নতুন পে-স্কেলে বেতন বিল ৬ নভেম্বর থেকে, কারা পাবেন
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিলের জন্য নতুন সময়সূচির তথ্য সামনে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন নির্ধারণী হিসাব ১ থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে হিসাবরক্ষণ অফিস অনুমোদন করবে, তাঁরা ৬ নভেম্বর থেকে নতুন বেতনস্কেলে অক্টোবরের বেতন বিল দাখিল করতে পারবেন।
পাশাপাশি জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত অক্টোবর মাসের বেতন বিল জমা দেওয়ার সুযোগের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর অথবা জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা ম্যানুয়ালি পরিশোধ ও সমন্বয়ের ব্যবস্থার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
৬ নভেম্বর থেকে নতুন স্কেলে বেতন বিল দাখিল
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন নির্ধারণী হিসাববিবরণী সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস অনুমোদন করবে, তাঁরা ৬ নভেম্বর থেকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিল করতে পারবেন।
অর্থাৎ, নতুন স্কেলে অক্টোবরের বেতন বিল জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে পে-ফিকেশন বা বেতন নির্ধারণী হিসাবের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বেতন নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন হলেই হবে না, হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদনও নিশ্চিত করতে হবে।
৫ নভেম্বর পর্যন্ত পুরোনো স্কেলে বিল দেওয়ার সুযোগ
প্রকাশিত তথ্যচিত্রে জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিলের সুযোগের কথাও বলা হয়েছে।
যাঁদের নতুন বেতনস্কেলে বেতন নির্ধারণী অনুমোদনের প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে কোন নিয়মে বেতন বিল জমা দিতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।
তাই নিজের বেতন নির্ধারণী হিসাবের অনুমোদনের তারিখ এবং বেতন বিল জমার সময়সীমা যাচাই করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই থেকে বকেয়া বেতন-ভাতা সমন্বয় হবে যেভাবে
নতুন বেতনস্কেল কার্যকরের পর আগের মাসগুলোর প্রাপ্য বেতন-ভাতা হিসাব করে সমন্বয়ের বিষয়টিও সময়সূচিতে উল্লেখ রয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতিভেদে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর অথবা জুলাই থেকে অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা ম্যানুয়ালি পরিশোধ ও সমন্বয় করা যাবে।
বকেয়ার পরিমাণ সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, মূল বেতন, বেতন নির্ধারণীর কার্যকর তারিখ, প্রাপ্য ভাতা এবং আগে পরিশোধ করা অর্থের ওপর বকেয়ার হিসাব নির্ভর করবে।
এ ক্ষেত্রে বকেয়া হিসাব প্রস্তুত, বিল দাখিল, যাচাই ও অনুমোদনের মতো দাপ্তরিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। তাই বকেয়া সমন্বয়ের কথা উল্লেখ থাকলেও নির্দিষ্ট দিনে সবার ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
কারা কোন বিষয়টি যাচাই করবেন?
নতুন বেতনস্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিলের আগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
-
বেতন নির্ধারণীর অনুমোদন: হিসাবরক্ষণ অফিসে পে-ফিকেশন অনুমোদিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
-
বিল জমার সময়: ১ থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে অনুমোদন হলে ৬ নভেম্বর থেকে নতুন স্কেলে বিল দাখিলের সুযোগের কথা বলা হয়েছে।
-
পুরোনো স্কেলের সময়সীমা: জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বিল জমার সুযোগের তথ্য রয়েছে।
-
বকেয়ার হিসাব: জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর নাকি জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বকেয়া প্রাপ্য, তা ব্যক্তিগত হিসাব অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
-
দপ্তরের নির্দেশনা: বিল প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ডিডিও এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
বেতন বিল জমা ও ব্যাংকে টাকা পাওয়া কি একই বিষয়?
না, দুটি আলাদা প্রক্রিয়া। বেতন বিল দাখিলের অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট মাসের বেতন পরিশোধের জন্য বিল জমা দেওয়া। এরপর প্রয়োজনীয় যাচাই, অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ১ নভেম্বরের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ওই দিন নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী অক্টোবরের বেতন এবং জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়া পেয়েছেন। তবে যাঁদের পে-ফিকেশন তখনো অসম্পূর্ণ ছিল, তাঁরা নতুন কাঠামোর সংশোধিত বেতন পাননি।
এ কারণে নতুন সময়সূচির ৬ নভেম্বরের বিষয়টি মূলত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বিল দাখিলের সুযোগ হিসেবে বুঝতে হবে। এটি সবার জন্য নতুন করে বেতন জমার নির্দিষ্ট তারিখ নয়।
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিলের ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণী অনুমোদনের সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১ থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৬ নভেম্বর থেকে নতুন স্কেলে বিল জমা দিতে পারবেন। একই সঙ্গে আগের মাসগুলোর প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা ম্যানুয়ালি সমন্বয়ের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
তবে সময়সূচির তথ্যচিত্রকে চূড়ান্ত সরকারি আদেশ হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস বা অর্থ বিভাগের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।
সোহাগ/
