| ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সপ্তাহে ৩ দিনের বেশি মাংস খেলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে

স্বাস্থ্য ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ০৯:৩২:২৪
সপ্তাহে ৩ দিনের বেশি মাংস খেলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাংসের ঝোল বাঙালির খাবারের তালিকায় বরাবরই জনপ্রিয়। উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বিশেষ কোনো আয়োজন, মাংস ছাড়া অনেকেরই খাবার যেন অসম্পূর্ণ। তবে স্বাদ ও পুষ্টির জন্য মাংস খাওয়া হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে বা ঘন ঘন মাংস খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বেশি খাওয়ার সঙ্গে কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। তবে মাংসের ধরন, খাওয়ার পরিমাণ, রান্নার পদ্ধতি এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর এসব ঝুঁকি নির্ভর করে। তাই সপ্তাহে তিন দিনের বেশি মাংস খেলেই অসুস্থ হয়ে পড়বেন, এমন ধারণা সঠিক নয়।

সপ্তাহে তিন দিনের বেশি মাংস খেলে কী কী ঝুঁকি বাড়তে পারে?

যুক্তরাজ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিচালিত গবেষণায় মাংস খাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে কয়েকটি রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় বিশেষ করে লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং কিছু ক্ষেত্রে হাঁস-মুরগির মাংস খাওয়ার সঙ্গে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসমস্যার সম্পর্ক উঠে এসেছে।

তবে এসব গবেষণায় পাওয়া সম্পর্ক মানেই মাংস খাওয়ার কারণে সরাসরি রোগগুলো হয়েছে, এমন নয়। জীবনযাপন, শরীরচর্চা, ওজন ও অন্যান্য খাদ্যাভ্যাসও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

১. হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে

গরু ও খাসির মাংসের মতো কিছু লাল মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বিশেষ করে চর্বিযুক্ত মাংস, অতিরিক্ত তেলে রান্না করা মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

২. টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে

বেশি পরিমাণে লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে। তবে এর পেছনে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের অন্যান্য বিষয়ও প্রভাব ফেলতে পারে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পরিমিত খাবার খাওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।

৩. অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়মিত খাওয়া এবং অতিরিক্ত লাল মাংস গ্রহণের সঙ্গে অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে সসেজ, বেকন, হ্যাম এবং সংরক্ষণের জন্য প্রক্রিয়াজাত করা অন্যান্য মাংসের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।

তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এসব খাবারের পরিবর্তে মাছ, ডাল, শিমজাতীয় খাবার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎস রাখা ভালো।

৪. হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে

অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস খেলে কারও কারও পেটে অস্বস্তি, বদহজম বা বুকজ্বালার সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে রাতে বেশি পরিমাণে মাংস খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া মাংস খাওয়ার পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার কম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫. আরও কিছু রোগের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে

কিছু পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় মাংস খাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে নিউমোনিয়া, পিত্তথলির রোগ এবং পরিপাকতন্ত্রের কিছু সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এসব রোগের ক্ষেত্রে মাংস খাওয়াই সরাসরি কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ সব ক্ষেত্রে সমান শক্তিশালী নয়।

তাই গবেষণার ফলাফল ব্যাখ্যা করার সময় মাংসের ধরন, পরিমাণ এবং ব্যক্তির সামগ্রিক স্বাস্থ্য বিবেচনা করা জরুরি।

মাংস খাওয়া কি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে?

না। মাংস প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন বি১২ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের উৎস। সুস্থ থাকতে মাংস পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করতে পারেন:

প্রতিদিনের খাবারে গরু ও খাসির মাংসের পরিমাণ পরিমিত রাখুন।

সসেজ, বেকন ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত মাংস যতটা সম্ভব কম খান।

খাদ্যতালিকায় মাছ, ডিম, ডাল ও অন্যান্য প্রোটিনের উৎস রাখুন।

প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার খান।

অতিরিক্ত তেল ও চর্বি দিয়ে মাংস রান্না করা এড়িয়ে চলুন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

শেষ কথা

সপ্তাহে তিন দিনের বেশি মাংস খেলেই শরীরে রোগ বাসা বাঁধবে, এমন কোনো সর্বজনীন নিয়ম নেই। মাংসের ধরন, পরিমাণ এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে খাদ্যতালিকায় মাছ, ডাল, শাকসবজি ও ফলমূলের পরিমাণ বাড়ানো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

পরিমিত ও সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।

সিদ্দিকা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বাংলাদেশ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল ঘোষণা, নতুন মুখ উইকহ্যাম

বাংলাদেশ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল ঘোষণা, নতুন মুখ উইকহ্যাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল সুপার ক্লাসিকো:জানুন ফলাফল

আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল সুপার ক্লাসিকো:জানুন ফলাফল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথ ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই টানটান উত্তেজনা। তবে ...

ব্রাজিলের দুই ম্যাচের সূচি প্রকাশ, কবে খেলবে জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে

ব্রাজিলের দুই ম্যাচের সূচি প্রকাশ, কবে খেলবে জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ২০২৬ সালের নভেম্বরে জাপান ও সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হওয়ার কথা পাঁচবারের ...