কিলোমিটার হিসাবেই নির্ধারণ হবে ই-রিকশার ভাড়া, কিলোমিটার কত
নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার ভাড়া নির্ধারণে নতুন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে কিলোমিটার হিসাব করে ই-রিকশার ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। তবে প্রতি কিলোমিটারে কত টাকা ভাড়া দিতে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ই-রিকশার মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে এ ভাড়া নির্ধারণ করবেন।
গত রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশা চলাচলের বিধিমালা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
কিলোমিটার অনুযায়ী কীভাবে নির্ধারণ হবে ই-রিকশার ভাড়া?
প্রতিমন্ত্রী জানান, নিবন্ধন কার্যক্রমের পর ই-রিকশার ভাড়া নির্ধারণে মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন একসঙ্গে আলোচনা করবে। যাত্রীদের সামর্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।
অর্থাৎ, ই-রিকশার ভাড়া নির্ধারণে শুধু চালক বা মালিকের সিদ্ধান্ত নয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণও থাকবে। তবে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়ার নির্দিষ্ট হার এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
প্রথমে ১৩ সিটি করপোরেশনে কার্যকর হবে বিধিমালা
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন বিধিমালা আপাতত দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় কার্যকর করা হবে। এসব এলাকায় পর্যায়ক্রমে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে।
অন্যদিকে, পৌরসভা এলাকায় ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে। আইন সংশোধনের পর ওই এলাকাগুলোর জন্যও প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।
ই-রিকশা নিবন্ধনে আর আইনগত বাধা নেই
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯’-এর ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনের ১২০ ধারায় ই-রিকশা নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে। জাতীয় সংসদে আইন পাসের পর এর আলোকে বিধিমালা তৈরি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে বিধিমালাটি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে।
ফলে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আর আইনগত বাধা নেই বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব যানবাহনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থাপনা ছিল না। নতুন আইনের মাধ্যমে ই-রিকশাকে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সব যানবাহনকে নিয়মের মধ্যে আনতে কিছুটা সময় লাগবে।
দুই ও চার যাত্রীর ই-রিকশার নিবন্ধন ফি কত?
নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার যাত্রী ধারণক্ষমতা অনুযায়ী নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফি হবে:
| ই-রিকশার ধরন | নিবন্ধন ফি | এক বছর পর নবায়ন ফি |
|---|---|---|
| দুই যাত্রী ধারণক্ষমতা | ৮,০০০ টাকা | ৪,০০০ টাকা |
| চার যাত্রী ধারণক্ষমতা | ১০,০০০ টাকা | ৫,০০০ টাকা |
নবায়নের আগে ফিটনেস যাচাই করা হবে। বিধিমালা অনুযায়ী, এসব ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে।
ফিটনেস সনদে থাকবে QR কোড
ই-রিকশার ফিটনেস যাচাই ও পরিচয় নিশ্চিত করতে কিউআর কোডযুক্ত সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এই সনদ দেবে। এ জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হবে ১ হাজার টাকা।
কিউআর কোডের মাধ্যমে সনদের তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ থাকলে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত যানবাহন শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।
যাত্রী ও চালকদের জন্য কী পরিবর্তন আসতে পারে?
নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে ই-রিকশার নিবন্ধন, ফিটনেস যাচাই এবং ভাড়া নির্ধারণে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে। এতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নিবন্ধিত যানবাহন শনাক্ত করা এবং চলাচল ব্যবস্থাপনা করাও সহজ হতে পারে।
তবে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া কত হবে, কোন পদ্ধতিতে দূরত্ব মাপা হবে এবং নতুন ভাড়া কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
সব মিলিয়ে, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশাকে নিয়মের আওতায় আনতে নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ এবং কিলোমিটারভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন ১৩টি সিটি করপোরেশনে কার্যক্রম শুরু হলে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত ভাড়ার হার সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
সোহাগ/
