ইসরায়েলের নির্বাচন ‘চুরি’র অভিযোগ নেতানিয়াহুর, এগিয়ে আরব দল
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনে আরব দলগুলোর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। দলটির দাবি, অনিয়ম ও ভোটারদের প্রভাবিত করার মাধ্যমে নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, প্রাথমিক ফলাফলে আরব দলগুলো ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত আংশিক ফলাফলে দেখা যায়, আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ফলাফল গণনা তখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে লিকুদ পার্টি অভিযোগ করে, আরব দলগুলো ভোটারদের প্রভাবিত করতে অনিয়ম, হুমকি, সহিংসতা ও অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহার করেছে। দলটি এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে অভিযোগ আর প্রমাণ এক বিষয় নয়। নির্বাচনসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।
লিকুদ পার্টির বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ভোটারদের প্রভাবিত করা, ঘুষ, হুমকি, জালিয়াতি এবং ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। দলটি পুলিশ, শিন বেত নিরাপত্তা সংস্থা ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে তদন্ত দাবি করেছে বলে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে।
তবে নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্তকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করার মতো প্রমাণ ওই প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যায় না। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য সাধারণত অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
২৮ অক্টোবর প্রকাশিত আংশিক ফলাফলে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন এবং গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেতে পারে বলে জানানো হয়। আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ছিল ১৯। ফলে কোনো পক্ষের জন্যই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়নি।
এই ফলাফল চূড়ান্ত না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। সরকার গঠনের প্রশ্নে বিভিন্ন দলের মধ্যে জোট আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আরব নাগরিক। দেশটির রাজনীতিতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্বাচনে তাদের প্রভাব বিভিন্ন সময়ে ওঠানামা করেছে।
এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য ১৯টি আসন তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই আসনগুলো সরকার গঠনের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের কেউই প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছাতে পারেনি।
নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকার গঠনের আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নেতানিয়াহুর জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে অন্য দলের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে বিরোধী জোটকেও সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা করতে হবে।
অন্যদিকে, লিকুদ পার্টির তোলা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হলে তার ফলও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য বড় সাফল্য এবং লিকুদ পার্টির ভোট কারচুপির অভিযোগ দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এখন নজর থাকবে চূড়ান্ত ফলাফল, অভিযোগের তদন্ত এবং নতুন সরকার গঠনের আলোচনার দিকে।
সোহাগ/
