| ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

মুসলিম আইনে নারীর সম্পত্তির অধিকার, মেয়ে-স্ত্রী-মা কে কত পান?

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৮:১২:০১
মুসলিম আইনে নারীর সম্পত্তির অধিকার, মেয়ে-স্ত্রী-মা কে কত পান?

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নারীও সম্পত্তির নির্ধারিত অংশ পাওয়ার অধিকারী। মেয়ে, স্ত্রী ও মা হিসেবে নারীর জন্য আলাদা অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কে কতটুকু সম্পত্তি পাবেন, তা নির্ভর করে মৃত ব্যক্তির জীবিত উত্তরাধিকারী এবং পারিবারিক সম্পর্কের ওপর।

বাংলাদেশে উত্তরাধিকার সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের অন্যতম কারণ হলো ওয়ারিশদের প্রাপ্য অংশ সম্পর্কে অসচেতনতা। বিশেষ করে অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা বাবার সম্পত্তি থেকে নিজেদের অংশ বুঝে পান না। আবার স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী কিংবা সন্তানের মৃত্যুর পর মা কতটুকু সম্পত্তি পাবেন, তা নিয়েও অনেকের মধ্যে অস্পষ্টতা রয়েছে।

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, নারী শুধু কন্যা হিসেবেই নয়, স্ত্রী ও মা হিসেবেও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারেন। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বোন, দাদি ও নানিও উত্তরাধিকার পান।

বাবার সম্পত্তিতে মেয়ে কত অংশ পান?

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ছেলে ও মেয়ে একসঙ্গে উত্তরাধিকারী হলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী একজন ছেলে একজন মেয়ের দ্বিগুণ অংশ পান।

অর্থাৎ, বাবার সম্পত্তিতে এক ছেলে ও এক মেয়ে থাকলে এবং অন্য কোনো উত্তরাধিকারী না থাকলে ছেলে পাবেন দুই ভাগ এবং মেয়ে পাবেন এক ভাগ।

আবার, মৃত ব্যক্তির কোনো ছেলে না থাকলে শুধু একজন মেয়ে থাকলে তিনি নির্ধারিত শর্তে মোট সম্পত্তির অর্ধেক পাবেন। দুই বা ততোধিক মেয়ে থাকলে তারা সম্মিলিতভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সম্পত্তির অধিকারী হন। তবে অন্য উত্তরাধিকারীদের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত বণ্টনের হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।

স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রী কতটুকু পান?

স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীও মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সম্পত্তির নির্ধারিত অংশ পান।

স্বামীর কোনো সন্তান বা প্রযোজ্য বংশধর না থাকলে স্ত্রী পান এক-চতুর্থাংশ।

স্বামীর সন্তান বা প্রযোজ্য বংশধর থাকলে স্ত্রী পান এক-অষ্টমাংশ।

স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকলে এই নির্ধারিত অংশ তাঁদের মধ্যে সম্মিলিতভাবে ভাগ হয়। বাকি সম্পত্তি অন্য যোগ্য উত্তরাধিকারীদের মধ্যে প্রযোজ্য নিয়মে বণ্টিত হয়।

সন্তানের সম্পত্তিতে মা কত অংশ পান?

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সন্তানের মৃত্যুর পর মাও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন।

সাধারণভাবে, মৃত ব্যক্তির সন্তান বা প্রযোজ্য বংশধর থাকলে মা মোট সম্পত্তির এক-ষষ্ঠাংশ পান। আবার মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাইবোন থাকলেও মায়ের অংশ এক-ষষ্ঠাংশ হতে পারে।

অন্যদিকে, মৃত ব্যক্তির সন্তান বা প্রযোজ্য বংশধর না থাকলে এবং একাধিক ভাইবোন না থাকলে মা সাধারণত এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি পান। তবে স্বামী বা স্ত্রী এবং বাবার উপস্থিতির মতো কিছু পরিস্থিতিতে হিসাব আলাদা হতে পারে।

দেনমোহর স্ত্রীর নিজস্ব অধিকার

বিয়ের সময় নির্ধারিত দেনমোহর স্ত্রীর নিজস্ব পাওনা। এটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নয়, বরং স্বামীর ওপর থাকা একটি আর্থিক দায়।

স্বামী জীবদ্দশায় দেনমোহর পরিশোধ না করলে স্ত্রী তা আদায়ের দাবি করতে পারেন। স্বামীর মৃত্যুর পরও অপরিশোধিত দেনমোহর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তির ওপর দায় হিসেবে বিবেচিত হয়। উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের আগে বৈধ দেনা ও অপরিশোধিত দেনমোহর পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়।

স্ত্রী কি ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী?

মুসলিম পারিবারিক আইনে স্ত্রীর ভরণপোষণের অধিকার রয়েছে। তবে কখন, কী পরিমাণ এবং কোন পরিস্থিতিতে এই অধিকার কার্যকর হবে, তা বিবাহের অবস্থা, বিচ্ছেদ, প্রযোজ্য আইন ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।

দেনমোহর ও ভরণপোষণ দুটি আলাদা অধিকার। একটি পাওনা থাকলে অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না।

নারীরা কেন উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন?

আইনে সম্পত্তির অংশ নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে অনেক নারী তাঁদের প্রাপ্য সম্পত্তি পান না। এর পেছনে পারিবারিক চাপ, সামাজিক রীতিনীতি, আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং সম্পত্তির কাগজপত্র সম্পর্কে ধারণার অভাব কাজ করতে পারে।

কিছু পরিবারে মেয়েদের বিয়ের সময় উপহার বা অর্থ দেওয়াকে বাবার সম্পত্তির অংশ হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু বিয়েতে উপহার দেওয়া বা সামাজিকভাবে কিছু বুঝিয়ে দেওয়া মানেই উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী তাঁর প্রাপ্য অংশ পরিশোধ হয়ে গেছে, এমন নয়।

কোনো নারী স্বেচ্ছায় বৈধভাবে নিজের অংশ হস্তান্তর বা ছেড়ে না দিলে শুধু পারিবারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তাঁকে উত্তরাধিকার থেকে বাদ দেওয়া যায় না।

উত্তরাধিকার সম্পত্তির ভাগ বুঝে নিতে কী করবেন?

কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তি বণ্টনের আগে সব বৈধ উত্তরাধিকারী শনাক্ত করা জরুরি। এরপর প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী প্রত্যেকের অংশ নির্ধারণ করতে হয়।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন:

১. মৃত ব্যক্তির সব বৈধ উত্তরাধিকারীর তালিকা তৈরি করতে হবে।

২. জমি, বাড়ি, ব্যাংক হিসাবসহ রেখে যাওয়া সম্পত্তির বিবরণ সংগ্রহ করতে হবে।

৩. দাফন-কাফনের যুক্তিসংগত খরচ, ঋণ ও অপরিশোধিত দেনমোহরের মতো দায় পরিশোধের বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে উত্তরাধিকার সনদ সংগ্রহ করতে হবে।

৫. জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশদের প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী নামজারি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভূমি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে নিজের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে।

নারীর সম্পত্তির অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নারীকে সম্পত্তির অধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু আইন থাকলেই অধিকার নিশ্চিত হয় না, পরিবারের সদস্যদের সচেতনতা এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টনও জরুরি।

মেয়ে, স্ত্রী কিংবা মা হিসেবে কে কতটুকু সম্পত্তি পাবেন, তা নির্ধারণের সময় সব উত্তরাধিকারীর তথ্য বিবেচনা করতে হবে। কারণ উত্তরাধিকার বণ্টনের হিসাব প্রত্যেক পরিবারের ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। তাই অনুমানের ভিত্তিতে সম্পত্তি ভাগ না করে সঠিক নিয়মে হিসাব করে প্রত্যেকের প্রাপ্য অংশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টস হেরেছে বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক ...

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছেন ...

ফুটবল

বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচ; কখন ও কোথায় দেখবেন

বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচ; কখন ও কোথায় দেখবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের ...

রাত ৮টায় বাংলাদেশ-ভুটান লড়াই, সরাসরি দেখবেন যেভাবে

রাত ৮টায় বাংলাদেশ-ভুটান লড়াই, সরাসরি দেখবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ২৩ বছর পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ঘরের মাঠে অভিযান ...