধান করতে পারেন।

৩. পুরোনো খতিয়ানের তথ্য এখনো ডিজিটাল ডেটাবেজে যুক্ত হয়নি

সব এলাকার সব পুরোনো ভূমি রেকর্ড অনলাইনে পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কোনো কোনো এলাকার পুরোনো খতিয়ানের তথ্য ডিজিটাল ডেটাবেজে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত না হয়ে থাকতে পারে। আবার তথ্য সংযোজন বা হালনাগাদের কাজ চলমান থাকলেও অনুসন্ধানে রেকর্ড নাও আসতে পারে।

এ ধরনের ক্ষেত্রে অনলাইনে তথ্য না পেলেও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা জেলা প্রশাসনের রেকর্ড রুমে খোঁজ নিতে হবে।

৪. সার্ভে খতিয়ান ও নামজারি খতিয়ান গুলিয়ে ফেলছেন কি না

অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধানের সময় আরেকটি সাধারণ ভুল হলো সার্ভে খতিয়ান ও নামজারি খতিয়ানকে একই মনে করা।

সার্ভে খতিয়ান তৈরি হয় ভূমি জরিপের ভিত্তিতে। অন্যদিকে, জমি কেনা, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে মালিকানা পরিবর্তনের পর নামজারির মাধ্যমে রেকর্ড হালনাগাদ করা হয়।

আপনি যদি নামজারির পর তৈরি হওয়া খতিয়ান খুঁজতে চান, তাহলে শুধু সার্ভে খতিয়ানের তথ্য অনুসন্ধান না করে নামজারি খতিয়ানের অপশনেও খোঁজ নিতে হবে।

৫. মালিকের নাম বা খতিয়ান নম্বরে অমিল থাকতে পারে

অনেক সময় পুরোনো দলিল বা পর্চায় থাকা নামের বানানের সঙ্গে অনলাইন রেকর্ডের বানান পুরোপুরি মেলে না। কারও নামের আগে-পরে অতিরিক্ত শব্দ, পিতার নামের পার্থক্য কিংবা বাংলা ও ইংরেজি বানানের ভিন্নতার কারণেও অনুসন্ধানে সমস্যা হতে পারে।

তাই শুধু মালিকের নাম দিয়ে খুঁজে না পেলে খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করুন। একই সঙ্গে জমির অবস্থান, মৌজা ও জরিপের ধরন সঠিক আছে কি না যাচাই করুন।

৬. ওয়েবসাইটে সাময়িক কারিগরি সমস্যা থাকতে পারে

অনেক ব্যবহারকারী একই সময়ে সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করলে অথবা সার্ভার ও নেটওয়ার্কে সাময়িক সমস্যা হলে ওয়েবসাইট ধীরগতির হতে পারে। কখনো অনুসন্ধানের ফলাফল দেখাতেও সমস্যা হয়।

এমন হলে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে অন্য ব্রাউজার বা ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে দেখুন। তবে বারবার চেষ্টা করেও সমস্যা থাকলে সরকারি কারিগরি সহায়তা নেওয়া ভালো।

অনলাইনে খতিয়ান না পেলে যা করবেন

খতিয়ান খুঁজে না পেলে একবারে হতাশ না হয়ে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

১. সরকারি ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টালে প্রবেশ করুন।

২. জমির বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার তথ্য সঠিকভাবে নির্বাচন করুন।

৩. মৌজার জেএল নম্বর মিলিয়ে নিন।

৪. জমির উপযুক্ত জরিপের ধরন নির্বাচন করুন।

৫. খতিয়ান নম্বর জানা থাকলে সেটি দিয়ে অনুসন্ধান করুন। না জানা থাকলে দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে খোঁজ করুন।

৬. নামজারির পর তৈরি হওয়া খতিয়ান খুঁজলে নামজারি খতিয়ানের অপশন ব্যবহার করুন।

৭. এরপরও রেকর্ড না পেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস বা জেলা প্রশাসনের রেকর্ড রুমে যোগাযোগ করুন।

অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধানের সরকারি ওয়েবসাইট: https://dlrms.land.gov.bd/

খতিয়ান না পাওয়া গেলে কোথায় যোগাযোগ করবেন?

অনলাইনে অনুসন্ধানের পরও কাঙ্ক্ষিত রেকর্ড না পেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। পুরোনো জরিপের খতিয়ান বা রেকর্ডের সত্যায়িত কপি প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুমে খোঁজ নিতে হবে।

এ ছাড়া ভূমিসেবা সংক্রান্ত তথ্য ও কারিগরি সহায়তার জন্য সরকারি হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। অনলাইন অভিযোগ ও কারিগরি সহায়তার জন্য রয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত পোর্টাল।

অনলাইনে খতিয়ান না পাওয়া মানেই কি জমির রেকর্ড নেই?

না। অনলাইনে অনুসন্ধানে খতিয়ান না পাওয়া এবং সরকারি রেকর্ডে খতিয়ান না থাকা এক বিষয় নয়। কোনো রেকর্ড এখনো ডিজিটাল ডেটাবেজে যুক্ত না হওয়া, ভুল মৌজা নির্বাচন কিংবা জরিপের ধরন না মেলার কারণেও তথ্য পাওয়া যায় না।

তাই অনলাইনে খতিয়ান না পেলে জমির মালিকানা নিয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে মূল দলিল, আগের খতিয়ান, নামজারি নথি ও ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলাসহ সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যাচাই করুন। মনে রাখতে হবে, খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমি রেকর্ড হলেও শুধু খতিয়ানের ভিত্তিতে সব ক্ষেত্রে জমির চূড়ান্ত মালিকানা নিশ্চিত হয় না।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টস হেরেছে বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক ...

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছেন ...

ফুটবল

একটু পর শুরু বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচ, লাইভ দেখুন এখানে

একটু পর শুরু বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচ, লাইভ দেখুন এখানে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর স্বপ্ন নিয়ে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের অভিযান ...

রাত ৮টায় বাংলাদেশ-ভুটান লড়াই, সরাসরি দেখবেন যেভাবে

রাত ৮টায় বাংলাদেশ-ভুটান লড়াই, সরাসরি দেখবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ২৩ বছর পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ঘরের মাঠে অভিযান ...