আপনার ফোনেও কি আছে এই ৫ অ্যাপ? সতর্ক থাকুন
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্মার্টফোনে ছবি-ভিডিও উদ্ধার, ফাইল গোছানো কিংবা আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখতে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করেন অনেকেই। তবে অপরিচিত বা ক্ষতিকর অ্যাপ ব্যবহারের কারণে ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংকিংয়ের গোপন তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমনকি প্রতারকেরা এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে আর্থিক প্রতারণার চেষ্টা করতে পারে।
২০২২ সালের ৩ নভেম্বর প্রকাশিত Gadgets Now-এর একটি প্রতিবেদনে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ThreatFabric-এর গবেষণার বরাত দিয়ে পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অ্যাপগুলো ব্যাংকিং লগইন তথ্যসহ সংবেদনশীল তথ্য চুরির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে তালিকাটি পুরোনো। অ্যাপগুলোর বর্তমান অবস্থা বা এখনো সক্রিয়ভাবে ক্ষতিকর কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তাই শুধু নামের ভিত্তিতে কোনো অ্যাপকে বর্তমানে বিপজ্জনক বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
যে ৫টি অ্যাপ নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছিল
১. Recover Audio, Images & Videos
ফোন থেকে হারিয়ে যাওয়া ছবি, অডিও ও ভিডিও উদ্ধার করার কথা বলে এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে। তবে অ্যাপটি কোন প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে এবং কী ধরনের অনুমতি চাইছে, তা যাচাই না করে ইনস্টল করা উচিত নয়।
২. Zetter Authentication
নামটি পরিচয় যাচাই বা অথেনটিকেশন সেবার ধারণা দেয়। কিন্তু শুধু নাম দেখে কোনো অ্যাপকে বিশ্বস্ত মনে করা ঠিক নয়। বিশেষ করে অ্যাপটি অপ্রয়োজনে সংবেদনশীল তথ্য বা অতিরিক্ত অনুমতি চাইলে সতর্ক থাকুন।
৩. File Manager Small, Lite
ফোনের ফাইল ব্যবস্থাপনার জন্য ফাইল ম্যানেজার অ্যাপ বেশ কার্যকর। কিন্তু অপরিচিত উৎস থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ফাইল বা অন্যান্য তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
৪. Codice Fiscale 2022
অ্যাপটির নাম ইতালির কর শনাক্তকরণসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে নির্দিষ্ট কোনো কাজে ব্যবহৃত হয় বলেই অ্যাপটি নিরাপদ, এমন নিশ্চয়তা নেই। ইনস্টল করার আগে ডেভেলপার ও অ্যাপের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করুন।
৫. My Finances Tracker
আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখতে এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আর্থিক তথ্য নিয়ে কাজ করে এমন কোনো অ্যাপে অপ্রয়োজনে ব্যাংকের পাসওয়ার্ড, কার্ডের গোপন তথ্য বা ওটিপি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
সাইবার অপরাধীরা কখনো কখনো পরিচিত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম ও নকশা নকল করে ভুয়া অ্যাপ তৈরি করে। এসব অ্যাপ অননুমোদিত ওয়েবসাইট, সন্দেহজনক লিংক বা অন্য মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।
ব্যবহারকারী ভুয়া অ্যাপে ব্যাংকের ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড বা অন্যান্য গোপন তথ্য লিখলে সেগুলো প্রতারকদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিছু ক্ষতিকর অ্যাপ আবার অপ্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে ডিভাইসের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে।
তবে ফোনে কোনো একটি অ্যাপ ইনস্টল থাকলেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। ঝুঁকি নির্ভর করে অ্যাপটির প্রকৃতি, চাওয়া অনুমতি, ফোনের নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্যের ওপর।
হ্যাঁ, কিছু পরিস্থিতিতে ডেবিট কার্ডের পিন না জেনেও প্রতারকেরা আর্থিক ক্ষতি করতে পারে। যেমন, কার্ডের তথ্য চুরি করে অনলাইনে অননুমোদিত লেনদেনের চেষ্টা করা হতে পারে। কিছু অনলাইন লেনদেনে সব ক্ষেত্রে কার্ডের পিন প্রয়োজন হয় না।
তবে লেনদেনের নিয়ম ব্যাংক, কার্ড নেটওয়ার্ক ও মার্চেন্টের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই কার্ডের নম্বর, মেয়াদ, সিভিভি, ওটিপি, পিন এবং অনলাইন ব্যাংকিংয়ের পাসওয়ার্ড গোপন রাখা জরুরি।
- গুগল প্লে স্টোর বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন।
- অ্যাপের ডেভেলপারের নাম, রিভিউ, ডাউনলোডের তথ্য ও প্রয়োজনীয় অনুমতি যাচাই করুন।
- অপরিচিত অ্যাপকে এসএমএস, Accessibility, নোটিফিকেশন বা অন্য সংবেদনশীল অনুমতি দেওয়ার আগে ভালোভাবে বিবেচনা করুন।
- কোনো অ্যাপ বা ব্যক্তিকে ব্যাংকের পাসওয়ার্ড, পিন, সিভিভি কিংবা ওটিপি দেবেন না।
- ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ নিয়মিত আপডেট রাখুন।
- ব্যাংকের লেনদেনের নোটিফিকেশন চালু রাখুন এবং হিসাব নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
- সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করা থাকলে সেটি সরিয়ে দিন এবং প্রয়োজন হলে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
- অননুমোদিত লেনদেন দেখতে পেলে দ্রুত ব্যাংককে জানান এবং কার্ড বা অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করার ব্যবস্থা নিন।
স্মার্টফোনের অ্যাপ দৈনন্দিন কাজ সহজ করলেও অসতর্ক ব্যবহারে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার আগে তার উৎস ও অনুমতি যাচাই করুন। মনে রাখবেন, সতর্কতা অবলম্বন করাই অনলাইন আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকি কমানোর অন্যতম উপায়।
সোহাগ/
